Abhishek Banerjee: “অভিষেকের নাম না শুনলে কেউ টাকা দিত না”, চাঞ্চল্যকর দাবি নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তাপস মণ্ডলের " সাহেব টাকা চাইছে"
Tapas Mondal On Abhisek Banerjee : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তাপস মণ্ডল।

সুকান্ত মুখোপাধ্যায়,কলকাতা: শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির ক্ষত এখনও দগদগে। গত ১৫ জুন, নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে ED. এই আবহে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তাপস মণ্ডল।নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তাপস মণ্ডল বলেন,অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না শুনলে কেউ টাকা দিত না। তাঁর নাম শুনেই তো টাকা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন,অন্নপূর্ণা যোজনার আজ টাকা ঢুকবে অ্যাকাউন্টে, কতজনের ‘নাম নথিভুক্ত’ হল? জরুরি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
এবিপি আনন্দ: আপনার সঙ্গে সরাসরি ডিল হয়নি কিন্তু ভায়া সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র, ভায়া কুন্তল ঘোষ, এই টাকা পৌঁছেছে...
উত্তর: হ্যাঁ। এবার সব টাকা পৌঁছেছে কিনা সেটা আমি কী করে বলব। তবে কিছু না পৌঁছলে কাজ শুরু করত না। বলত, সাহেব টাকা চাইছে। সবসময় সাহেব সাহেব। টাকা চাইছে। টাকাটা পাঠান। টাকা না পাঠালে হবে না।
২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ-দুর্নীতির মামলায় CBI-এর হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তাপস মণ্ডল। এরপর ২১ ফেব্রুয়ারি। সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকুর নাম শোনা যায়, নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় ধৃত তাপস মণ্ডলের মুখে। নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে এই তাপস মণ্ডলের মুখেই প্রথম কুন্তল ঘোষের নাম শোনা যায়। এরপরই একে একে গ্রেফতার হন কুন্তল ঘোষ, সুজয়কৃষ্ণ ভদ্ররা। এবার সেই তাপস মণ্ডলই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন।
নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তাপস মণ্ডল বলেন, কুন্তল বলেছিল না? "বারবার ED-CBI আমাকে চাপ দিচ্ছে অভিষেক ব্যানার্জির নাম বলার জন্য।" এটা কীরকম হল? ঠাকুরঘরে কে? আমি তো কলা খাইনি। কুন্তলের ভাষাটা সেরকম হল না? ও তো ইনডিরেক্টলি বলেই দিল যে "আমার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগাযোগ আছে।" তবে কাকু পেয়েছে। সব টাকা না পেলেও পেয়েছে। এটা অস্বীকার করতে পারছি না। সেটা কুন্তল সবসময় "দাদা দাদা দাদা দাদা" করত। দাদা মানেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সব "দাদার সঙ্গে কথা হয়েছে, দাদার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, দাদা অর্ডার দিয়ে দিয়েছে।"
দুর্নীতির টাকা কীভাবে পৌঁছত? সেবিষয়েও মুখ খুলেছেন তাপস মণ্ডল। তাপস মণ্ডল বলেন, মহিষবাথানের যে আমার অফিস ছিল। আমার স্টাফেরা পৌঁছে দিত কিংবা কুন্তল লোক পাঠাত। নিয়ে যেত। আর আমি ওই ডায়েরিটা রেখে দিয়েছিলাম। যে যখন যে টাকাটা নিয়ে যাবে একটা সই করে নিয়ে যাবে। এবং সেই ডায়েরিটা তো অলরেডি ED-র কাছে রয়েছে। অরিজিনাল ডায়েরি। যেখানে কুন্তল সই করেছে, অরবিন্দ রায় বর্মন সই করেছে। ১৯ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫০ হাজার.. এটা আমি পরে জানতে পেরেছি যে, এই লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস-এই সব টাকা গুলো ঢুকেছে।
CBI তদন্তে উঠে আসে, রীতিমতো রেটচার্ট বেঁধে স্কুলে চাকরি বিক্রি হয়েছিল । এমন অভিযোগও সামনে আসে, অনেকেই কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা দিয়েও চাকরি পাননি। এনিয়ে ২০২১ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখেছিলেন বলে দাবি করেছেন তাপস মণ্ডল। নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তাপস মণ্ডল বলেন, আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটা চিঠি লিখেছিলাম। সেই চিঠিটা কার কাছে পৌঁছল? নীলাদ্রি বলল "সুমিত নেবে না। সুমিত সব জানে।" সুমিত আমাকে বলেছে যে "আপনার টাকাটা যাতে আদায় হয়, কুন্তলকে চাপ দিয়ে। সেই ব্যাপারে আমি একটা চেষ্টা নিচ্ছি, কিন্তু আপনাকে লাখ খানেক টাকা খরচা করতে হবে।" সুমিত রায়।ওর যে অ্যাসিস্ট্যান্ট। আমি তো ওর সঙ্গে দেখা করেছিলাম একবার এই ব্যাপারে। এই অর্গানাইজার টিচারের ব্যাপারে। তখন তো দেখলাম সুমিত পাত্তা দিল না। শেষ অবধি দুর্নীতির মাথা অবধি কি পৌঁছবে কেন্দ্রীয় এজেন্সি?
Before You Go
TMC News: অপরূপার বাড়িতে প্রায় ৬ ঘণ্টা তল্লাশি অভিযানের পর সাকির আলিকে গ্রেফতার করে কলকাতায় নিয়ে এল NIA






















