Himachal Pradesh: ভয়ঙ্কর বিপর্যয়! হড়পা বান-বৃষ্টিতে মুহূর্তে সব ধ্বংস, চোখের সামনে তলিয়ে গেল রাস্তা-জীবন
Himachal Pradesh Rain Alert: গত কয়েকদিনে বর্ষা-বন্যায় প্রাণ গিয়েছে অন্তত ৬৩ জনের। খোঁজ নেই বহু মানুষের। রাজ্যের অন্তত ৪০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে প্রবল বর্ষণে।

নয়া দিল্লি: বর্ষায় ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি হিমাচল প্রদেশে। গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাত এবং একের পর এক মেঘভাঙা বৃষ্টি, হড়পা বান ও ধসের ফলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে উত্তর ভারতের এই পাহাড়ি রাজ্যে।
এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৩৭ জনেরও বেশি। নিখোঁজ বহু, ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্যে বিপর্যয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে মান্ডি, সিমলা, কারসগ, ধরমপুর, থুনাগ এবং বাগসায়ার মতো জেলাগুলিতে। মান্ডি জেলার অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। শুধু মান্ডিতেই ৪০ জন নিখোঁজ বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
গত কয়েকদিনে বর্ষা-বন্যায় প্রাণ গিয়েছে অন্তত ৬৩ জনের। খোঁজ নেই বহু মানুষের। রাজ্যের অন্তত ৪০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে প্রবল বর্ষণে। হিমাচলে চলতি বছরে বর্ষা প্রবেশ করেছে ২০ জুন। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ১৫০টির বেশি ঘরবাড়ি, ১০৪টি গোশালা, ৩১টি গাড়ি ও ১৪টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মারা গিয়েছে ১৬২টি গবাদি পশু। মাণ্ডি জেলায় উদ্ধার করা হয়েছে ৩১৬ জন সহ মোট ৩৭০ জন। খোলা হয়েছে ৫টি ত্রাণ শিবির। মানালি-কিলং রাস্তা ধসে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ঘুরপথে রোতাং পাস হয়ে চালানো হচ্ছে। রাজ্যে বর্তমানে ২৬১টি রাস্তা ও প্রায় ৮০০টি জল সরবরাহ প্রকল্প বন্ধ।
ডিসি রানা, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের বিশেষ সচিব, জানিয়েছেন, “আমরা আপাতত উদ্ধার কাজ এবং নিখোঁজদের খোঁজাতেই অগ্রাধিকার দিচ্ছি। এখনই ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব দেওয়া সম্ভব নয়।” প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৩৭ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় আরও ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বাড়ছে।
এদিকে, অত্যাধিক বৃষ্টিপাতে রাজ্যের ৫০০-র বেশি রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। জাতীয় সড়কগুলির একাধিক অংশ ধসে পড়েছে বা ভেসে গিয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, ফলে বহু এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট তৈরি হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (SDRF) একাধিক দল উদ্ধার কাজে নেমেছে। যাঁরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন, তাঁদের উদ্ধারে চলছে চেষ্টা। তবে টানা বৃষ্টিতে উদ্ধার কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
মৌসম ভবন জানিয়েছে, আগামী সোমবার পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশের প্রায় সমস্ত জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পাহাড়ি ধস ও হড়পা বানের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ গবেষক ও আবহাওয়াবিদদের মতে, হিমাচলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অত্যন্ত প্রকট। অতি বৃষ্টির ধারা এবং আকস্মিক বন্যা আগামী দিনগুলোতেও এভাবে বারবার ফিরে আসবে।






















