Mamata Banerjee News: বেনজির হিংসা, নৃশংসতার সাক্ষী নেপাল, উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মমতা, সুকান্তর কটাক্ষ, ‘টেনশনে ঘুম হয় না ওঁর’
Mamata Banerjee on Nepal Situation: সরকার বিরোধী আন্দোলন শুধুমাত্র হিংস্রই হয়ে ওঠেনি নেপালে, সময়ের সঙ্গে তা নৃশংসও হয়ে উঠেছে।

কলকাতা: শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশের পর নেপাল, হিংসার আগুনে জ্বলছে ভারতের আর এক পড়শি দেশ। সীমান্তের এপারেও সেই অশান্তির আঁচ পড়তে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। আর সেই আবহেই গোটা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মুহূর্তে নেপালে যে নৈরাজ্যের পরিস্থিতি, তার তীব্র সমালোচনা করলেন তিনি। যদিও সেই নিয়ে তাঁকে খোঁচা দিয়েছেন বিজেপি-র সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। (Mamata Banerjee News)
সরকার বিরোধী আন্দোলন শুধুমাত্র হিংস্রই হয়ে ওঠেনি নেপালে, সময়ের সঙ্গে তা নৃশংসও হয়ে উঠেছে। জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীকে, রাস্তায় ফেলে মারা হয়েছে মন্ত্রীদের, দেশের সংসদ, সুপ্রিম কোর্টে আগুন ধরানোর ঘটনা সামনে এসেছে। সোশ্য়াল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে যেসব ভিডিও ঘুরছে, তা শিউরে ওঠার মতো। আন্দোলনের নামে যে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়েছে সেখানে, তার পিছনে বহিরাগত অশুভ শক্তির হাতও দেখছেন কেউ কেউ। নৃশংসতার বিরুদ্ধে একে একে মুখ খুলছেন অনেকেই। (Mamata Banerjee on Nepal Situation)
সেই আবহেই পড়শি দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মমতা। বুধবার তাঁকে বলতে শোনা যায়, "ফেসবুক, ট্যুইটার, ইউটিউব দেখবেন। সবটা কিন্তু ঠিক নয়। অনেক ফেক নিউজ, ভেক নিউজ। ছোটদের মাথা গুলিয়ে দেয়। ছোটদের দোষ দিয়ে কী করব? বড়দেরই মাথা গুলিয়ে দেয়। দ্য়াখো, কিন্তু সবটা গ্রহণ কোরো না। কোনটা গ্রহণ করবেন, কোনটা বর্জন করবেন, সেটা জানতে হবে। কিছু লোক আছে, পলিটিক্যাল পার্টির ব্য়ানারে নানা রকম মিথ্যে লেখে, কুৎসা ছড়ায়, অসম্মান ছড়ায়, চক্রান্ত করে, দেশভাগ করে, বাংলাভাগের চক্রান্ত করে। অন্যায়টা অন্যায়ই। সমর্থনের কোনও কারণই নেই। কিন্তু একটা অন্য়ায়ের বদলা নিতে গিয়ে কাউকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারবে! এটা কী রাজনীতি! আমি এই রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করি। যতদিন বাঁচব, মানুষের রাজনীতি করি এবং করব। মাথা উঁচু করে চলব, আমাক স্বপ্ন বাংলা এগিয়ে যাবে। আর অন্য কিছু চাই না। আমি সরকারের কাছ থেকে কোনও টাকা পাই না, নিইও না।"
মমতার এই মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে যদিও কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন সুকান্ত। তাঁর বক্তব্য, "ওঁর টেনশনে ঘুম হয় না হয়ত! কে আবার বাথরুমে ধাক্কা মেরে ফেলে দেবে! বাড়ির মধ্যেও ধাক্কা দেয় ওঁকে। তৃণমূলের অনেক বিধায়কই গণঅভ্যুত্থানের কথা বলেন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। বাসে যেমন পকেটমার ধরা পড়লে, তারই বন্ধুরা চোর চোর বলে মারতে মারতে নিয়ে চলে যায়...।"
সোমবার থেকে এখনও পর্যন্ত নেপালে উত্তেজনা কমার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সেনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে যদিও, কার্ফুও জারি করা হয়েছে, তার পরও বিভিন্ন জায়গা থেকে হিংসা, অশান্তি, অগ্নিসংযোগের খবর সামনে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে মমতাই নন শুধু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও পড়শি দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যত দ্রুত সম্ভব নেপালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক বলে প্রার্থনা করেছেন তিনি। নেপালে বেড়াতে গিয়ে আটকে পড়া ভারতীয় পর্যটকদের নিয়েও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিন সেই নিয়ে মমতা বলেন, "রাজ্য সরকার পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে। যাঁরা বেড়াতে গিয়েছেন, কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন। আমরা আস্তে আস্তে ফিরিয়ে আনব। চিন্তা করবেন না, তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বিপদে পড়বেন না। শান্তি ফিরতে দিন। ওরাও শান্তি ফেরাক। আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্র খুশিই হবে।"
এদিন মমতা জানান, দুর্যোগ, দুর্ভোগ, দুরারোগ, সবেতেই তিনি ছিলেন এবং থাকবেন। কোভিডের সময়ও ছুটি নেননি। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেরিয়েছেন। নেপালের সমস্যার দিকেও নজর রয়েছে তাঁর। উত্তরকন্যা পাহারা দিচ্ছেন। শীঘ্রই শান্তি ফিরবে বলে আশাবাদী তিনি।






















