TMC News: বিজেপি-র বিরুদ্ধে বাম-অতিবামেদের পাশে চান মমতা, ‘আপনার মতো চোর লায়াবিলিটি’, কড়া জবাব শতরূপের
Mamata Banerjee: বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাম, অতিবামকেও পাশে চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কটাক্ষ শুভেন্দু অধিকারী, শতরূপ ঘোষের।

কলকাতা: বিজেপি-কে রুখতে ফের জোটবার্তা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শুধু বাম নয়, অতিবামেদেরও জোটে আহ্বান জানালেন তিনি।বিজেপি বিরোধী যৌথ মঞ্চ গড়ার ডাক দিয়ে বললেন, "আজ যা অবস্থা, বিজেপি-কে রুখতে হলে বামপন্থী, অতিবাম সকলকে তৃণমূল কথা দিচ্ছে....যার যতটুকু শক্তি আছে, জাতীয় স্তরে যেমন লড়াই হবে, রাজ্যেও জোট বাঁধি।" যদিও এ নিয়ে তাঁকে কটাক্ষ করেছেন শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া শুভেন্দু অধিকারী। মমতাকে কটাক্ষ করেছেন সিপিএম-এর শতরূপ ঘোষও। (Mamata Banerjee)
একেবারে কড়া ভাষায় মমতাকে জবাব দিয়েছেন শতরূপ। তাঁর বক্তব্য, "রাজ্য থেকে যখন আমাদের সরকার চলে গেল, সেই সময় রাজ্যে শূন্য ছিল বিজেপি। আমরা বিজেপি-হীন পশ্চিমবঙ্গ থেকে চলে গিয়েছিলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন যাচ্ছেন, বিজেপি-কে সরকারে বসিয়ে দিয়ে গেলেন। তার পরও লজ্জা করে না, আপনার সঙ্গে আমাদের নাকি দাঁড়াতে হবে! আপনি বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়বেন। সত্যিকারের ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের লড়াই হবে বিজেপি-র বিরুদ্ধে। সেই লড়াইয়ে বামপন্থী, গাঁধীবাদী, সব গণতান্ত্রিক মানুষ থাকবেন। কিন্তু আপনার মতো একটা চোরকে সঙ্গে নিয়ে, বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আপনার মতো চোর লায়াবিলিটি। আপনার মতো চেরেদের দেখিয়ে বাংলায় ভোট পায় বিজেপি। ভাইপো আর দলের লোকেরা যে সম্পত্তি কামিয়েছিল, বিজেপি-র সঙ্গে সেটিং করে তা কী করে সেগুলি রক্ষা করবেন, তা ভাবুন।" (TMC News)
এ নিয়ে প্রশ্ন করলে মমতাকে কটাক্ষ করেন শুভেন্দুও। তিনি বলেন, "উনি রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক। কোনও মন্তব্য করব না।"
আরও পড়ুন: কলকাতা পুরসভার গ্রুপ ছাড়লেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, নতুন সরকার শপথ নিতেই সিদ্ধান্ত, হঠাৎ কী হল?
শনিবার ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু। সেই দিন কালীঘাটে নিজের দফতরে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালিত হয়। সেখানেই বৃহত্তর জোটের বার্তা দেন মমতা। বলেন, "আমরা চাই একটা যৌথ মঞ্চ তৈরি হোক, যাতে বিজেপি বিরোধী সব রাজনৈতিক দল, এমনকী আপনারা যদি বলেন বামপন্থী, আমার কোনও ইগো নেই। সবাইকে নিয়ে চলতে চাই। আজ যা অবস্থা বিজেপি-কে রুখতে হলে লেফট, আলট্রা লেফট সকলকে তৃণমূল কথা দিচ্ছে...যার যতটুকু শক্তি আছে, জাতীয় স্তরে যেমন লড়াই হবে, রাজ্যেও জোট বাঁধি। কোনও দল বসতে চাইলে, ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত অফিসে আছি। আমাকে জানাবেন। নিশ্চয়ই কথা বলব।"
মমতা আরও বলেন, "রবীন্দ্রনাথের সামনে দাঁড়িয়ে সকলের কাছে আবেদন, আমি কে, ও কে, শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু ভাবার সময় নয় এটা। রাজনৈতিক ভাবে প্রথম শত্রু বিজেপি। যারা দেশের ভাল চায় না, বাংলার ভাল চায় না। বাইরের গুন্ডা নিয়ে এসে মানুষের উপর অত্যাচার করছে। আমার বাড়ির সামনেও সকালে যা করেছে...মত্ত অবস্থায়। অভিষেকের বাড়ির সামনে ধাক্কা, সারাক্ষণ চলছে। এমনকি ওর বাচ্চারা আছে, সেখানে ধাক্কা মেরে বলছে মেয়েকে বের করে দাও। টিচার পড়াতে গিয়েছে, বলছে কেন ঢুকছেন! আমি বিজেপি বিরোধী সব রাজনৈতিক দল, NGO, যাঁরা সামাজিক কাজ করেন, অনেক নিরপেক্ষ সংস্থা রয়েছে, যাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ নেই। দয়া করে সাড়া দেবেন। ব্যবসায়িকদের স্বার্থ রয়েছে। তারা নিজেদের স্বার্থ দেখবে। তাই যে সরকারে থাকে, নিজেদের স্বার্থেই জড়ায়। তার পর বদনাম করে চলে যায়। আমাদের দরকার নেই ওদের। খেসারত দিতে হয় দলকে। যারা যেতে চায় অনুমতি দিচ্ছি। যাঁরা থাকতে চায়, আহ্বান জানাচ্ছি।"
আরও পড়ুন: শুভেন্দু অধিকারীর শপথে হাজির প্রসেনজিৎ-জিৎ-জিশু, টলিউড থেকে হাজিরা দিলেন আর কারা?
বিজেপি-র জয়ের পর বামপন্থী ছাত্রছাত্রীদের উপর হামলার ঘটনারও উল্লেক করেন এদিন মমতা। তাঁকে বলতে শোনা যায়, "বাংলার যত বিরোধী দল আছে, তৃণমূল থেকে আবেদন জানাচ্ছি, যদি মনে হয় গ্রহণ করবেন, না হলে করবেন না। এটা আপনাদের অধিকার। কিন্তু আবেদন জানাতে তো অসুবিধে নেই! সমস্ত ছাত্র সংগঠন, যারা বিজেপি-র সংগঠনের দ্বারা... SUCI ছেলেদের কলকাতায় কী ভাবে মারা হয়েছে! সমস্ত ছাত্র সংগঠন, NGO, ব্যবসায়ীরা করবে না। কারণ তাদের স্বার্থ আছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ আসবেন। তাঁদের সবাইকে নিয়ে জোট বাঁধুন।" আর তার পরই তাঁকে কড়া জবাব দিলেন শতরূপ।























