CM Suvendu Adhikari | Mamata Banerjee-কে ঘিরে হালিশহরে বিক্ষোভ, বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী
পুলিশ হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু ঘিরে তোলপাড় রাজনীতি। মৃতের নাম বিরজু কেওত। কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান ও তৃণমূল নেতা কমল অধিকারীর ছায়াসঙ্গী বলে এলাকায় পরিচিত। তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে শুক্রবার তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওতকে গ্রেফতার করে হালিশহর থানা। পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার ভোরবেলা আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই তৃণমূল কর্মী। এরপরই তড়িঘড়ি তাঁকে কল্যাণীর JNM হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হেফাজতে থাকাকালীন মৃত্যু হওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে বিচারবিভাগীয় তদন্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও মৃতের পরিবারের দাবি, "পুলিশের মারেই মৃত্যু হয়েছে বিরজুর। গোটা হাত-পায়ে দাগ রয়েছে মারের।"
রবিবার দুপুর নাগাদ হালিশহরে পৌঁছে যান রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ই এলাকাজুড়ে তাঁকে ঘিরে তৈরি হয় ক্ষোভের বিস্ফোরণ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়দের একাংশ। ওঠে চোর-চোর স্লোগান। কাদা লেপে দেওয়া হয় তাঁর গাড়িতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হয় পুলিশ-র্যাফ। এক স্থানীয় বলেন, "বিজপুর বোমের স্তূপ। আজ বিজেপি না জিতলে এখানে লাশের পাহাড় পড়ত। উনি উস্কানিমূলক কাজ করতে এখানে এসেছেন।" রবির দুপুরে হালিশহরের উত্তেজনা নিয়ে মুখ খুলেছেন কল্যাণও। 'জনরোষ'কে সম্পূর্ণ ভাবে 'পরিকল্পনাকে করে মারার চক্রান্ত' বলে দাগিয়েছেন তিনি। এদিন কল্যাণ বলেন, "শুভেন্দু অধিকারী মাফিয়ারাজ তৈরি করেছে। সবার বিচার হবে। DG ও CP-কে ইস্তফা দিতে হবে। আজ পরিকল্পনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মারার চক্রান্ত করা হয়েছে।" যদিও এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির 'দূর দূর পর্যন্ত' কোনও সম্পর্ক নেই বলেই দাবি করেছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, "বিজেপির কোনও কর্মী যুক্ত নেই। শুভেন্দু অধিকারীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল, সেই অত্যাচার বিজেপি কিন্তু তৃণমূলের ওপর করেনি।" অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, রাজ্য সরকার তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে কোনও খামতি রাখেনি। সবটাই ক্ষোভ। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "পুলিশ খারাপ কিছু করেনি। আর এত চুরি করেছেন চোর তো শুনতেই হবে। বিজেপির পতাকাও ছিল না। বিজেপির কর্মীরাও ছিল না।"
ইতিমধ্যেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার ঘটনায় সরব হয়েছে কালীঘাট তৃণম ল। সোমবার বিকাল ৩-৪টার মধ্যে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদে নামবে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। রাজ্যের সমস্ত ব্লকে ব্লকে কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে হবে ধিক্কার মিছিল। এদিন হালিশহরে ওই মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই গিয়ে মৃতের স্ত্রীকে তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাটেনডেন্টের চাকরি দেন তিনি। সঙ্গে ঘোষণা ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণেরও। পাশাপাশি, তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশন নিলেন তিনি। থানার IC-কে ক্লোজ করার ঘোষণা করলেন তিনি। সঙ্গে IO-কে সাসপেন্ড করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ওনার হেফাজতে মৃত্য়ু হয়েছে এটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। পুলিশের গাফিলতি রয়েছে, সেটাও সত্যি। তবে গোটা বিষয়টাই এখন তদন্তসাপেক্ষ। কীভাবে মৃত্যু হল, তা ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে তদন্ত হবে।"





















