Ritabrata Banerjee: বালি পাচার নিয়ে সাংসদ-মাফিয়ার কথোপকথন? এবার অডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে, কার দিকে ইঙ্গিত ঋতব্রতর?
Sand Mafia Audio Clip: রাজ্যের প্রাক্তন এক মন্ত্রীর নামও আছে বলে দাবি করেছেন ঋতব্রত। অন্য দিকে, কীর্তি আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

কলকাতা: বালি পাচার নিয়ে কি সাংসদ এবং মাফিয়ার কথোপকথন? অডিও ক্লিপ শুনিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তৃণমূব সাংসদ তথা 'কালীঘাট তৃণমূলে'র সদস্য কীর্তি আজাদের দিকে নিশানা করেছেন তিনি। ভবানী ভবনে গিয়ে CID-র কাছে অভিযোগ জানালেন ঋতব্রত। ED, CBI এবং লোকসভার স্পিকারকেও জানাতে চলেছেন। রাজ্যের প্রাক্তন এক মন্ত্রীর নামও আছে বলে দাবি করেছেন ঋতব্রত। অন্য দিকে, কীর্তি আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। (Sand Mafia Audio Clip)
অডিও ক্লিপটি তুলে ধরে ঋতব্রত বলেন, "এটা সম্ভবত বর্ধমান-দুর্গাপুরের এক সাংসদের কণ্ঠস্বর। 'সম্ভবত এটা বিশ্বকাপ জয়ী এক ক্রিকেটারের কণ্ঠ। বালির বখরা নিয়ে অডিও, দেখতে হবে প্রভাবশালী কেউ আছে কি না।" তাহলে কি কীর্তির দিকেই ইশারা করছেন তিনি? জিজ্ঞাসাবাদের দাবি তুললেন তিনি। যদিও অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন কীর্তি। এর নেপথ্যে বিজেপি সংযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। আর সেই নিয়েই নতুন করে তরজা তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে। (Ritabrata Banerjee)
ঋতব্রত যে অডিও ক্লিপ সামনে এনেছেন, তার কথোপকথন খানিকটা এই রকম-
কণ্ঠ ১- এদিকে বাজার পুরো গরম। বালির সিন্ডিকেট চালু হচ্ছে দু’চার দিনে।
কণ্ঠ ২- আচ্ছা, কে কে?
কণ্ঠ ১- চণ্ডীর নাম দিয়েছিলাম না? যত গাড়ি আছে, আপনার কাছে একটাই কাজ ছিল যে, সিপিকে চাপ দিয়ে বলতে হবে দুর্গাপুর দিয়ে যাতে কোনও গাড়ি বেরোতে না পারে। নিজেদের সিস্টেম হয়ে যাবে। লোকাল যে সিন্ডিকেট হবে, তাতে আমাদের ছেলেরাই পুরো কাজ করবে।
কণ্ঠ ২- আমি ওঁকে বলে দেব। ডিসিপি-কে বলে দেব যে এদিক দিয়ে গাড়ি যাওয়া চলবে না।
কণ্ঠ ১- আপনার দুর্গাপুর এলাকায়…আপনা দো ঘাটা কা চলে গা তো আচ্ছা খাসা অ্যামাউন্ট আয়েগা।
কণ্ঠ ২- হুম।
কণ্ঠ ১- দুর্গাপুর এলাকা, এখান দিয়ে মাল গেলে নাম তো আপনারই খারাপ হবে। সবাই ভাববে আপনার সেটিং আছে। তাই আপাতত বন্ধ রেখে দু'-তিন দিন পর আমাদেরটা চালু করতে বলুন। আপনি বলেল আমি দিল্লি চলে আসব দু'একদিনের মধ্যে। আপনার সঙ্গে ওখানে বসে কথা হবে।
কণ্ঠ ২- না, না আমি আসছি ২ তারিখে।
কণ্ঠ ১- আসুন, বসে কথা হবে। দুর্গাপুরে আরও দু'চার জায়গায় সিস্টেম নিয়ে কথা হয়েছে।
কণ্ঠ ২- কিন্তু কোথাও আমার নাম আসা চলবে না।
কণ্ঠ ১- স্যর, আসবে না আপনার নাম। কারণ আমাকে লং টাইম করতে হবে। আমাকে ভাই মনে করুন। আপনার নাম খারাপ করে আমার কী লাভ? আমার লাভ আছে এতে। আমিও খাড়া হয়ে যাব। দুর্গাপুরের যা হবে, টোটাল আপনাকে দিয়ে দেব। বসে কথা বলব আপনার সঙ্গে।
আরও পড়ুন: মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগে মামলা হয়েছিল
এবিপি আনন্দ অডিও ক্লিপটির সত্যতা যাচাই করেননি। তবে সেটি সামনে আসার পর শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সরাসরি নাম না করলেও, অডিও-য় বালি মাফিয়ার সঙ্গে কে কথা বলছেন, তা নিয়ে ঋতব্রত বলেন, "এটার সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগ নেই আমার। তাই ভবানী ভবনে এতক্ষণ ছিলাম। ফর্মালি অভিযোগ করে দিয়ে এসেছি। সিবিআই এবং ইডি-কেও পাঠাব। বোঝা যাচ্ছে এটা দুর্গাপুর বেল্টের। গোটা কথোপকথনটাই বালি মাফিয়ার সঙ্গে। উল্টো দিকে কেউ আছেন জানি না। একজনের গলাটা কিছুটা চিনি, অনেকেই চেনেন। আমার কাছে ফরেন্সিকের তথ্য নেই। কিন্তু অন্য তথ্য আছে। ঘটনাচক্রে, একজন বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য আর কী, তিনি সবসময় বলেন 'আমি বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য'। ফরেন্সিকে আমার ক্ষমতা নেই। কিন্তু রাজ্য পুলিশ এবং CID-র কাছে অনুরোধ করেছি অবিলম্বে তদন্ত হোক। একই অনুরোধ ইডি-সিবিআইকে করব। লোকসভার স্পিকারকেও জানাব বিষয়টি।"
এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিজেপি-র দিকে আবার অঙ্গুলি নির্দেশ করেন কীর্তি। তাঁর বক্তব্য, "আমি তো শুনলাম, কোনও আওয়াজ বোঝা যাচ্ছে? আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স...কোথা থেকে করেছে, কী করেছে, কার সঙ্গে মিলে করেছে জানি না। না আমার আওয়াজ, না কিছু। কখন এই শব্দ, কখন আবার ওই শব্দ। AI দিয়ে বানালেও তো ভাল বানাতে পারত। এমনটা কেন বানাল। ভাল বানাতে পারত। আমি আইনি পদক্ষেপ করব। আমি তো জানতামই না। ফোনে শুনলাম এসব তুলে ধরেছে।"
একদিন আগে যদিও রাজনৈতিক চাপের কথা বলেছিলেন কীর্তি। ঋতব্রতর উপর রাজনৈতিক চাপ আছে বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি রামপুরহাটে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতেও বিজেপি থেকে চাপ ছিল, তাঁকে দলে যেতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি করেন।
আরও পড়ুন: পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি ভরার সময় তীব্র বিস্ফোরণ, ফাটল CNG সিলিন্ডার, মৃত বেড়ে ৩
Before You Go
Nadia Congress Leader Death | জেলে বসেই সপুত্র কংগ্রেস নেতাকে খুনের চক্রান্ত TMC নেতার?






















