Iran US Conflict : ভয়ঙ্কর! একের পর এক ভয়াবহ বোমা নিক্ষেপ, ইরানের জনবহুল শহরে মার্কিন হামলা? কীসের ভিডিও শেয়ার করলেন ট্রাম্প?
রাতের আকাশে কমলা আলোর ঝলকানি। যুদ্ধের ভয়াবহ ভিডিও শেয়ার করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রাতের অন্ধকারে একের পর এক বিস্ফোরণ (US Airstrike Iran)। বিশাল অগ্নিকাণ্ড। রাতের আকাশে কমলা আলোর ঝলকানি। যুদ্ধের ভয়াবহ ভিডিও শেয়ার করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও লিখলেন না, কোথাকার ভিডিও এটি। তবে এই ভিডিওই (Isfahan Blast Video) স্পষ্ট প্রমান করে যুদ্ধের ভয়াবহতা ক্রমেই বাড়ছে। আর বিপন্ন হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের প্রাণ।
কী ঘটেছে ইসফাহানে?
সংবাদ মাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি, এই ভিডিওটি আসলে ইরানের ইসফাহানে (US Israel Strike Iran) । যদিও ট্রাম্প ভিডিওটির প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করেননি, কিন্তু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দাবি করছে—এটি ইরানের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার সাম্প্রতিকতম ভিডিও। বিভিন্ন সূত্রে দাবি, ইসফাহানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্রের কাছে ইরানের একটি বড় অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে, সেটিকে টার্গেট করেই এই ভয়াবহ হামলা। ইরানের এই শহরে প্রায় ২৩ লক্ষ মানুষের বাস। আর এখানেই রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। তাহলে কি সেটি মার্কিন হানায় তছনছ হয়ে গেল ? এই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
The Wall Street Journal-এর প্রতিবেদনে দাবি, মার্কিন বাহিনী প্রায় ২০০০ পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে । এই ধরনের বোমা সাধারণত ব্যবহার করা হয়, খুব কঠিন কংক্রিটের নিচে থাকা লক্ষ্যবস্তুকে টার্গেট করলে । এক্ষেত্রেও সম্ভবত মার্কিন বাহিনীর তেমনটাই উদ্দেশ্য ছিল। কারণ, আমেরিকার দাবি, ইরান তাদের প্রায় ৫৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ইসফাহানের একটি ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে সরিয়ে রেখেছে। আমেরিকার দাবি, ইরান তাদের প্রায় ৫৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ইসফাহানের একটি ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে সরিয়ে রেখেছে। গত সোমবারই (৩০ মার্চ) ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার কোনো চুক্তি না হয়, তবে ইরানের সব জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো, এমনকি পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করা হবে। জলের সরবরাহ ব্যবস্থাও শেষ করে দেওয়া হবে।’
মার্কিন বাহিনীর এক অফিসার এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হামলায় বিপুল পরিমাণ ‘penetrator munitions’ ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে মূল বিস্ফোরণের পর একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। সবকটি বিস্ফোরণেরই অভিঘাত মারাত্মক। এই বিস্ফোরণের ফলে চারিদিকে আগুনের গোলা ছিটকে পড়ে, তৈরি হল শক্তিশালী শকওয়েভ।
বাড়ছে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা
মাসাধিক কাল ধরে চলছে আরান-ইজরায়েল-আমেরিকার সংঘাত। এই হামলার ফলে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা (Iran US Conflict ) আরও বেড়ে গেছে। যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে (Middle East War) পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। এদিকে পাকিস্তান, মিশর, সৌদি আরব এবং তুরস্ক কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে বৈঠকে বসেছে বলে সংবাদমাধ্যমে দাবি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আর তা যাতে কোনওভাবেই সম্ভব না হয়, তাই এই আক্রমণ, সাফাই দিচ্ছেন ট্রাম্প। এখন ইসফাহানের এই বিস্ফোরণ ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা শুধু ইরান বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়—পুরো বিশ্বের জন্যই উদ্বেগের কারণ। সামরিক হামলা, পাল্টা হামলা এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।






















