Election Commission : "রাজ্যের ৪ জন অফিসারের বিরুদ্ধে FIR করতেই হবে..", মুখ্যসচিবকে ডেকে স্পষ্ট বার্তা কমিশনের
EC On Bengal Officer : ভোটের আগে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ফের কড়া মনোভাব নির্বাচন কমিশনের।

কলকাতা: ভোটের আগে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ফের কড়া মনোভাব নির্বাচন কমিশনের। রাজ্যের ৪ অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, মুখ্যসচিবকে ডেকে স্পষ্ট বার্তা কমিশনের।ডেডলাইন বেঁধে রাজ্যকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ নিয়ে কমিশনকে রিপোর্ট দিতে হবে রাজ্যকে। বারুইপুর ও ময়নার ২ ERO, ২ AERO-র বিরুদ্ধে FIR দায়েরের নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। ফের রাজ্যের এই ৪ অফিসারের বিরুদ্ধে FIR দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
চারজন অফিসারের বিরুদ্ধে FIR করতেই হবে। ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। দিল্লিতে তলব করে মুখ্যসচিবকে স্পষ্ট নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। গতকাল দু'জনের মধ্যে প্রায় ১ ঘণ্টার বৈঠক হয়। আর এ নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। রাজ্যের চারজন অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। দায়ের করতে হবে FIR। শুক্রবার ভিডিও কনফারেন্সে রাজ্যের ৬ জন জেলা নির্বাচনী আধিকারিক অর্থাৎ জেলাশাসককে হুঁশিয়ারি দেওয়ার দিনই, রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সূত্রের দাবি, ওই চার অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি ডেডলাইনও বেঁধে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ চার দিনের মধ্যে নিতে হবে ব্যবস্থা।
প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, তৃণমূলের দালাল এরা, তৃণমূলের দালালি করেছে। নিজেদের ক্যারিয়ার নষ্ট হবে আগামীদিনে। দালালি করতে করতে সময়-কাল সব ভুলে যাচ্ছে কী করা যাবে। দিদি একটা পুরস্কার চালু করুক দালালশ্রী। সরকারের কে কতবড় দালালি করতে পারে তার একটা প্রতিযোগিতা হোক। SIR নিয়ে শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত চলে আসছে।
বিতর্কের সূত্রপাত গত বছরের অগাস্ট মাসে!
ভোটার তালিকায় গরমিলের অভিযোগে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর ও ময়নার দু'জন করে ERO ও AERO এবং একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর-সহ মোট ৫ জনকে সাসপেন্ড করে তাঁদের বিরুদ্ধে FIR দায়েরের নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সাসপেনশন হলেও, আজ পর্যন্ত FIR দায়ের হয়নি! আর এখান থেকেই শুরু দু'পক্ষের সংঘাত! ২০২৫-এর ১৩ অগাস্ট,নির্বাচন কমিশনের তলবে দিল্লি যেতে হয় তৎকালীন মুখ্য়সচিব মনোজ পন্থকে। অথচ তারপরেও চার অফিসারের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করেনি রাজ্য সরকার।
এই প্রেক্ষাপটে গত ৪ ফেব্রুয়ারি, চার অফিসারের বিরুদ্ধে FIR দায়ের, AERO হওয়ার সুবাদে, কমিশনকে না জানিয়েই বেআইনিভাবে ১১ জন কর্মকর্তা নিয়োগ করার অভিযোগ ওঠায় বসিরহাট-২ এর BDO সুমিত্রপ্রতিম প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া, ইলেক্টোরাল অবজার্ভার হিসেবে নাম ঘোষণার পরেও, নির্দেশ না মেনে তিনজনকে বদলির নির্দেশ দেওয়া-সহ একাধিক ইস্যুতে বর্তমান মুখ্যসচিবকে চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন। এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে দিল্লিতে ডেকে পাঠান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেখানে দু'জনের মধ্যে প্রায় ১ ঘণ্টার বৈঠক হয়।
সূত্রের খবর, মুখ্যসচিবকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর ও ময়নার দু'জন করে ERO ও AERO, এই চার অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে রাজ্য সরকারকে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ মঙ্গলবারের এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে রিপোর্ট দিতে হবে বলেও ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে কমিশন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ইলেকশন কমিশনের পূর্ণ অধিকার আছে সরাসরি সাসপেন্ড, FIR করার। তারা খুব ভদ্র আচরণ করে এই সরকারের আধিকারিকদের বলেছিল (FIR) করতে। এরা চারজনের বিরুদ্ধে FIR করেনি। বসিরহাট-২ BDO-কে সাসপেন্ড করতে বলেছিল, সেটাও করেনি। ইলেকশন কমিশনের উচিত, এনাফ ইজ এনাফ, এবারে ডায়রেক্ট অ্যাকশন নেওয়ার। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো চারজন অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে রাজ্য সরকার?সব নজর এখন সেই দিকেই!























