Coaching Center Fire: ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! কোচিং সেন্টারে আগুন, প্রাণ বাঁচাতে প্রথম তলা থেকে ঝাঁপ পড়ুয়াদের, মৃত অন্তত ১৫
লখনউয়ের আলিগঞ্জে একটি কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ আগুন। প্রাণ বাঁচাতে প্রথম তলা থেকে ঝাঁপ দেন বহু পড়ুয়া। ঘটনায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকাজ চলছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

লখনউ: উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় সোমবার বিকেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। একটি বাণিজ্যিক ভবনে থাকা কোচিং সেন্টারে আচমকা আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কে বহু পড়ুয়া ও কর্মী আটকে পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই প্রথম তলা থেকে ঝাঁপ দেন। আগুনটি এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জ্বলছিল এবং নিয়ন্ত্রণে আনার পর অন্তত ১5টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় অন্তত ১5 জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের অধিকাংশই ছাত্রছাত্রী। এছাড়াও একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত বাড়িটিতে কোচিং সেন্টার ছাড়াও একটি গেমিং জোন, পোষা প্রাণীর সরঞ্জামের দোকান, পেট ক্লিনিক এবং অন্যান্য দোকান রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আগুন লাগার পর গোটা ভবন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ জানলা দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কয়েকজন ছাত্র প্রাণ বাঁচাতে প্রথম তলা থেকে ঝাঁপ দিচ্ছেন।
দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। উদ্ধারকর্মীদের ভবনের একটি অংশ ভেঙে ভিতরে ঢুকে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করতে হয়। পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। উদ্ধারকার্য তদারকি করতে উপ-মুখ্যমন্ত্রী পাঠকও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিজের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে লখনউ ফিরে আসেন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কীভাবে আগুন ছড়ায়?
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের আলিগঞ্জের একটি তিনতলা বাণিজ্যিক ভবনে এই ভয়াবহ আগুন লাগে। বিল্ডিংটিতে কোচিং সেন্টার, অ্যানিমেশন ইনস্টিটিউট, পেট শপ ও অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ছিল। আগুন লাগার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে শর্ট সার্কিট বা কোনও বৈদ্যুতিক ত্রুটির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে আটটি দমকল ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরে মোট ১৪টি দমকলের গাড়ি ও একটি হাইড্রোলিক প্ল্যাটফর্ম ভেহিকল উদ্ধারকাজে নামে। ঘন ধোঁয়ার কারণে ভবনের ভিতরে প্রবেশ করা সম্ভব হচ্ছিল না। উদ্ধারকারীরা ভবনের পিছনের একটি দেওয়াল ভেঙে ভিতরে ঢুকে আটকে পড়া মানুষদের বের করেন।
পড়ুয়াদের ঝাঁপ দেওয়ার ভয়াবহ দৃশ্য
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে আসায় কয়েকজন পড়ুয়া প্রথম তলা থেকে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হন। স্থানীয় বাসিন্দারাই অনেককে উদ্ধার করেন। কয়েকজনের হাড় ভেঙে যাওয়ার খবরও পাওয়া গিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মৃতদের পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন।
Before You Go
Suvendu Adhikari: '৫০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে, যাঁরা কর্মসংস্থান তৈরিতে কাজ করবে',বললেন মুখ্যমন্ত্রী























