Nicco Park Accident: নিক্কো পার্কের ওয়াটার রাইডে তরুণের রহস্যমৃত্যু, ময়নাতদন্ত রিপোর্টে প্রকাশ্যে ভয়াবহ মৃত্যুর কারণ!
Kolkata News: স্নান করতে করতে হঠাৎ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন তিনি। বন্ধুরা ধরাধরি করে তাঁকে ডাঙায় নিয়ে এসে শুইয়ে দেয়। দেওয়া হয় সিপিআর। তবে জ্ঞান ফেরে না রাহুলের

কলকাতা: বন্ধুদের সঙ্গে গিয়েছিলেন নিক্কো পার্কে। কিন্ত সেই আনন্দ করতে যাওয়াই যে শেষযাত্রায় পরিণত হবে, তা ভাবতে পারেননি BBA পড়ুয়া রাহুল। বুধবার বন্ধুদের সঙ্গে নিক্কো পার্কে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে গিয়ে নায়েগ্রা ফলস নামের একটি ওয়াটার রাইডে গিয়েছিলেন বন্ধুদের সঙ্গে। সেখানে স্নান করতে করতে হঠাৎ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন তিনি। বন্ধুরা ধরাধরি করে তাঁকে ডাঙায় নিয়ে এসে শুইয়ে দেয়। দেওয়া হয় সিপিআর। তবে জ্ঞান ফেরে না রাহুলের। ১৮ বছর বয়সের এই তরুণকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আর ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে ওই তরুণের পোস্টমর্টম রিপোর্ট।
পোস্টমর্টম রিপোর্টে জানা যাচ্ছে, হৃদযন্ত্র বিকল হয়েই মৃত্যু রাহুল দাসের। মাথার পিছনে হেমাটোমা পাওয়া গিয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। পড়ে যাওয়ার কারণে লাগার সম্ভাবনা, এমনটাই পোস্টমর্টম রিপোর্টে বলা হয়েছে। তরুণের মৃত্যুর রহস্যজনক কোনও কারণ পোস্টমর্টম রিপোর্টে পাওয়া যায়নি। BBA পড়ুয়া রাহুল থাকতেন বাগুইআটিতে। বুধবার দুপুর ১টা ০৯ নাগাদ সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় এত তরুণকে পাঁজাকোলা করে ডাঙায় তুলে আনছে বন্ধুরা। CPR দিতে শুরু করেন এক তরুণী। কিছুক্ষণ পর হুইল চেয়ার নিয়ে দৌড়ে এলেন এক কর্মী। পরে অ্যামবুল্য়ান্সে করে সংজ্ঞাহীন যুবককে নিয়ে যাওয়া হয় দ্য় ক্য়ালকাটা হার্ট ক্লিনিকে। কিন্তু, ততক্ষণে সব শেষ!
পুলিশ সূত্রে খবর, নিক্কো পার্কে নায়াগ্রা ফলসের নীচে দাঁড়িয়ে স্নানের সময় হঠাৎ সংজ্ঞাহীন হয়ে যান তিনি। এই ঘটনার জন্য নিক্কোপার্ক কর্তৃপক্ষকে কাঠগড়ায় তুলেছেন মৃত ছাত্রের বাবা। থানায় অভিযোগ পর্যন্ত দায়ের করা হয়েছে। তাঁর মতে, 'এটা কর্তৃপক্ষের গাফিলতির জন্যই হয়েছে। যিনি সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তিনি আমার ছেলের বন্ধু হতে পারেন। স্পষ্ট নয়। কিন্তু তারপরে ওর বন্ধুরাই আমায় বলেছে, 'আঙ্কল, ওরা আমাদের ছুঁতে দিচ্ছে না। আমরা অনেকক্ষণ ধরে হেল্প হেল্প করেছি। ওরা অনেকক্ষণ ধরে ফেলে রেখেছিল। তারপরে যখন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়, সেখানেও কোনও অক্সিজেন সাপোর্ট ছিল না। ওরা বলছে, আমার ছেলে নাকি গুরুতর অসুস্থ ছিল। আমার ছেলে যদি অসুস্থ থাকে, তাহলে সে কীভাবে প্রতিদিন ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা জিম করত? এখান থেকে কাঁকুড়গাছি হেঁটে যাতায়াত করত। ডায়েট মেনে নিজের খাবার নিজে তৈরি করে খেত। শারীরিকভাবে যথেষ্ট ফিট ছিল ও।' নিহত যুবকের বাবার অভিযোগ, যুবকের বন্ধুরা বহুবার সাহায্য চাইলেও, কোনও সাহায্য পায়নি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার ছিল না। জলে কোনও বাউন্সার ছিল না যে জল থেকে তুলে নিতে পারত। নিহত যুবকের বাবা বলছেন, 'আমি থানায় FIR করব। ময়নাতদন্ত না হলে কিছু বোঝা যাবে না। তবে আমি গিয়ে দেখি আমার ছেলের শরীর নীল হয়ে গিয়েছে। আমি চিনতে পারছি না আমার ছেলেকে। চা আর ডিমের পোচ খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল।'






















