'...ধিক তৃণমূল কংগ্রেস', ফেসবুক পোস্টে শাসক দলের তীব্র নিন্দা ঋদ্ধির
'সদ্য গজিয়ে ওঠা উৎসবের ভিড়ে আরেকটা উৎসব জুড়ে দেওয়া হোক, গণ ধোলাইয়ের উৎসব...' লিখলেন ঋদ্ধি

কলকাতা: বেলেঘাটায় (Beleghata) নাট্যব্যক্তিত্বকে (Artist) হেনস্থার ঘটনায় সরব অভিনেতা ঋদ্ধি সেন। 'শিল্পীরা এগিয়ে আসুক, দেখা যাক, কতজনের গায়ে হাত তুলবে তৃণমূলের (TMC) লুম্পেন গুন্ডা বাহিনী। ফেসবুকে (Facebook) প্রতিবাদ অভিনেতা ঋদ্ধি সেনের। 'নাট্য উৎসবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এরা দেখিয়ে দিল মানুষের থেকে কেকের মূল্য বেশি। সদ্য গজিয়ে ওঠা উৎসবের ভিড়ে আরেকটা উৎসব জুড়ে দেওয়া হোক, গণ ধোলাইয়ের উৎসব। এই গায়ে হাত তোলা আমাদের সকলের গায়ে হাত তোলা'। ফেসবুক পোস্টে তীব্র প্রতিবাদ অভিনেতা ঋদ্ধি সেনের।
বেলেঘাটায় নাট্যব্যক্তিত্বকে হেনস্থার ঘটনায় সরব হয়েছেন অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য (Anirban Bhattacharya)। এদিন একটি বিবৃতি দিয়ে তিনি লেখেন, 'আমার পরের অভিনয় ১৫ জানুয়ারি, রবীন্দ্র সদন মঞ্চে, এসে মেরে যান। আমি প্রতিবাদ করছি, এটা জেনেই যে এই প্রতিবাদ ব্যর্থ হবে। যাঁর গায়ে হাত উঠেছে, তাঁর গায়ে আবার হাত উঠতে পারে। যিনি হাত তুলেছেন, তিনি তাঁর সাহসে বলীয়ান হয়ে বাংলা মায়ের সুযোগ্য সন্তানের সার্টিফিকেট ঘরে বাঁধিয়ে রাখবেন।'
সরব নাট্যব্যক্তিত্বরা: এদিন এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অভিনেতা ও পরিচালক অনির্বাণ ভট্টাচার্য আরও লিখেছেন, 'আমাদের যেন এসে বেদম মার দেওয়া হয়, যেন বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ...ভোটকেন্দ্রিক গণতন্ত্রে অমিতাভ বা শাহরুখ না হলে বেশি লাফাতে নেই। পশ্চিমবঙ্গে এক অভূতপূর্ব আনন্দযজ্ঞ শুরু হয়েছে। ভোট রাজনীতিতে কাজে আসে না, এমন শিল্পীদের মেরে ঠান্ডা করে দেওয়া হচ্ছে।'
ঠিক কী হয়েছিল? বেলেঘাটার রাসমেলা ময়দানে পূর্ব কলকাতা বিদূষক নাট্যমণ্ডলীর দু-দিনের নাট্য উৎসব বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কলকাতা পুরসভার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অলোকানন্দা দাস ও তাঁর বাবা, তৃণমূল নেতা অলোক দাসের বিরুদ্ধে।
২৪ ডিসেম্বর থেকে দু-দিনের নাট্য উৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়ে গেছিল বেলেঘাটার রাসমেলা ময়দানে। যার অন্যতম আয়োজক ছিলেন 'বিরোহী','উলটপুরাণে'র মতো ওয়েব সিরিজ ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সিনেমা 'বাকিটা ব্যক্তিগত'য় অভিনয় করা অমিত সাহা।
তাঁর অভিযোগ, পাশেই বেলেঘাটা মেন রোডে একটি কেক উৎসবের মাইক বাজানোয় অসুবিধা হওয়ায় ২৩ ডিসেম্বর, স্থানীয় কাউন্সিলরের সঙ্গে কথা বলতে গেছিলেন। তাঁর দাবি, তখনই জানতে পারেন তৈরি করা মঞ্চ খুলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে গেলে তৃণমূল নেতা অলোক দাস তাঁদের হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ। বন্ধ করে দেওয়া হয় নাট্য উৎসব।
যদিও নাট্য উৎসবে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ এদিনও অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতা। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের গলায় আগের দিনই উঠে এসেছিল ভিন্ন সুর! তারই প্রতিবাদে বুধবার ফুলবাগানে একটি প্রতিবাদ সভা করল সেই নাট্য সংস্থা। এদিন নাট্যব্যক্তিত্ব বিমল চক্রবর্তী, সমাজকর্মী বোলান গঙ্গোপাধ্যায়, মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্র-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। সকলেই নাট্য উৎসবে বাধা দানের সমালোচনা করেন।
আরও পড়ুন: Narendra Modi: মোদির যাত্রাপথে নীল-সাদা কাপড়ের আচ্ছাদন, 'ঝুপড়ি ঢাকতেই পর্দা' কটাক্ষ বিজেপির
Before You Go
Taratala News: "এক মুঠ ভাত, দুটো শুকনো রুটির জন্য জীবনটা...", SSKM-এর বাইরে স্বজনহারাদের হাহাকার






















