RG Kar Death: 'স্যার একটু আসুন না, পেশেন্টকে ধরুন না... CISF পুলিশটা হাত দিল না', বিস্ফোরক RG Kar-এ মৃত প্রৌঢ়ের স্ত্রী!
RG Kar Patient Death: ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে টালা থানা।

- আর জি কর হাসপাতালে নতুন করে রোগীর মৃত্যু, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ।
- হাসপাতালের শৌচাগার তালাবন্ধ থাকায় দূরে যেতে হয় রোগীকে।
- রোগী শৌচালয়ে যেতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু, পরিবারের অভিযোগ।
- ট্রমা সেন্টারে পরিকাঠামোগত ত্রুটি, দ্রুত সংস্কারের দাবি।
সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, আবির দত্ত ও ঝিলম করঞ্জাই, কলকাতা: ফের শিরোনামে আরজি কর (R G Kar)। ফের অব্যবস্থা। ফের বিপর্যয়। ফের রোগী মৃত্যু। এই হাসপাতালই যেন এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে।
শুক্রবার, লিফট বিপর্যয়ে মৃত্যু। সোমবার, অব্যবস্থায় মৃত্যুর অভিযোগ। শুক্রবারের পর সোমবার, ফারাক মাত্র ৭২ ঘণ্টার। তার মধ্যে আরও একটা মৃত্যু! ঘটনাস্থল, সেই আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।
সেই ট্রমা সেন্টার! লিফট বিপর্যয়ে দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ক্ষত এখনও দগদগে। এরই মধ্যে সোমবার সকালে, আর জি কর হাসপাতালে নিজের চিকিৎসা করাতে এসে প্রাণ গেল প্রৌঢ়ের। মৃত বিশ্বজিৎ সামন্ত উত্তর ২৪ পরগনার বিশরপাড়ার বাসিন্দা।
এদিন ভোর ৪টে নাগাদ। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট নিয়ে প্রৌঢ়কে আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবারের লোকজন। পরিবার সূত্রে খবর, ট্রমা সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ওই ব্যক্তি শৌচাগারে যেতে চান। অভিযোগ, গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালের গেটের পাশে থাকা সুলভ শৌচালয়ে নিয়ে যেতে বলেন চিকিৎসকরা। পরিবারের দাবি, ট্রমা সেন্টার থেকে ৫০ মিটার দূরত্বে হেঁটে যেতে গিয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়েন প্রৌঢ়। তারপরেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
মৃতের ছেলে বিশাল সামন্ত বলছেন, 'ওখানে যাওয়ার পর বাবার বডি ছেড়ে দিয়েছিল পুরোপুরি আমার ওপরে। ধরে রেখেছিলাম। তারপরে বুঝতে পারছিলাম যে কিছু একটা! আশেপাশের লোকজন যাঁরা ছিল তাঁদের ডাকলাম সাহায্যে, দাদাও ছিল আমার। আসার পরে ওখান থেকে ট্রলি নিয়ে তারপর রেড জোনে ডাক্তাররা নিয়ে গেল, ভিতরে জানানোর পর। এখানে আসার পরে, মৃত বলে জানানো হয়।' পরিবারের অভিযোগ, এখানে বাথরুম না থাকাতে তাঁকে দূরে যেতে হয়। সেখানেই তিনি পড়ে যান, তারপরে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
মৃতের স্ত্রী ইলা সামন্ত বলছেন, 'একটা CISF পুলিশ গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আমি ওপরের দোতলা দিয়ে জানালা দিয়ে বলছি স্যর একটু আসুন না, আমার পেশেন্টটাকে একটু ধরুন না। পাবলিক ধরছে, উনি বলেন নীচে নিয়ে আসুন। আমার ছেলে ট্রলি এনেছে, (বলছে) স্যর একটু তুলে দিন। CISF পুলিশটা কিছুতেই হাত দিল না!'
এই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হতেই দেখা যায়, ট্রমা সেন্টারের মুখেই শৌচাগার থাকলেও সেটিকে তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছে। আর জি কর মেডিক্যালের রোগী কল্যাণ সমিতির তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক ও সদস্য অতীন ঘোষ বলছেন, 'ট্রমা কেয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর, যেখানে হার্টের পেশেন্ট, সেরিব্রাল পেশেন্ট আসে, তাঁদের জন্য (টয়লেট) কিন্তু ইমপর্টেন্ট। একজন ডাক্তার বুঝতে পারলেন না এই পেশেন্টকে বাইরে বেরোতে দেওয়া উচিত নয়? এটা মারাত্মক ফল্ট।'
আর জি কর-কাণ্ডে আন্দোলনরত চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো বলছেন, 'আর জি কর মেডিক্যালে পরিকাঠামোগত ত্রুটির ব্যাপার তো দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। বারবার এই ঘটনা তার প্রমাণ। অতি দ্রুততার সঙ্গে এই পরিকাঠামোর পরিবর্তন দরকার।' আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় বলছেন, 'অ্যাট লিস্ট আরও ২টো বাথরুম আমাদের এখানে খুলতেই হবে। এটা নিয়ে আমরা কথা বলেছি।আমাদের এখানে সবসময়ই খুব জায়গার অভাব। যদি আমরা বায়ো টয়লেট করেও যদি ট্রমা কেয়ারে কিছু টেমপোরারি ব্যবস্থা করতে পারি।'
ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে টালা থানা। কিন্তু কেন এমন ঘটনা? একজন অসুস্থ মানুষকে কেন যেতে হবে সুলভ শৌচালয়ে? কেন ট্রমা সেন্টারের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গায় রোগীর ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট শৌচাগারের ব্যবস্থা থাকবে না? এই মৃত্যুর দায় কার?






















