Heart Attack : কর্ণাটকে হার্ট অ্যাটাকে মৃতদের মধ্যে অনেকেই ক্যাব বা অটো ড্রাইভার, কেন হল এমনটা?
বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দীনেশ গুন্ডু রাও স্পষ্ট করে বলেন, কেন হাসানে হঠাৎ হৃদরোগে মৃতদের এক-তৃতীয়াংশই অটো ও ক্যাব চালক।

বেঙ্গালুরু: চলতি বছরের মে এবং জুন মাসে কর্ণাটকের হাসান জেলায় হৃদরোগে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। সব থেকে আশ্চর্যের বিষয় হল, হদরোগে মৃতদের বেশিরভাগই ৪৫ এর কম বয়সী। এবার আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল । নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে যাঁরা আকস্মিকভাবে মারা গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষই পেশায় অটো এবং ক্যাব চালক। রাজ্য সরকার নিযুক্ত একটি তদন্ত কমিটির রিপোর্টে সামনে এসেছে এই তথ্য। তরুণদের মধ্যে আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর ঘটনার মধ্যেই এই তথ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভয়ে এই পেশায় থাকা অনেক মানুষই। বেঙ্গালুরুর শ্রী জয়দেব ইনস্টিটিউট অফ কার্ডিওভাসকুলার সায়েন্সেসের ডিরেক্টর ডঃ কে এস রবীন্দ্রনাথের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল এই কমিটি। ৪০ দিনের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকে ২৪ জনের মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখার দায়িত্ব ছিল এই কমিটির।
এই কমিটি নিশ্চিত করেছে ২৪ জনের মধ্যে ১০ জনের ক্ষেত্রে ইসিজি রিপোর্ট দেখে স্পষ্ট হয়েছে, মৃত্যুর কারণ হৃদরোগই। এদের মধ্যে তিনজনের হৃদরোগের ইতিহাস ছিল। এর মধ্যে একজনের আগে বাইপাস সার্জারিও হয়েছিল। একজন পূর্বে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করান। আরেকজন ডায়ালেটেড কার্ডিওমায়োপ্যাথিতে আক্রান্ত ছিলেন। এই ১০ টি সম্ভাব্য হৃদরোগজনিত মৃত্যুর মধ্যে অন্তত আটটি ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, এঁরা নিয়মিত মদ্যপান করতেন। ছয়টি ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে , এঁরা ধূমপান করতেন। বাকি চার চারজনের মধ্যে একজনের আগে থেকেই দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ ছিল। আরেকজনের আগে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। আরেকজনের তীব্র গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস ছিল। এছাড়াও সন্দেহ তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে থাকতে পারেন।
বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দীনেশ গুন্ডু রাও স্পষ্ট করে বলেন "আমরা তথ্য বিশ্লেষণ করেছি, মৃতদের মধ্যে ১৪ জনের বয়স ৪৫ বছরের কম, যাদের মধ্যে ১৯, ২১ এবং ২৩ এবং ১০ জনের বয়স ৪৫ বছরের বেশি। কিন্তু গত বছরের মে এবং জুনের তুলনা করলে, মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়নি।" তিনি আরও বলেন, মৃতদের মধ্যে প্রায় ৩০% অটো এবং ক্যাব চালক ছিলেন। তাদের অনেকেই হাসানের বাসিন্দা ছিলেন কিন্তু বেঙ্গালুরুতে থাকতেন । এই মৃত্যুগুলির সঙ্গে তাঁদের জীবনধারা এবং পেশাগত চাপ যুক্ত বলে মনে করছেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, অনেকের ক্ষেত্রেই গাড়ি চালানোর সময় দীর্ঘ সময় বসে থাকা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, শারীরিক কার্যকলাপের অভাব, মানসিক চাপ এবং কম ঘুম, এদের শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে থাকতে পারে।






















