Kolkata News: সরকারি আইনজীবীকে মারধরের অভিযোগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ আক্রান্তর পরিবার, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে কী নির্দেশ বিচারপতির ?
HC On Salt Lake Advocate Beaten Case: সল্টলেকে সরকারি আইনজীবীর কোমর ভাঙার অভিযোগ, অভিযুক্ত ASI ও তাঁর সহযোগিদের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করল বিধাননগর পূর্ব থানা

সৌভিক মজুমদার, ঐশী মুখোপাধ্যায় ও রঞ্জিৎ সাউ,কলকাতা : সল্টলেকে পুলিশের মারে পড়ে গিয়ে, সরকারি আইনজীবীর কোমর ভাঙার অভিযোগ। এনিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় আক্রান্তর পরিবার। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ নির্দেশ দিয়েছেন, আদালত নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত, আইনজীবীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীকে কোনও কাজে নিযুক্ত করা যাবে না। অন্যদিকে আইনজীবীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ASI তুষারচন্দ্র কুমার ও তাঁর সহযোগিদের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করল বিধাননগর পূর্ব থানা।
আরও পড়ুন, শনি ও রবিবার এই দুই রুটে মেট্রো চলাচল বন্ধ থাকবে, অন্যদিনগুলিতে নতুন রুটে কটা অবধি মিলবে পরিষেবা ?
সরকারি আইনজীবীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে! কোমর ভেঙে এখন হাসপাতালে ভর্তি ওই সরকারি আইনজীবী। আইনজীবীর ছেলে এবং আরেক আত্মীয়কেও পুলিশ পেটায় বলে অভিযোগ। আক্রান্ত মনুজেন্দ্রনারায়ণ রায় কলকাতা হাইকোর্টের সরকারি আইনজীবী। তাঁর বাবা প্রয়াত রণেন্দ্রনারায়ণ রায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন। বুধবার রাতে সল্টলেকের AK ব্লকে সরকারি আইনজীবীর। বাড়ির কাছেই তাঁদের গাড়ি রাখা ছিল। অভিযোগ, গাড়ি আনতে যাওয়ার সময় মনুজেন্দ্রনারায়ণ রায়ের ছেলেকে ধরে তাঁর পরিচয় জানতে চান সাদা পোশাকে থাকা দুই পুলিশ কর্মী। সরকারি আইনজীবীর ছেলে প্রশ্ন করায়, পুলিশ কর্মীরা তাঁকে মারধর করে গলা টিপে ধরেন। মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে একজন অ্যাসিস্ট্য়ান্ট সাব ইন্সপেক্টর তাঁকে চড়ও মারেন বলে অভিযোগ।
আক্রান্ত সরকারি আইনজীবীর ছেলে সৌরীন্দ্রনারায়ণ রায় বলেন, সিভিল ইউনিফর্মে ২ জন লোক অভদ্রভাবে কথা বলে। জিজ্ঞেস করে, আমার বাড়িটা কোথায়। আমি বলেছি, এই পাড়ায় থাকি। জিজ্ঞেস করলাম ওঁকে, কাকু আসলে হয়েছেটা কী? ওঁর কোনও কারণে মাথা গরম হয়। উনি আমাকে মারেন। যখন আমি প্রত্য়াঘাত করেছি, নিজেকে বাঁচানোর জন্য়, আমাকে উনি বলেন, ‘পুলিশের গায়ে হাত তুলেছ, তোমার পুরো ভবিষ্য়ৎ নষ্ট করে ছাড়ব।’ আমায় আরও হুমকি দিয়েছে। ওরা প্রথমে ২ জন ছিল। পরে আরও ২ জন এসেছে।
অভিযোগ, ছেলেকে বাঁচাতে এসে পুলিশের হাতে আক্রান্ত হন সরকারি আইনজীবী মনুজেন্দ্রনারায়ণ রায়। ASI লাথি মারায়, পড়ে গিয়ে তাঁর কোমরের হাড় ভাঙে বলে অভিযোগ। আহত সরকারি আইনজীবীর স্ত্রী ববিতা রায় বলেন, পুলিশরা ধাক্কা মেরে ওখানে ফেলে দেয়। আমার স্বামী আইনজীবী। ওঁকে ফেলে দেয়। উনি আঘাত পেয়েছেন। কোমরে লেগেছে। পুলিশ কিন্তু ড্রিঙ্ক করেছিল। আমার স্বামীর জুনিয়র আসছিল...সে দেখে, ছেলেকে পুলিশরা ঘাড় ধরে, মুখটা নিচু করে রেখে দিয়েছিল। সরকারি আইনজীবীর তরফে বিধাননগর পূর্ব থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকার CC ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টরের মাথা ফাটে। তিনিও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্র দফতরের অতিরিক্ত প্রধান সচিব ও পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি, কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ নির্দেশ দেন,আদালত নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত, আইনজীবীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীকে কোনও কাজে নিযুক্ত করা যাবে না।ঘটনাস্থলের CCTV ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের বার অ্য়াসোসিয়েশন।






















