Sahara Desert: মরু সাহারায় তুষারপাত, মুহূর্তে বদলে গেল বালুকারাশি, তপ্তভূমিতে একের পর অস্বাভাবিক ঘটনা
Sahara Desert Snowfall: এমনিতে সাহারা মরুভূমির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৫৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে থাকে।

নয়াদিল্লি: পৃথিবীর বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমিতে একের পর এক আজব ঘটনা ঘটেই চলেছে। ভারী বৃষ্টিতে বানভাসি হওয়ার পর, ভারী তুষারপাত হল সেখানে। বালুকাময় সাহারা এখন শ্বেতশুভ্র রূপ ধারণ করেছে। সেই ছবি ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। (Sahara Desert Snowfall)
এমনিতে সাহারা মরুভূমির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৫৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে থাকে। কিন্তু বর্তমানে তাপমাত্রা ০ ডিগ্রির নীচে নেমে গিয়েছে বলে খবর। আর তাতেই তুষারপাত ঘটেছে সাহারার বুকে। তুষারের চাদরে ঢাকা সাহারার ছবি তুলেছেন চিত্রগ্রাহক করিম বুশেটা। তিনি জানিয়েছেন, তাপমাত্রা -২ হওয়াতেই তুষারপাত হয়েছে। (Sahara Desert)
গত ৪২ বছরে এই নিয়ে পঞ্চমবার সাহারার বালুকারাশিতে গুঁড়ো গুঁড়ো তুষার পাওয়া গেল। এর আগে, ১৯৭৯, ২০১৬, ২০১৮, ২০২১ সালেও তুষারপাত হয় সাহারায়। এবছর ১৭ জানুয়ারি উত্তর আলজিরিয়ার অংশ ‘এইন সেফরা’য় তুষারপাত হয়েছে। ‘এইন সেফরা’ ‘সাহারার প্রবেশদ্বার’ হিসেবেও পরিচিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা ৯১০ মিটার। অ্যাটলাস পর্বতমালা ঘিরে রেখেছে।
সেখান থেকে যে ছবি ও ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে মরুভূমিতে তুষারপাত উপভোগ করতে দেখা গিয়েছে অনেককে। গুঁড়ো তুষার হাতে তুলে নেন কেউ কেউ। কেউ কেউ আবার বালির ঢেউইয়ের উপর জমে থাকা তুষাররাশির উপর দিয়ে গড়িয়ে নেমে আসেন। ওই ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।
সাহারা মরুভূমিতে তুষারপাত হয়েছেন জেনে চমকে উঠেছেন অনেকেই। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ দিক থেকে উত্তর আফ্রিকার দিকে ধেয়ে আসা শীতল বায়ুপ্রবাহই এই তুষারপাতের জন্য দায়ী। শীতকালে ইউরোপ এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে শীতল ও শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ ধেয়ে আসে ওই অঞ্চলে। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে শৈত্যপ্রবাহের জেরে উত্তর আলজিরিয়ার তাপমাত্রাও পৌঁছে যায় হিমাঙ্কের কাছাকাছি। পাশাপাশি, আটলান্টিক মহাসাগর থেকেও আর্দ্র বাতাস স্থলভাগের দিকে ধেয়ে আসে। সেই আর্দ্র এবং শীতল বাতাস পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হলে তুষারপাত ঘটতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
বিজ্ঞানীদের মতে, সাহারা মরুভূমি সারাবছর উষ্ণ থাকে না। শীতকালে তাপমাত্রা অনেকটাই নেমে যায়। বিশেষ করে উঁচু এলাকাগুলিতে বেশ ঠান্ডা পড়ে। ঠান্ডা তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা, এই দুয়ের সহযোগে তুষারপাত হতে পারে। অ্যাটলাস পর্বতমালা থাকার দরুণ আর্দ্র বাতাস উঁচু দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়। এর ফলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বরফের স্ফটিক তৈরি হয়, যা ঠান্ডার সময় তুষারের আকারে ঝরে পড়ে।
সাহারায় তুষারপাতের নেপথ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কী ভূমিকা, সেই নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। সাহারায় তপষারপাতের সঙ্গে সরাসরি তার সংযোগ না পাওয়া গেলেও, বিজ্ঞানীদের একাংশ বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে উষ্ণ হয়ে ওঠা মেরু অঞ্চল থেকে বাতাসের গতিপ্রকৃতি বদলে যাচ্ছে। ফলে কিছু জায়গা অস্বাভাবিক রকম ভাবে উষ্ণ হয়ে উঠছে, কিছু জায়গা আবার প্রচণ্ড ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে। উভয় ধরনের চরম আবহাওয়া দেখা যাচ্ছে ইদানীং কালে। ফলে মরুভূমিতে তুষারপাতের মতো বিরল ঘটনাও এখন চোখে সয়ে যাচ্ছে।























