Mamata in Supreme Court: নির্বাচন কমিশনকে ‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন’ বলে আক্রমণ, লজিক্যাল ডিসক্রিপেশন নিয়ে মমতার অভিযোগ বৈধতা পেল সুপ্রিম কোর্টে
Mamata Banerjee in Supreme Court: বুধবার SIR মামলায় নিজে সওয়াল করেন মমতা।

নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনকে 'হোয়াটসঅ্য়াপ কমিশন' বলে আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানছে না বলে অভিযোগ তুললেন। ভোটারদের নাম যুক্ত করা নয়, শুধুমাত্র নাম বাদ দিতেই SIR করা হচ্ছে, বেছে বেছে পশ্চিমবঙ্গকে নিশানা করা হচ্ছে বলে জানান আদালতে। (Mamata Banerjee in Supreme Court)
বুধবার SIR মামলায় নিজে সওয়াল করেন মমতা। আইনজীবীদের সঙ্গে একই সারিতে দাঁড়িয়ে মমতা একাধিক অভিযোগ জানান। জানান, নির্বাচন কমিশনকে ছ'-ছ'টি চিঠি লিখলেও, কোনও জবাব পাননি। কমিশন এখন 'হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন' হয়ে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেন। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে ERO এনে নাম বাদ দেওয়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন মমতা। (Mamata in Supreme Court)
SIR শুনানিতে আর চার দিন বাকি। অথচ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় থাকা প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষের এখনও শুনানি হয়নি। এত কম সময়ের মধ্যে কী করে শুনানি সম্ভব হবে, গত কয়েক দিন ধরেই প্রশ্ন উঠছিল। আজ আদালতে ওই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে সরব হন মমতা। ব্যানার্জী বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখার্জী মুখোপাধ্যায় হয়ে গিয়েছে, দত্ত দত্তা হয়ে গিয়েছে, বিয়ের পর মেয়েদের পদবী বদলকেও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
এদিন মমতার সেই অভিযোগ কার্যতই বৈধতা পায় আদালতে। আদালত জানায়, এই ধরনের ভাষাগত সমস্যা হতেই পারে। ইংরেজিতে কোনও নাম যেভাবে লেখা হয়, অন্য ভাষায় অন্য ভাবে লেখা হয়। বানানের হেরফের ঘটলে সেটা ঠিক করতে হবে। জবাবে কমিশন জানায়, পশ্চিমবঙ্গ থেকে দক্ষ অফিসার চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু শুধুমাত্র ৮০ জন ক্লার্ক দেওয়া হয় শুনানিতে। তাই হয়ত এমন সমস্যা হচ্ছে। এর পর আদালত জানায়, রাজ্যকে দক্ষ অফিসার দিতে হবে, গ্রুপ বি-র অফিসার, যাঁরা বাংলা বাষায় দক্ষ, বাংলা বোঝেন। আগামী সোমবার শুনানি, তার আগে তালিকা দিতে হবে রাজ্যকে। পরবর্তীতে সেই মতো নির্দেশ দেবে আদালত। নামের বানান ঠিক করতে তাঁদের ব্যবহার করা হবে।
লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি কেন হয়েছে, কী জন্য হয়েছে, কোথায় ভুল হয়েছে, তা সাধারণ মানুষ কী করে বুঝবেন, প্রশ্ন তোলেন মমতার আইনজীবী। কমিশনকে সব স্পষ্ট ভাবে জানাতে হবে বলে যুক্তি দেন তাঁরা। প্রধান বিচারপতি জানান, ওয়েবসাইটের তালিকাই নয় শুধু, আলাদা করে নোটিস দেওয়া হয়েছে সকলকে। নোটিস প্রত্যাহার করার যুক্তি বাস্তবিক নয়। তবে তাঁদের কী পরামর্শ জানতে চান প্রধান বিচারপতি। এতে মমতার আইনজীবী জানান, সময় কম। বানানের হেরফেরের জন্য যেন কাউকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় না ফেলা হয়। প্রধান বিচারপতিও জানান, এক এক জায়গায় এক এক রকমের উচ্চারণ। তাই বানান সম্পূর্ণ ভুল নয়।
এর পর মমতা বলেন, "আমাকে যদি পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হয়, আমি বলতে পারি। আমি পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছি। তাই বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলতে পারি।" মমতা বলেন, "আমাদের আিনজীবীরা প্রথম থেকে লড়ছেন। সুবিচারের জন্য কাঁদছি আমরা, পাচ্ছি না। ছ'টি চিঠি লিখি কমিশনকে। কোনও জবাব আসেনি।" প্রধান বিচারপতি এতে বলেন, "মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত লোকের নাম ভোটার তালিকায় থাকুক, তা নিশ্চিয়ই চান না? আমাদের উদ্দেশ্য কোনও প্রকৃত ভোটার যেন বাদ না যান।" এতে কিছু ছবি দেখাতে চান মমতা। তিনি জানান, "বিয়ের পর পদবী বদলের জন্য নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করছে কমিশন।" যদিও ছবি দেখানোর অনুমতি দেননি প্রধান বিচারপতি।
৮৩০০ মাইক্রো অবজার্ভার অন্য রাজ্য থেকে, বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে আনা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি বলে অভিযোগ করেন মমতা। কমিশনের আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী জানান, অন্য রাজ্যগুলিতেও এভাবে কাজ হয়। রাজ্য সরকার সহযোগিতা করছে না বলেই অন্য রাজ্য থেকে লোক আনতে হয়েছে। কিন্তু কমিশনের এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেন মমতা। জানান, কমিশনের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে রাজ্য সরকার। যখন যেমন চাওয়া হয়েছে, দেওয়া হয়েছে। জাতি শংসাপত্র, আধার, ডমিসাইল সার্টিফিকেট অন্য রাজ্যে গৃহীত হলেও, বাংলায় করা হচ্ছে না।
শুনানি চলাকালীন আদালত জানায়, আধার কার্ডের নির্দেশটি স্থগিত রয়েছে। সেই নিয়ে কিছু বলবেন না তাঁরা। কারণ আধার যখন তৈরি করা হয়, তার একটি লক্ষ্য ছিল। সেটিকে ভোটার কার্ড তৈরিতে ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত নির্দেশ দেবে। কিন্তু নামের বানান নিয়ে আজ ইঙ্গিতপূর্ণ নির্দেশই দেয় আদালত। বানান জানা দক্ষ লোকের তালিকা দিতে বলা হয়েছে রাজ্যকে। কমিশন তাঁদের নিয়ে কাজ করবে। আদালত কার্যত মেনে নেয় যে নামের বানান এক এক জায়গায় এক এক রকম ভাবে লেখা হতে পারে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত জানান, তাঁর নামও হয়ত অন্য ভাষায় অন্য ভাবে লেখা যায়। আরও একাধিক নামের কথা উঠে আসে যেমন, নামে কুমার থাকা বা না থাকা, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি হতে পারে কি না, প্রশ্ন ওঠে। রাজ্যের তালিকা অনুায়ী পরবর্তী নির্দেশ দেবে আদালত।






















