Akash Deep: বাংলা থেকে শুরু হয়েছিল ইংরেজ বোলারদের শাসনের নকশা, ব্যাট স্পিড আর তিন মন্ত্রে ঝলমলে আকাশ
India vs England Test: ওভালে ভারত জিতবে কি না, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তা নির্ধারিত হয়ে যাবে। তবে ভারত সিরিজে পিছিয়ে থেকেও সমতা ফেরালে নেপথ্যে যে থেকে যাবে এক রোদ ঝলমলে আকাশ, নিশ্চিত তাঁর দুই গুরুই।

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: সাহস, নিষ্ঠা আর আত্মবিশ্বাস। এই তিনটি গুণ যার যার মধ্যে থাকবে, সে এগিয়ে যাবেই...
ওভালে আকাশ দীপ (Akash Deep) যখন ইংরেজ বোলিংকে দিশাহারা করে দিয়ে ডাকাবুকো হাফসেঞ্চুরি করছেন, যআ টেস্টে তাঁর প্রথম পঞ্চাশ, তখন কয়েক হাজার মাইল দূরে, কলকাতায় বসে কথাগুলো বলছিলেন ভারতীয় দলের এক প্রাক্তন ক্রিকেটার। ও হ্যাঁ, বক্তাকে আবার বাংলার সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার বলা হয়। যাঁর ক্রিকেট কেরিয়ারের মন্ত্রই ছিল, লড়কে লেঙ্গে। কঠিন পরিস্থিতি থেকে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে দলকে বিপন্মুক্ত করার একাধিক নজির রয়েছে যাঁর বুকপকেটে।
তিনি, লক্ষ্মীরতন শুক্ল। বাংলা ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক। রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার পর এখন বাংলার হেড কোচ। আকাশ দীপের উত্থানের নেপথ্যে অন্যতম কারিগর। ওভালে গাস অ্যাটকিনসন, জশ টাংদের বিরুদ্ধে নৈশপ্রহরী হিসাবে নেমে ৬৬ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেছেন ডানহাতি পেসার আকাশ দীপ। যিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেন বাংলার হয়ে। ১২টি বাউন্ডারিতে সাজানো ইনিংস দেখে বিশেষজ্ঞরা মুগ্ধ। বলাবলি হচ্ছে, ভারত যদি এই টেস্ট ম্যাচ জেতে, তা হলে টার্নিং পয়েন্ট হবে আকাশের ইনিংস।
যদিও লক্ষ্মীরতন বিস্মিত নন। পেসার আকাশের ব্যাট হাতে দক্ষতা যিনি দেখেছেন। গড়েছেন নিজে হাতে। লক্ষ্মী বলছিলেন, 'আকাশকে গত চার বছর ধরে খুব কাছ থেকে দেখছি। আমরা বাংলার কোচ হওয়ার পর এরা টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। বাংলার নেটে ব্যাটাররা যদি সাড়ে তিন ঘণ্টা-চার ঘণ্টা ব্যাটিং করে, তাহলে অলরাউন্ডার বা বোলাররাও দেড় ঘণ্টা ব্যাটিং করার সুযোগ পায়। বাংলার নেটে ব্যাটিং করার ফলটা ইংল্যান্ডে গিয়ে পেল।'
ইংল্যান্ড মানেই বল সারাদিন স্যুইং করবে। যাতে ঘায়েল হয় নামী ব্যাটাররাও। সেখানে বোলার আকাশের এই দাপট? লক্ষ্মীরতন বললেন, 'শুধু ইংল্যান্ডের আবহাওয়ায় বলে নয়, বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে টেস্টে রান করতে হলে ক্রিকেটের প্রাথমিক দিকগুলো মজবুত হতে হয়। আকাশের সেই ভিত ভারতীয় দলে গিয়ে তৈরি হয়নি। সেটা বাংলার হয়ে খেলে তৈরি হয়েছে। বাংলার হয়ে অনূর্ধ্ব ২৩ ক্রিকেটেও নজর কেড়েছিল আকাশ।' যোগ করলেন, 'শুধু ওকে নয়, বাংলার সব বোলারকেই নেটে লম্বা ব্যাটিং করাই। আমি কোচ হওয়ার পর সকলে সমান সুযোগ পেয়েছে। ব্যাটার ও বোলারদের মধ্যে বিভেদ করিনি। কোচ হিসাবে সকলকে সুযোগ দেওয়াই আমাদের কাজ। অফস্টাম্পের বাইরে টানা চ্যানেল বোলিং করানোর ফলও পাচ্ছে ওরা। আকাশ থাকতেই এসেছে। যত দিন যাবে, ভারতীয় দলের হয়ে আরও ঝলমল করবে।'
আকাশের উত্থানের নেপথ্যে রয়েছে আরও এক গুরুর হাত। তিনি, সৌরাশিস লাহিড়ী আবার ভীষণ খুঁতখুঁতে। কাথায় আছে, রাঁধুনি নিজের রান্না খেয়ে নিজেই যদি বাহবা দেয়, তাহলে রন্ধনশিল্প গোল্লায়। সৌরাশিসও যেন সেই মন্ত্র মেনে চলেন। আকাশের ইনিংস দেখে খুশি। কিন্তু থাকছে আক্ষেপও। বাংলার অনূর্ধ্ব ২৩ কোচ ছিলেন যখন, সেই থেকে আকাশের পরিচর্যা করছেন। সৌরাশিস বললেন, 'আকাশের ব্যাট হাতেও যা দক্ষতা, তা দেখাতে পারছে কোথায়। ওর যা প্রতিভা, ধারাবাহিকভাবে এমন ইনিংস খেলতে পারে। কিন্তু সেটা মাঠে নেমে করতে হবে। আরও রান করার ক্ষমতা রয়েছে আকাশের।'
একটা সময় কোমরের চোটে কাবু ছিলেন আকাশ। কেরিয়ার নিয়েও যেন প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ময়দানের 'প্যাটশি' সৌরাশিস। আগলে রেখেছিলেন। তাঁর সেই স্নেহস্পর্শেই আকাশ আজ উজ্জ্বল। সৌরাশিস বলছিলেন, 'দুটি ম্যাচের কথা মনে পড়ছে। ইডেনে ২০১৯-২০ মরশুমে রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে কর্নাটকের বিরুদ্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া পার্টনারশিপ গড়েছিল রুকুর (অনুষ্টুপ মজুমদার) সঙ্গে। অষ্টম উইকেটে ১০৩ রান যোগ করেছিল। রুকু সেঞ্চুরি করেছিল। আকাশ ৪৪ রান করে। প্রথম ইনিংসে ১৩৯/৭ থেকে ৩১২ তোলে বাংলা। ম্যাচ জিতেছিলাম আমরা। ভুলে গেলে চলবে না সেই ম্যাচে কর্নাটকের হয়ে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণও খেলেছিল। শক্তিশালী বোলিং ছিল ওদের।'
প্রাক্তন অফস্পিনার যোগ করলেন, 'ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে যে ম্যাচে বাংলার প্রথম ৯ ব্যাটার হাফসেঞ্চুরি করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল, সেই ম্যাচে ৫৩ রানে অপরাজিত ছিল আকাশ। ওর ব্যাট স্পিড দুর্দান্ত। ব্যাট স্পিডের জন্যই যে কোনও বলকে মাঠের বাইরে ফেলতে পারে।'
ওভালে ভারত জিতবে কি না, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তা নির্ধারিত হয়ে যাবে। তবে ভারত সিরিজে পিছিয়ে থেকেও সমতা ফেরালে নেপথ্যে যে থেকে যাবে এক রোদ ঝলমলে আকাশ, নিশ্চিত তাঁর দুই গুরুই।




















