ISI Spy Suspects Arrested: গরুপাচারের আড়ালে জালনোটের কারবার, ভারতের সিম বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে পাচার, ISI চর সন্দেহে ধৃতদের বিরুদ্ধে আর কী কী অভিযোগ
West Bengal News: STF সূত্রে দাবি, ধৃত ৩ পাক-চরের সঙ্গেই বাংলাদেশে বসে থাকা আকবর ওরফে সম্রাট নামে বাংলাদেশে বসে থাকা একজনের যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে।

কলকাতা : ISI-এর হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হল এ রাজ্যেরই তিন বাসিন্দাকে। সূত্রের খবর, ধৃতদের জেরা করে বাংলাদেশে গরুপাচারের আড়ালে জালনোটের কারবার এবং ভারতের সিমকার্ড বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে পাচারের মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠে এসেছে। উঠে এসেছে পাকিস্তান যোগও। দিল্লির লালকেল্লা হোক বা এ রাজ্যের রেড রোড, গোটা দেশ জুড়ে যখন ধুমধামের সঙ্গে ৮০-তম স্বাধীনতা দিবস পালন হচ্ছে, তখন কোচবিহার থেকে উত্তর দিনাজপুর, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে, কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের STF-এর যৌথ উদ্যোগে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হল।
সূত্রের খবর, ধৃতদের জেরা করে বাংলাদেশে গরুপাচারের আড়ালে জালনোটের কারবার এবং ভারতের সিমকার্ড বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে পাচারের মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠে এসেছে। STF সূত্রে দাবি, ধৃত ৩ পাক-চরের সঙ্গেই বাংলাদেশে বসে থাকা আকবর ওরফে সম্রাট নামে বাংলাদেশে বসে থাকা একজনের যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। সেই আকবর ওরফে সম্রাটের আবার সরাসরি পাকিস্তান-যোগ রয়েছে। STF-এর প্রাথমিক সন্দেহ, সিমকার্ড থেকে বিভিন্ন নথি এবং তথ্য ধৃত এই তিনজনের মাধ্যমে প্রথমে বাংলাদেশের আকবর ওরফে সম্রাটের কাছে এবং সেখান থেকে পাকিস্তানে পৌঁছেছে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
১৫ দিনের মধ্যে ফাঁস ৩টি জঙ্গি মডিউল, কীভাবে বদলাচ্ছে নাশকতার ছক ? ISI চর সন্দেহে জালে আরও ৩
ISI-এর হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে ধৃত তিনজনের প্রথমজন উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর থানার পাঞ্জিপাড়ার বাসিন্দা মহম্মদ শফিকুল ইসলাম। সেখানে ধৃতের শ্বশুরবাড়ি রয়েছে। শুক্রবার বিহারের কিষাণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের STF। STF সূত্রে খবর, ধৃত শফিকুলের ফোনে বাংলাদেশের একাধিক কনট্যাক্ট নম্বর মিলেছে। এমনকী ধৃতের ফোনে মিলেছে ভারতীয় জাল নোটের ছবি ও ভিডিও। চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, ১২ বছর বিয়ে হলেও, শফিকুলের আসল বাড়ি কোথায়, তা জানেন না খোদ স্ত্রী-ই।
ধৃত দ্বিতীয় ব্যক্তি নুর নাসিরুদ্দিন আলি, কোচবিহারের তুফানগঞ্জের বাসিন্দা। অভিযোগ, এই নাসিরুদ্দিন গরুপাচারের সঙ্গে জড়িত। ২০১৮ সালে অবৈধ উপায়ে বাংলাদেশে গিয়েছিল ধৃত এই যুবক। সূত্রের খবর, সিমকার্ড পাচারের সঙ্গেও ধৃতের যোগ রয়েছে। মিলেছে পাকিস্তান যোগও। ISI-এর চর সন্দেহে ধৃত তৃতীয় যুবকের নাম রশিদুল হক। কোচবিহারের সাহেবগঞ্জের একেবারে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় তার বাড়ি। STF সূত্রে দাবি, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নাজিরহাট এবং নয়াহাট সীমান্ত থেকে ৬-৭ লক্ষ টাকার জালনোট পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত। এমনকী বাংলাদেশের এক বাসিন্দার তরফে তাঁকে একবার আড়াই লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের তরফে বেশকিছু তথ্য পাঠানো হয় কলকাতা পুলিশের STF-কে। সেই তথ্য রাজ্য পুলিশের STF-কে দেওয়া হয়। তারপরেই অ্যাকশনে নামে পুলিশ। দিনহাটার সাহেবগঞ্জ থানায় ধৃত তিনজনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতা বিপন্ন করার মতো কর্মকাণ্ড ঘটানোর অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। তিনজনকে দিনহাটা মহকুমা আদালতে তোলা হলে, সকলকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।























