Justice Biswajit Basu: হাইকোর্টের দুই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে গুরুদায়িত্ব দিলেন শুভেন্দু অধিকারী, দুর্নীতিতে মাথাদের নাম উঠে আসবে এবার?
Suvendu Adhikari: একই দিনে জোড়া কমিশন গঠন করেছেন শুভেন্দু অধিকারী, যাকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

কলকাতা: প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তে যে কমিশন রাজ্য় সরকার তৈরি করল তার মাথায় বসানো হল কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুকে। শিক্ষাদুর্নীতি মামলায় তাঁর একের পর এক পর্যবেক্ষণ একসময় আলোড়িত করেছে বঙ্গসমাজকে। কখনও SSC, কখনও CBI-কে ভর্ৎসনা করেছেন তিনি। (Suvendu Adhikari)
নবম-দশমের একটা মামলায় SSC-কে উদ্দেশ্য করে তৎকালীন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু বলেছিলেন, "আপনি এখন বাল্মীকি। নিজেকে শুদ্ধ করার জন্য যেভাবে কাজ করার দরকার সেটা করুন।" ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, CBI-এর তদন্ত নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ''যেভাবে স্কুলের নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত চালাচ্ছে CBI, তা চলতে পারে না.....যা করার তাড়াতাড়ি করুন।" (Justice Biswajit Basu)
আরও পড়ুন: ‘পশ্চিমবঙ্গে এখন রামরাজত্ব, আগামী ৫০ বছর চলবে’, বাঁকুড়ায় খোল-করতাল নিয়ে জয় উদযাপন বিজেপি-র
এর পাশাপাশি, CBI-এর উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলছিলেন, "যাঁরা টাকা দিয়েছেন এবং যাঁরা টাকা নিয়েছেন--তাঁদের বিরুদ্ধে কি ব্য়বস্থা নেওয়া হয়েছে? তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না কেন? এতদিনে তো অনেক টাকা পাচার হয়ে গিয়েছে। এখনও CBI উদাসীন কেন?"
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকেই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তের মাথায় বসালেন শুভেন্দু অধিকারী। একই দিনে জোড়া কমিশন গঠন করেছেন তিনি, যা ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। কী উঠে আসবে কমিশনের রিপোর্টে, প্যান্ডোরার বক্স খুলবে কি না, কোনও হেভিওয়েটের নাম উঠে আসবে কি না, জল্পনা শুরু হয়েছে।
দুর্নীতি-সিন্ডিকেট-তোলাবাজির তদন্তে যে কমিশন গঠন করা হয়েছে, তার নেতৃত্বে রয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। ওই কমিশনের সদস্য সচিব করা হয়েছে রাজ্যের সিনিয়র IPS অফিসার কে জয়রামনকে। পুলিশ মহলে সৎ ও অত্য়ন্ত কড়া IPS অফিসার হিসাবে পরিচিত কে জয়রামন। শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন পর্ষদের দুর্নীতিকাণ্ডের তদন্তে নেমে ২০১৩-র নভেম্বর শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন পর্ষদের প্রাক্তন CEO, IAS অফিসার গোদালা কিরণ কুমারকে গ্রেফতার করেছিলেন শিলিগুড়ির তৎকালীন পুলিশ কমিশনার কালিয়াপ্পন জয়রামন।

একজন IAS অফিসারকে গ্রেফতারের ঘটনায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল রাজ্য়ে। ক্ষুব্ধ হয়েছিল নবান্ন। সূত্রের খবর, নবান্নের অনুমতি না নিয়েই IAS কিরণ কুমারকে গ্রেফতার করায়, IPS অফিসার জয়রামনকে সঙ্গে সঙ্গে পদ থেকে সরিয়ে কম্পালসারি ওয়েটিংয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। শুধু জয়রামনকে সরানোই নয়, সে সময় ধৃত কিরণ কুমারের জামিনেরও বিরোধিতা করেননি সরকারি আইনজীবী। তারপর থেকে বিশেষ কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আর দেওয়া হয়নি আইপিএস অফিসার কালিয়াপ্পন জয়রামনকে। কিন্তু, নির্বাচন ঘোষণা হতেই উত্তরবঙ্গের ADG সুকেশ কুমার জৈনকে সরিয়ে, তাঁরা জায়গায় কে জয়রামনকে দায়িত্ব দেয় নির্বাচন কমিশন।
অন্যদিকে, মহিলাদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগের তদন্তে আরও একটি কমিটি গড়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই কমিটির চেয়ারপার্সন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্য়ায়। আর সদস্য সচিব করা হয়েছে IPS অফিসার দময়ন্তী সেনকে। শুভেন্দু বলেন, "চেয়ারপার্সন করা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শ্রীমতি সমাপ্তি চ্য়াটার্জিকে। তিনি চেয়ারপার্সন হয়েছেন মহিলা নির্যাতন সংক্রান্ত বিষয়গুলি দেখার জন্য। সেখানে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করবেন। পুরনো পেন্ডিং GD বা FIR যেগুলো পড়ে আছে সেগুলো সংগ্রহ করবেন। এবং NHRC, SC কমিশন, ST কমিশন, OBC কমিশন, মাইনোরিটি কমিশন, শিশু ও নারী অধিকার কমিশন রাজ্য ও কেন্দ্রের যত রেকমেন্ডশন এখনও অবধি পড়ে রয়েছে, সেগুলো ওঁরা প্রাথমিকভাবে নিয়ে নেবেন।"
সংকল্প পত্রে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যেসব ক্ষেত্রে নারীরা তাদের ওপর হওয়া অত্যাচারের সুবিচার পাননি, সেইসমস্ত মামলা পুনরায় খোলা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী, যথাযথ ও দ্রুত আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। এই অবস্থায় এদিন মহিলাদের ওপর অত্যাচারের ঘটনার তদন্তে কমিশন গড়ে দেওয়ার পর, সেই কমিশন কীভাবে কাজ করবে, তারও একটা রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে যে মামলাগুলি রয়েছে, সেই নির্দিষ্ট কয়েকটি মামলা ছাড়া সব অভিযোগের তদন্তই করবে এই কমিশন। এমনকী চার্জশিট দায়ের হয়ে গেলেও, প্রয়োজন হলে নতুন করে মামলার তদন্ত শুরু হবে।






















