Online Asset Will: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ক্রিপ্টো...মৃত্যুর পর অনলাইন সম্পত্তির কী হবে? ডিজিটাল উইল বিধি আনার ভাবনা কেন্দ্রের
Digital Will for Online Assets: জমি-বাড়ির মতো ডিজিটাল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী নির্বাচনও জরুরি। আর সেই কারণেই ডিজিটাল উইলের গুরুত্ব বোঝা দরকার। ছবি: ফ্রিপিক।

নয়াদিল্লি: সময়ের সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যম নির্ভর জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি আমরা। শুধুমাত্র অফিসের কাজকর্মই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ছাড়া এক মুহূর্ত চলে না। ফলে সেগুলি আমাদের ‘ডিজিটাল অ্যাসেট’ বা ডিজিটাল সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। এই ডিজিটাল সম্পত্তি রক্ষার্থেও ‘উইল’ করা যাবে এবার থেকে। অর্থাৎ জমি-বাড়ির মতো ডিজিটাল সম্পত্তির উত্তরাধিকারীও ঠিক করা যাবে, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর পছন্দের লোকজনের হাতে সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ থাকে। (Digital Will for Online Assets)
আইনি উপায়ে ডিজিটাল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী ঠিক করতে নয়া বিধিনিয়ম আনার কথা ভাবছে কেন্দ্রের বৈদ্যুতিন এবং তথ্য় ও প্রযুক্তি মন্ত্রক। এর ফলে অন্য সম্পত্তির মতো ডিজিটাল সম্পত্তিও উত্তরাধিকারীর হাতে তুলে দেওয়া যাবে। সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল, ইমেল অ্যাকাউন্ট, ক্লাউড স্টোরেজ সার্ভিসেস, ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো অনলাইন বিনিয়োগ—এই সব কিছুই আইনত ডিজিটাল সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে। প্রাইভেসি, পাসওয়র্ড, নিয়ন্ত্রণ, সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া যাবে উত্তরাধিকারীর হাতে। (Online Asset Will)
আরও পড়ুন: হাসপাতালের লিফটে মাথা আটকে মর্মান্তিক মৃত্যু মহিলা কর্মীর, সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল ভয়ঙ্কর দৃশ্য়
ডিজিটাল উইল কী?
ডিজিটাস উইল আসলে একটি নথি বা সিস্টেম, যার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাঁর ডিজিটাল সম্পত্তির ভবিষ্যৎ ঠিক করতে হবে। মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল, বিনিয়োগ, যাবতীয় ডেটা কার হাতে উঠবে, সেই উত্তরাধিকারীর নাম ঠিক করতে পারব আমরা। সমস্ত পাসওয়র্ড, অ্যাকসেস রাইটস, প্রাইভেসি সংক্রান্ত খুঁটিনাটির উল্লেখ থাকবে ডিজিটাল উইলে।
ডিজিটাল সম্পত্তি কোনগুলি?
- ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল
- জিমেল বা আউটলুকের মতো ইমেল
- গুগল ড্রাইভ, আইক্লাউডের মতো ক্লাউড স্টোরেজ
- ডিজিটাল ব্যবসা থাকলে, ইউটিউব চ্যানেল, ওয়েবসাইট
- ক্রিপ্টোকারেন্সি, এনএফটি
আরও পড়ুন: ধর্ম জিজ্ঞেস করেই ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপ, পহেলগাঁওয়ের কায়দায় হামলা মুম্বইয়ে? ধৃত আমেরিকা ফেরত যুবক
ডিজিটাল সম্পত্তি এত গুরুত্ব পাচ্ছে কেন?
হঠাৎ কেউ মারা গেলে, তাঁর ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টের নাগাল পেতে হিমশিম খেতে হয় পরিবার-পরিজনকে। ফোন লক করা থাকে, ওটিপি-র প্রশ্ন জড়িয়ে থাকে, আবার কড়া প্রাইভেসি রুলস থাকায় গুরুত্বপূর্ণ ডেটা হাতে পেতে কালঘাম ছুটে যায়। গোপনীয়তা রক্ষার দোহাই দিয়ে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিও সেভাবে সাড়া দেয় না। ভারতে তেমন আইনও নেই এখনও পর্যন্ত। মানুষের কথা ভেবেই নয়া বিধিনিয়ম চালুর ভাবনা চলছে।
কী ভাবছে কেন্দ্র?
ডিজিটাল উত্তরাধিকারীর ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করতে বেশ কিছু নির্দেশিকা আনার পথে কেন্দ্র। দিল্লি সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী—
- ডিজিটাল অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তার জন্য নাম মনোনীত করে রাখা যাবে।
- Bitcoin বা Ethereum-এর মতো ক্রিপ্টো বিনিয়োগ থাকলে, সেই সংক্রান্ত তথ্যও মজুত রাখা যাবে, যাতে উত্তরাধিকারীর সুবিধা হয়।
- ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে সোশ্য়াল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে সেই মতো উত্তরাধিকারীকে অ্যাকসেস দিতে হবে।
- ডিজিলকার এবং আধারকে সংযুক্ত করার ভাবনাও রয়েছে।
- ডিজিটাল ভল্টেও সব নির্দেশ রেখে দেওয়া যেতে পারে।
- আইনি ঝুটঝামেলা এড়ি, গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার বজায় রেখে পরিবারের হাতে সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া।
- গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার নিয়ে উদ্বেগ।
তবে এর ফলে মৃত ব্যক্তির গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কাও থাকছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু জিনিস সকলের থেকে গোপন রাখেন অনেকে। তাঁর মৃত্যুতে সেসব প্রিয়জনের হাতে ওঠা কাম্য নয়। তাই কোনটা একান্ত ব্যক্তিগত, আর কোনটা ভাগ করে নেওয়া যায়, তার মধ্যে পৃথকীকরণ জরুরি।
কেন্দ্রীয় সরকার এখনও পর্যন্ত বিধিনিয়ম না আনলেও, নিজের ডিজিটাল উইল এখনই ঠিক করতে ফেলতে পারি আমরা।
- Google-এর Inactive Account Manager-এর সাহায্য়ে কার হাতে অ্যাকসেস দেবেন, তা ঠিক করা সম্ভব।
- ফেসবুকে Legacy Contract রয়েছে।
- Apple-ও Digital Legacy Feature এনেছে।
- LastPass-এর মতো পাসওয়র্ড ম্যানেজার পরিষেবা এসে গিয়েছে নাগালে।























