West Bengal Election : স্ট্রংরুমের দেওয়াল বেয়ে উঠছেন একজন ! ছাদে ওটা কে? বর্ধমানের স্ট্রং রুম-নিরাপত্তা নিয়ে ভয়ঙ্কর অভিযোগ
West Bengal Poll Counting : রাতের অন্ধকারে গণনা কেন্দ্রের দেওয়াল বেয়ে এক ব্যক্তিকে ছাদে উঠতে দেখা গিয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলল বিজেপি।

কমলকৃষ্ণ দে, পূর্ব বর্ধমান : বর্ধমানের ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (UIT) গণনা কেন্দ্র ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। রাতের অন্ধকারে গণনা কেন্দ্রের দেওয়াল বেয়ে এক ব্যক্তিকে ছাদে উঠতে দেখা গিয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলল বিজেপি। সেই ভিডিও প্রকাশ্যে এনে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন বর্ধমান উত্তরের বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাস। অন্যদিকে, সিসিটিভি ক্যামেরার সময়ের অসঙ্গতি এবং ডিসপ্লে বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তৃণমূলও। ফলে ভোট গণনার আগেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
পাঁচ বিধানসভার EVM বন্দি UIT স্ট্রং রুমে
বর্ধমান উত্তর মহকুমার মোট পাঁচটি বিধানসভার EVM বর্তমানে UIT ক্যাম্পাসের স্ট্রং রুমে রাখা রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, গোটা গণনা কেন্দ্রকে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। স্ট্রং রুম ও পুরো বিল্ডিংয়ের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ক্যাম্পাসের প্রবেশদ্বার ও নির্দিষ্ট অংশে দায়িত্বে রয়েছে সশস্ত্র রাজ্য পুলিশ।কিন্তু বিজেপির পাল্টা দাবি, দড়ি বেয়ে ছাদে উঠছে ব্যক্তি । এই ছবিও প্রকাশ করেছেন বিজেপি প্রার্থী। বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাসের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, এক ব্যক্তি দড়ির সাহায্যে বিল্ডিংয়ের দেওয়াল বেয়ে ছাদে উঠছেন। ছাদের উপর আগে থেকেই আরও এক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এই ভিডিও প্রকাশ করে বিজেপির অভিযোগ, গভীর রাতে অচেনা ব্যক্তিরা কীভাবে স্ট্রং রুম সংলগ্ন এলাকায় প্রবেশ করছেন, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে।
সঞ্জয় দাসের আরও অভিযোগ, ওই বাড়ির ভিতর থেকে ভাঙচুরের মতো জোর আওয়াজ শোনা যায়। কিছু সময়ের জন্য সিসিটিভি ডিসপ্লে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। স্ট্রং রুমের নিরাপত্তায় গাফিলতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এই ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিজেপি।
সিসিটিভির সময় মিলছে না, অভিযোগ তৃণমূলেরও
অন্যদিকে নিরাপত্তা ইস্যুতে সরব হয়েছে তৃণমূলও। জেলা টিএমসিপি সভাপতি স্বরাজ ঘোষ অভিযোগ করেছেন, কিছু সিসিটিভি ক্যামেরার ডিসপ্লেতে বর্তমান সময়ের সঙ্গে ১ থেকে ২ মিনিটের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। তাঁদের দাবি,
মাঝেমধ্যেই সিসিটিভি ডিসপ্লে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। এই ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে। ফলে একই ইস্যুতে এবার শাসক ও বিরোধী— দুই পক্ষই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
কী বলছে নির্বাচন কমিশন?
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, গণনা কেন্দ্রের বিভিন্ন ঘরে এসি বসানোর কাজ চলছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর কাজও করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত প্রটোকল মেনেই কাজ করা হচ্ছে। তবে ভোট গণনার আগে এই বিতর্ক ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা যে আরও বাড়তে পারে, তা স্পষ্ট।
আরও পড়ুন : ভোট মিটতেই বড় ধাক্কা ! বেড়ে গেল রান্নার গ্যাসের দাম, কত হল কলকাতায় ?
সেরা শিরোনাম




















