US-India Relations: ‘খ্রিস্টানদের উপর আক্রমণ…’, ভারতের সমালোচনা, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে হুঁশিয়ারি আমেরিকার কংগ্রেস সদস্যের
FCRA Amendment Row: ২০১০ সালের FCRA সংশোধন করতে সংসদে প্রস্তাব পেশ করেছে মোদি সরকার। সেই নিয়ে এবার হুঁশিয়ারি আমেরিকার কংগ্রেসের সদস্যের।

নয়াদিল্লি: শুল্ক নিয়ে টানাপোড়েনের পর ফের ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে দূরত্ব বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। এবার বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন অর্থাৎ FCRA-কে ঘিরে টানাপোড়েন শুরু হল। ওই আইন সংশোধনের প্রস্তাব পেশ করেছেন কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। আর তাতেই আমেরিকার কংগ্রেসের সদস্য রাইলি মুর প্রকাশ্যে ভারতকে নিশানা করলেন। তাঁর দাবি, FCRA-র নামে সরাসরি খ্রিস্টানদের উপর আঘাত হানা হচ্ছে। ভারত এবং আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপরও এই আইন প্রভাব ফেলতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। (FCRA Amendment Row)
২০১০ সালের FCRA সংশোধন করতে সংসদে প্রস্তাব পেশ করেছে মোদি সরকার। আনা হয়েছে FCRA সংশোধনী বিল ২০২৬। বাদল অধিবেশনে সেই নিয়ে জোর তর্কবিতর্ক চলছে। সেই নিয়েই ভারত সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাইলি। FCRA সংশোধনী বিলকে তিনি ‘খ্রিস্টানদের উপর সরাসরি আঘাত’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, এই আইন পাস হলে গির্জা এবং ধর্মীয় দাতব্য সংস্থাগুলির উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে পারে সরকার। (US-India Relations)
ভারতে খ্রিস্টধর্মের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরেছেন রাইলি। মোদি সরকারের সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘জিশু খ্রিস্টের পুনরুত্থানের মাত্র কয়েক দশক পর সন্ত টমাস মালাবার উপকূলে পৌঁছন। সেই থেকেই ভারতে খ্রিস্টানদের উপস্থিতি। তার পরও ভারতের সংসদ FCRA সংশোধনী বিল পাস করার কথা ভাবছে, যাতে গির্জা এবং ধর্মীয় দাতব্য সংস্থাগুলির উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে পারে সরকার’।
Christians have been in India since St. Thomas the Apostle traveled to the Malabar Coast just decades after the resurrection of our Lord Jesus Christ.
— Rep. Riley M. Moore (@RepRileyMoore) August 4, 2026
But despite this long Christian history, India’s Parliament is considering amending Foreign Contribution Regulation Amendment…
আরও পড়ুন: চাঁদের বুকে আছড়ে পড়বে রকেট, ঘটবে তীব্র বিস্ফোরণ, আর কিছু ক্ষণের মধ্যেই, দেখা যাবে পৃথিবী থেকেও
এর পর খানিকটা হুঁশিয়ারির সুরেই রাইলি লেখেন, ‘এটা খ্রিস্টানদের উপর সরাসরি আক্রমণ। এভাবে যদি বিল নিয়ে যাওয়া হয়, ভারতের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও ভাবতে হবে’।
FCRA বেসরকারি সংস্থা, দাতব্য সংস্থা, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সংগঠনের বিদেশি অনুদান গ্রহণ এবং তার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে যে আইন রয়েছে দেশে, তাতে বিদেশি অনুদান গ্রহণের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে নথিভুক্তিকরণ জরুরি। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সেই রেজিস্ট্রেশনের পুনর্নবীকরণ জরুরি। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত ভারতে ১৪৪৪৯টি সংস্থার FCRA রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়েছে ২২৪৯৮টি সংস্থার। ১৫২১২ সংস্থার রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ পেরিয়ে গিয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নথিভুক্ত সংস্থাগুলি ৫৫৭৪১ কোটি টাকার অনুদান পেয়েছে বিদেশ থেকে।
কিন্তু FCRA আইনে যে সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্র, তাতে বলা হয়েছে, সরকার বিশেষ কর্তৃপক্ষ ঠিক করে দেবে। তাদের হাতে ক্ষমতা থাকবে কোনও সংস্থার রেজিস্ট্রেশন বাতিল, পুনর্নবীকরণের। ওই সংস্থাগুলির বিদেশি অনুদান এবং সেই টাকা ব্যবহার করে সৃষ্ট সম্পদের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও তাদের হাতে থাকবে। সংশোধনী প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী দুই অর্থবর্ষে যে সমস্ত সংস্থার প্রাপ্ত বিদেশ অনুদান এবং ব্যবহার্য অর্থের পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকার কম, তারা রেজিস্ট্রেশন পুনর্নবীকরণের যোগ্য নয়। পাশাপাশি, বিদেশে অনুদান হস্তান্তরণের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি, প্রকল্প, কাজকর্ম, ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করতে হবে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র।
অতিরিক্ত বিধানগুলোর মধ্যে রয়েছে অন্য কোনো সংস্থায় বৈদেশিক অনুদান হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ, বিদেশ থেকে প্রাপ্ত অর্থ গ্রহণ ও ব্যবহারের জন্য কঠোর সময়সীমা এবং প্রকল্প, কার্যক্রম, ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্যের প্রকাশ বা বিবরণ প্রদানের ক্ষেত্রে বর্ধিত বাধ্যবাধকতা। সেই নিয়েই বিতর্ক। আইন সংশোধন করে সরকা বিভিন্ন সংস্থার এত দিনের সম্পদের উপর আসলে নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চাইছে বলে অভিযোগ। বিশেষ করে কেরলের মতো রাজ্য যেখানে বিভিন্ন খ্রিস্টান সংগঠন বিদেশি অনুদানের উপর নির্ভরশীল, তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সরকার যদিও স্বচ্ছতার কথা বলছে।























