UP News: শিশু-নাবালকের ওপর চরম নৃশংসতা, উত্তরপ্রদেশের দম্পতিকে ফাঁসির সাজা আদালতের
Uttar Pradesh News: দোষীদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিবিআই নগদ ৮ লক্ষ টাকা, ১২টি মোবাইল ফোন, দুটি ল্যাপটপ, একটি হার্ড ডিস্ক এবং ছয়টি পেনড্রাইভ উদ্ধার করেছে।

উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) এক দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ৩৩ জন শিশু ও নাবালককে যৌন নির্যাতনের জন্য ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে আদালত। জানা যাচ্ছে, এই ৩৩ জনের মধ্যে কয়েকজনের বয়স ছিল ৩ বছরেরও কম। সেই নির্যাতনের ভিডিও তোলা এবং ডার্ক ওয়েবে শিশু পর্নোগ্রাফির ছবি ও ভিডিও বিক্রির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
তদন্ত মারফত জানা গেছে, দোষীরা হল রাম ভবন এবং দুর্গাবতী। রাম ভবন উত্তরপ্রদেশের সেচ দফতরের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্মরত ছিল। ২০১০ থেকে ২০২০ সাল - টানা ১০ বছর উত্তরপ্রদেশের বান্দা এবং চিত্রকূট অঞ্চলে রীতিমতো সক্রিয় ছিল এই দম্পতি। যুগলে কীভাবে দুষ্কর্ম চালাত? তদন্তকারীদের দাবি, রাম ভবন শিশুদের অনলাইনে ভিডিও গেম খেলার কিংবা টাকা অথবা উপহার দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসত এবং তাদের ওপর অত্যাচার করত। এই কাজে তাকে সম্পূর্ণ সহায়তা করত তার স্ত্রী। পকসো আইনে ওই দম্পতিকে দোষী সাব্যস্ত করে তাদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বান্দার এক আদালত।
দোষীদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিবিআই (CBI) নগদ ৮ লক্ষ টাকা, ১২টি মোবাইল ফোন, দুটি ল্যাপটপ, একটি হার্ড ডিস্ক এবং ছয়টি পেনড্রাইভ উদ্ধার করেছে। বাজেয়াপ্ত ডিভাইসগুলির ফরেনসিক পরীক্ষায় বিপুল পরিমাণে শিশু নির্যাতনের ছবি-ভিডিও মিলেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই ভিডিও এবং ছবিগুলি এনক্রিপ্ট করা প্ল্যাটফর্ম এবং ডার্কনেট-এ প্রচুর টাকার বিনিময়ে দেশ-বিদেশের নাগরিকদের কাছে বিক্রি করেছে এই দম্পতি। এমনকী তদন্ত চলাকালীন সাক্ষীদের প্রভাবিত করার মতো অভিযোগও উঠেছিল দুর্গাবতীর বিরুদ্ধে। এই মামলায় দিল্লির একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কয়েকবছর আগে বান্দা, চিত্রকূট-সহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক শিশুর উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। সেই সূত্র ধরেই তদন্তের ভার নেয় খোদ সিবিআই। তদন্তে সিবিআইয়ের হাতে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বান্দার এই দম্পতির হদিশ পান আধিকারিকরা। এরপর এই দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের কয়েক মাসের মধ্যেই, ২০২১ সালে রাম ভবন এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ২০২৩ সালে এই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় মোট ৭৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, নির্যাতিতদের অনেকেই এখনও মানসিকভাবে চূড়ান্ত বিপর্যস্ত। কারও কারও গোপনাঙ্গে ক্ষতের চিহ্ন মিলেছে। কেউ কেউ এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অত্যাচারের জেরে কারও কারও চোখও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পকসো (POCSO) আদালত রাজ্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে নির্যাতিতদের চিকিৎসা, থাকার ব্যবস্থা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়াও, আদালত কর্তৃপক্ষকে নির্যাতিতদের পরিবারগুলিকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে আদালত বলেছে মামলাটি ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’।























