US Delta Force: ভোররাতে ঢুকে অক্ষত বেরিয়েও এলেন সকলে, ভেনিজুয়েলায় রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালাল আমেরিকার Delta Force
US Attacks Venezuela: শনিবার ভোররাতে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে পর পর বোমা নিক্ষেপ করা হয়।

নয়াদিল্লি: ভোররাতে পর পর বোমাবর্ষণ। অন্য দেশে ঢুকে প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্টলেডিকে বন্দি। ভেনিজুয়েলায় কখন, কোনও উপায়ে এত বড় অভিযান চালাল আমেরিকা, এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না অনেকেই। তবে জানা গিয়েছে, আমেরিকার সেনাবাহিনীর Delta Force এই রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়েছে। আমেরিকার সেনাবাহিনীর বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষিত একটি বাহিনী, যারা এই ধরনের অভিযান চালাতে দক্ষ। (US Attacks Venezuela)
শনিবার ভোররাতে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে পর পর বোমা নিক্ষেপ করা হয়। পর পর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে চারিদিক। লোকজন বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে দেখান, আকাশে চক্কর দিচ্ছে একঝাঁক যুদ্ধবিমানও। দেশের মূল সামরিক ঘাঁটির উপরও যুদ্ধবিমান ঘুরতে দেখা যায়। এর বেশ খানিক ক্ষণ পর ট্রাম্পই ঘোষণা করেন যে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করা হয়েছে। ভেনিজুয়েলা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁদের। (US Delta Force)
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনিজুয়েলা থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো, ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দি করে আমেরিকার Delta Force. হেলিকপ্টারে তুলে তাঁদের নিয়ে গিয়ে তোলা হয় আমেরিকার যুদ্ধ জাহাজ USS IWO Jima-তে। সেখানথেকে সটান তাঁদের নিউ ইয়র্ক নিয়ে যাওয়া হবে। ট্রাম্প বলেন, "(মাদুরো) একটি দুর্গে ছিলেন। ভাল কথা হল, কারও প্রাণ যায়নি। কয়েক জন আঘাত পেয়েছে। তবে সকলেই ফিরে এসেছে। একেবারে চাঙ্গা আছে তারা।" তিনি গোটা অভিযান একেবারে সরাসরি দেখেন, একেবারে সিনেমার মতো মনে হচ্ছিল বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
একেবারে নিখুঁত ভাবে গোটা অভিযান সম্পন্ন করে আমেরিকার Delta Force. ১৯৭৭ সালে এই Delta Force-এর সূচনা ঘটে আমেরিকায়। নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে শুরু হয় যাত্রা। পৃথিবীর অন্যতম দক্ষ বাহিনী এই Delta Force. কাকপক্ষী টের পায় না, তেমন সন্তর্পণে অভিযান চালানোর জন্য পরিচিত তাঁরা। আমেরিকার সেনাবাহিনীর Special Operations Command-এর দ্বারা পরিচালিত হয় Delta Force. তারা একমাত্র Joint Special Operations Command-এর কাছেই জবাবদিহি করতে বাধ্য। Delta Force 1st Special Forces Operational Detachment-Delta নামেও পরিচিত।
ব্রিটেনের 22nd Special Air Service Regiment বা SAS-এর অনুকরণেই Delta Force-এর সূচনা। কর্নেল চার্লস বেকউইথ Delta Force-এর রূপকার। Delta Force-এর সমস্ত অভিযানই গোপন রাখা হয়। যে কারণে Army Compartmented Elements, Combat Applications Group, Delta, এমন পৃথক নামেও অভিহিত করা হয় তাদের।
অতি ঝুঁকিপূর্ণ, সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ অভিযানেই পাঠানো হয় Delta Force-কে। সন্ত্রাসদমন অভিযান, পণবন্দিদের উদ্ধার, নিকেশ অভিযান, সন্ত্রাসবাদীদের হুমকির মোকাবিলা এবং বিশেষ ধরনের অভিযানেই পাঠানো হয় তাদের। হাতাহাতি লড়াই থেকে নিপুণ ভাবে অস্ত্র চালানো, বিস্ফোরক ব্যবহার, নজরদারি এড়িয়ে কোথাও প্রবেশ করা, বহুদূর থেকে লক্ষ্যে আঘাত হানায় সিদ্ধহস্ত এই Delta Force. বিমান, ট্রেন, জাহাজ, যে কোনও ধরনের গাড়ি চালানো শেখানো হয়। যে কোনও পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ এবং পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলাই এদের কাজ।
এই Delta Force চারটি স্কোয়াড্রনে বিভক্ত, যার মধ্যে আবার তিনটি করে ভাগ রয়েছে, Recce/Sniper Troop, দু’টি Direct Action/Assault Troops. Delta Force-এর অধিকাংশ অভিযানই গোপন রাখা হয়। এখনও পর্যন্ত হাতেগোনা কিছু অভিযানের কথাই জানা গিয়েছে। ২০০১ সালে Operation Prime Chance চালায় তারা, যার আওতায় ওসামা বিন লাদেনের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। পাশাপাশি, বাগদাদে রকেট বর্ষণ, ইরাক থেকে পণবন্দিদের উদ্ধার, সোমালিয়ায় অপারেশন গথিক সার্পেন্ট, গ্রেনেডায় অপারেশন আর্ডেন্ট ফিউরি, ISIS নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির খোঁজে তল্লাশি অভিযানেও শামিল ছিল Delta Force.
আমেরিকার সেনায় কর্মরত বাছাই করা লোকজনই Delta Force-এ জায়গা পান। তিন-চার সপ্তাহ ধরে চলে বাছাই প্রক্রিয়া। হাতে গোনা কিছু মানুষই শেষ পর্যন্ত সফল হন। প্রশিক্ষণপর্বও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য়। ৩৫ পাউন্ড ওজনের রুকস্যাক পিঠে নিয়ে ১৮ মাইল নাইট মার্চ করানো হয়। বন্ধুর এলাকায় ৪৫ পাউন্ড ওজনের রুকস্যাক নিয়ে ৪০ মাইল মার্চ করানোর রীতিও আছে। যাঁরা তাতে সফল হন, তাঁরা অভিযান সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ পাওয়ার যোগ্য হন, যা ছ’মাস ধরে চলে।






















