Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথ গেমসের দ্বিতীয় দিনেই ভারতের ঝুলিতে পদক, ব্রোঞ্জ ঝান্ডু কুমারের
Commonwealth Games: অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠায় একসময় বাবার সাথে রাস্তায় আলু-পেঁয়াজ বিক্রি করতেন ঝান্ডু। বিহারের নালন্দা জেলার হরনৌত গ্রামের বাসিন্দা তিনি।

গ্লাসগো: ভারতের হয়ে কমনওয়েলথ গেমসে প্রথম পদক এল প্যারালিম্পিক্স থেকে। প্যারা-পাওয়ারলিফটার ঝান্ডু কুমার দেশের জন্য ব্রোঞ্জ পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা-পাওয়ারলিফটিং ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতে ভারতের পদকের খাতা খোলেন ঝান্ডু। ২০২৮ প্যারালিম্পিক্সে পদক জেতাই মূল লক্ষ্য ঝান্ডু কুমারের। তার আগে কমনওয়েলথ গেমস থেকে এই পদক জয় নিশ্চিতভাবে আত্মবিশ্বাসী বাড়াবে ঝান্ডুর।
অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠায় একসময় বাবার সাথে রাস্তায় আলু-পেঁয়াজ বিক্রি করতেন ঝান্ডু। বিহারের নালন্দা জেলার হরনৌত গ্রামের বাসিন্দা তিনি। করোনার পর পরিবার চালাতে এবং খেলার খরচ তুলতে তিনি ই-রিকশাও চালিয়েছেন। ২০১৭ সালে প্রথমে প্যারা-অ্যাথলেটিক্সে (শট পুট ও ডিসকাস থ্রো) ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরবর্তীতে কোচদের পরামর্শে প্যারা-পাওয়ারলিফটিংয়ে মনোনিবেশ করেন।
সাইয়ে যোগ দিয়েছিলেন ঝান্ডু। সেখানেই এক আলাপচারিতায় ঝান্ডু বলেছিলেন, "এত আনন্দ হচ্ছে যে, গতরাত থেকে ঘুমই আসেনি। শুয়ে থাকলেও ঘুম আসে না।" তবে তিনি শেষ প্রচেষ্টায় ব্যর্থতার জন্য কোনও আফসোস করছেন না। তিনি বলেছেন, "শুরুর ওজন আমি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম কারণ যদি তাতেই ব্যর্থ হতাম, তাহলে আত্মবিশ্বাস ভেঙে যেত। দ্বিতীয় ওজন পদক নিশ্চিত করার জন্য ছিল এবং তৃতীয়টি সোনা (স্বর্ণ) জেতার জন্য। প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং তাড়াহুড়ো করে শ্বাস নেওয়ার কারণে আমি সোনা জিততে পারিনি।"
View this post on Instagram
ঝান্ডুর সংগ্রাম খেলার মাঠের অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। পাঁচ বছর বয়সে পোলিও তাঁকে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী করে তোলে। তিনি বলেছেন, 'আমাকে বসে বসে হাঁটতে হতো। লোকেরা কটাক্ষ করত যে, এখন তো এ প্রতিবন্ধী হয়ে গিয়েছে, শেষ পর্যন্ত কী করবে?'তাঁর নামের গল্পটিও ততটাই বেদনাদায়ক। পোলিওর চিকিৎসায় পরিবার তাদের সমস্ত সঞ্চয় খরচ করে ফেলেছিল। তখন বাবার কিছু পরিচিত ব্যক্তি কটাক্ষ করে বলতেন, আপনার ছেলে সব ঝান্ডু করে দিয়েছে, সব টাকা শেষ করে দিয়েছে। এই কটাক্ষই ধীরে ধীরে তাঁর নাম হয়ে ওঠে ঝান্ডু। তিনি একসময় নিজের নাম পরিবর্তন করে অবিনাশ কুমার রাখার চেষ্টাও করেছিলেন, কিন্তু সরকারি দফতরে কর্মকর্তারা নথি দেখে বারবার ‘ঝান্ডু কুমার’ বলে ডাকতেন এবং হাসতে শুরু করতেন।























