Birbhum News : 'আমি সব জায়গায় জিতি, কিন্তু নিজের ওয়ার্ডে হারি, কলকাতায় কথা শুনতে হয়', আক্ষেপ মন্ত্রী চন্দ্রনাথের
TMC News : গত লোকসভা নির্বাচনের ফলের নিরিখে বোলপুর পুরসভার ২২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪টিতে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। ১৮টিতে তারা পিছিয়ে ছিল।

ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, বোলপুর : বীরভূমে দলের অনুষ্ঠানে গিয়ে হার-জিতের প্রসঙ্গে সরব হলেন বোলপুরের তৃণমূল বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিন্হা। নিজের ওয়ার্ডে তৃণমূলের হার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। হার নিয়ে যে দলের অন্দরেই কটাক্ষের শিকার হতে হয় সেই কথাও জানান। হার নিশ্চিত জেনে এই মন্তব্য বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি।
বোলপুরের তৃণমূল বিধায়ক। রাজ্যের মন্ত্রী। এবার বিধানসভা ভোটের আগে তাঁর মুখেই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য়। চন্দ্রনাথ সিন্হা বলছেন, "আমাদের নানান কথা শুনতে হয় কলকাতায়, যে আমি সব জায়গায় জিতি, নিজের ওয়ার্ডে হারি, কলকাতায় যখন আমাদের মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়, তখন আমাকে কটাক্ষ শুনতে হয়, অনেক কাজ করার ইচ্ছে থাকলেও অনেক কাজ দেয় না। বলে যে না, আগে জিতে এস। কেষ্ট-দার ওয়ার্ডেও বৈঠক ছিল, ওখানেও আমরা হারি, এই দুটো ওয়ার্ড আমরা হারি। এই হারার ফলে আমাদের দু'জনকেই কলকাতায় কথা শুনতে হয়।"
বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, "উনি (চন্দ্রনাথ সিন্হা) স্বীকার করে নিয়েছেন যে নির্বাচনের সময়ে উনি এবং বাংলার বাঘ তিনিও তাঁর নিজের ওয়ার্ডে হারেন, আগামী সময়েও হারবেন, তাই হার নিশ্চিত জেনে মানুষকে বলছেন, আপনারা বলে দিন বলে দিয়ে আমাকে হারান, আমি কিছু মনে করব না। এখন মন্ত্রী মশাইকে , তাঁর দল টিকিট দেওয়ার সাহস দেখাবে কী?"
গত লোকসভা নির্বাচনের ফলের নিরিখে বোলপুর পুরসভার ২২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪টিতে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। ১৮টিতে তারা পিছিয়ে ছিল। অনুব্রত মণ্ডল এবং চন্দ্রনাথ সিন্হার বাড়ির ওয়ার্ডে তৃণমূল পিছিয়ে ছিল। এবার কী হবে? সেটাই দেখার।
গতমাসে রামপুরহাটে সভা করে বীরভূমে বিরোধী-শূন্য করার ডাক দিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যে আড়াইশো আসনের লক্ষ্যমাত্রাও স্থির করে দিয়েছিলেন। অভিষেক বলেছিলেন, "গত নির্বাচনে ১১টি আসনের মধ্যে বীরভূমের মানুষ দুই হাত তুলে আশীর্বাদ করে তৃতীয়বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সময়...যে অবদান রেখেছেন এই জেলার মানুষ...২০১১, ২০১৬, ২০২১...কার্যত অনস্বীকার্য। ২০২৬-এ চতুর্থবার মা-মাটি-মানুষের সরকার হবে। কিন্তু, এবার ১০ নয়, ১১-০ তৃণমূলের পক্ষে বীরভূমের মানুষকে করতে হবে। বীরভূমে কত বুথ আছে ? ৩,৬০০। আজ কথা দিতে হবে, এই ৩,৬০০ বুথ থেকেই বাংলা-বিরোধীদের ভো-কাট্টা করতে হবে। একটা বুথে যেন এরা মাথা তুলতে না পারে। দেখলাম কেষ্টদা বলেছেন, মা-কে বলে এসেছি ২৩০টা আসন দিতে হবে। আমি তো আজকে ২০টা আরও বাড়িয়ে বলব। ২৫০ আসনে তৃণমূলকে জেতাতে হবে। নাহলে যে দল ৭০টা আসন নিয়ে একটা গরিব ছেলেকে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করে বলে মারছে, সেই দল যদি ক্ষমতায় থাকে তাহলে আগামীদিনে এরা বাংলার কী অবস্থা করবে খালি একবার ভেবে দেখুন। তাই এদের শুধু হারানো নয়, শূন্য করতে হবে।"























