E 20 Fuel Contro : E-20 ফুয়েল নিয়ে নীতিন গড়করির ওপেন চ্যালেঞ্জ, একটাও......সামনে আনুন দেখি
Nitin Gadkari On E20 Petrol : E 20 পেট্রোল নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়া দাবি করা হচ্ছে, এই পেট্রোল ব্যবহারের ফলে গাড়ির মাইলেজ কমে যাচ্ছে, ইঞ্জিনেরও ক্ষতি হচ্ছে।

Nitin Gadkari On E20 Petrol : দেশে E-20 পেট্রোল E20 Petrolনিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এবার মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করি। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই জ্বালানিকে ঘিরে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, এই পেট্রোল ব্যবহারের ফলে নাকি গাড়ির মাইলেজ কমে যাচ্ছে, এমনকি ইঞ্জিনেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে ওপেন চ্যালেঞ্জ করলেন মন্ত্রী।
বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে দেশের জ্বালানি বাজারে সবথেকে চর্চিত বিষয় হলো ‘ই২০ পেট্রোল’ (E20 Petrol)। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হচ্ছে যে,
এই সমস্ত জল্পনা ও দাবির মাঝেই এবার অত্যন্ত কড়া ভাষায় মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি (Nitin Gadkari)। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ই২০ পেট্রোলের কারণে গাড়ির ক্ষতি হওয়ার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও অকাট্য বাConcrete প্রমাণ মেলেনি। প্রমাণ ছাড়া সাধারণ মানুষকে এভাবে বিভ্রান্ত করা একেবারেই অনুচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নীতিন গড়করির বড় চ্যালেঞ্জ
সোশ্যাল মিডিয়ার রটনাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন— যদি কারও গাড়ির ইঞ্জিন এই ই২০ পেট্রোল ব্যবহারের কারণে সত্যিই নষ্ট হয়ে থাকে, তবে তারা যেন গাড়ির সম্পূর্ণ বিবরণ সামনে আনেন। এই ধরনের সমস্যায় পড়লে গাড়ি মালিক সরাসরি তাঁর কাছে কিংবা সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
গড়করির দাবি, এখনও পর্যন্ত এমন একটিও ঘটনা বা প্রমাণ তাঁর সামনে আসেনি যেখানে দেখা গেছে যে ই২০ পেট্রোলের কারণে কোনও গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই জ্বালানি নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং এর পেছনে কিছু ‘পেইড ক্যাম্পেন’ বা টাকার বিনিময়ে চালানো প্রচারও কাজ করছে।
মাইলেক ও ইঞ্জিনের ক্ষতি এক নয়!
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অবশ্য অকপটে স্বীকার করেছেন যে, সাধারণ পেট্রোলের তুলনায় ইথানলের (Ethanol) শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা কিছুটা কম। এর ফলে কিছু কিছু গাড়ির মাইলেজ সামান্য কমতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যাবে। মাইলেজ সামান্য কমে যাওয়া আর ইঞ্জিন খারাপ হওয়া— দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়, একে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়।
কেন ই২০ পেট্রোলে জোর দিচ্ছে সরকার?
নীতিন গড়করি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মূলত দুটি বড় কারণে সরকার ই২০ পেট্রোল ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে:
বিদেশি তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো: ভারতকে প্রতি বছর বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণে অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) আমদানি করতে হয়, যার পেছনে দেশের একটা বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে যায়। পেট্রোলে ইথানলের মিশ্রণ বাড়ালে তেল আমদানির খরচ অনেকটাই কমে আসবে।
কৃষকদের আর্থিক উন্নতি: ইথানল তৈরি হয় আখ, ভুট্টা এবং অন্যান্য কৃষিজাত ফসল থেকে। এর চাহিদা যত বাড়বে, কৃষকদের ফসলের ব্যবহার তত বাড়বে এবং তাদের উপার্জনের একটি নতুন ও স্থায়ী উৎস তৈরি হবে। এর পাশাপাশি, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি পরিবেশ দূষণ কমাতেও সাহায্য করে।
বর্তমানে ই২০ পেট্রোল নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহলেও তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, এই জ্বালানি সাধারণ গাড়ি চালকদের পকেটে ও গাড়িতে কোপ বসাবে। অন্যদিকে সরকারের পাল্টা দাবি— যে সমস্ত গাড়ি 'E20-Compliant' অর্থাৎ ই২০ জ্বালানি ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে, সেগুলির জন্য এই ফুয়েল সম্পূর্ণ নিরাপদ। বাজারে আনার আগে বহু স্তরে এই জ্বালানির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে বলেও সরকারের তরফে আশ্বস্ত করা হয়েছে।























