Bihar Government Teacher: ‘ব্যাগে টাকা আছে, দুধের দাম মিটিয়ে দিও, স্বামী নয়, মেয়েই যেন দাহ করে’, চিঠি রেখে গেলেন সরকারি শিক্ষিকা
Bihar News: স্বামী নন, তিন মাসের শিশুকন্যা যেন চিতায় অগ্নিসংযোগ করে, তাও জানিয়ে গিয়েছেন।

পটনা: বিহারে আত্মঘাতী হলেন সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা। যে সুইসাইড নোট রেখে গিয়েছেন তিনি, তা সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কারণ সুইসাইড নোটে মা-বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। স্বামী নন, তিন মাসের শিশুকন্যা যেন চিতায় অগ্নিসংযোগ করে, তাও জানিয়ে গিয়েছেন। দুধের দাম মিটিয়ে দিতে বলে গিয়েছেন তাঁর ব্যাগে রাখা টাকা দিয়ে। (Bihar News)
বিহারের বৈশালী থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। ৩০ বছর বয়সি পিয়া ভারতী আত্মঘাতী হয়েছেন সেখানে। সোমবার রাতে সেহন গ্রামে ভাড়াবাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। সেখান থেকে যে সুইসাইড নোট উদ্ধা হয়, তাতে নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেননি তিনি। জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতার জন্যই নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। (Bihar Government Teacher)
সুইসাইড নোটে পিয়া লেখেন, ‘রসুলপুরে (পিয়ার গ্রাম) আমার দেহ নিয়ে যাবে না। এখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন কোরো। চিতায় যেন মেয়ে আগুন দেয়, স্বামী নয়। আমার ফোন স্বামীর হাতে তুলে দিও। ফোনে কিছু মেসেজ, অডিও এবং ভিডিও রয়েছে। আমার স্বামী ফোমের পাসওয়র্ড জানে’।
পিয়া আরও লেখেন, ‘আমার জন্য যাঁরা কষ্ট পেয়েছেন, তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইছি। পুলিশকে অনুরোধ, আমার দেহের ময়নাতদন্ত করবেন না। কারও বিরুদ্ধে কোনও মামলা দায়ের করবেন না, না আমার স্বামীর বিরুদ্ধে, না পরিবাররে কারও বিরুদ্ধে। এটি আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। মা, বাবা, তোমাদের মেয়ে হেরে গিয়েছে। আমাকে ক্ষমা করে দিও মা’।
চিঠি শেষ করার আগে পিয়া লেখেন, ‘৫.৫ লিটার দুধের টাকা বাকি আছে। আমার ব্যাগে টাকা রাখা আছে, সেখান থেকেই মিটিয়ে দিও দয়া করে’। তাঁর চিঠির এই অংশ পড়ে চমকে উঠেছেন অনেকেই। মনের ভিতর কত তোলাপড়ার পর তিনি ওই চরম সিদ্ধান্ত নেন, ভেবে কূল পাচ্ছেন না কেউ।
পিয়া যদিও নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেননি, কিন্তু তাঁর পরিবারের দাবি, স্বামী দীপক রাজ এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেয়ের উপর অত্যাচার চালাতেন। নিজের মাকে সেকথা জানিয়েওছিলেন পিয়া। পিয়ার স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিষয়টি নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি।
খবর পেয়ে পিয়ার দেহটি নিয়ে যায় পুলিশ। মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত হয় বলে খবর। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পিয়ার বাপের বাড়ি থেকে কেউ কোনও অভিযোগ জানাননি বলে জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিক সঞ্জীব কুমার। পিয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না, পিয়ার বাপের বাড়ির লোকজন কী বলছেন, তা নিয়ে কিছু খোলসাও করেননি তিনি।

























