TMC News: কলকাতা পুরসভা চালাচ্ছেন কে? ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে দ্বন্দ্ব স্মিতার পান্ডের? পালাবদলের পর এলোমেলো তৃণমূল
Firhad Hakim vs Smita Pandey: পালাবদলের পর সব কিছুই এলোমেলো। কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডের মধ্যে কি দ্বন্দ্ব শুরু হল?

অর্ণব মুখোপাধ্যায়, ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী ও দীপক ঘোষ, কলকাতা: বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে কলকাতা পুরসভার নোটিস ইস্যুতে তুঙ্গে মেয়র এবং পুর কমিশনারের দ্বন্দ্বের জল্পনা। সূত্রের দাবি, সোমবার মেয়র পারিষদদের নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে তৃণমূলনেত্রীর কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় ফিরহাদ হাকিমকে। যার উত্তরে মেয়র বলেন, নোটিস পাঠানোর বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এই প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে পুরসভা কে চালাচ্ছেন? মেয়র, না কি পুর কমিশনার? (Firhad Hakim)
একদিকে আইনি নোটিসের চক্রব্যূহে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে দিকে দিকে শোনা যাচ্ছে বুলডোজারের গর্জন। আইন ভেঙে মাথা তুলে দাঁড়ানো সমস্ত নির্মাণ গুঁড়িয়ে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে মাটিতে। তিলজলা, গড়িয়া, হাওড়া, বাঁশদ্রোণীতে ইতিমধ্যেই 'বুলডোজার অ্যাকশন' দেখা গিয়েছে। আর এর মধ্যেই সামনে চলে এল কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডের দ্বন্দ্ব নিয়ে জল্পনা। (Kolkata Municipal Corporation)
আরও পড়ুন: কত সম্পত্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের? আরও নাম জড়ানো হচ্ছে? টানাপোড়েন চরমে, তৃণমূল বলল...
তৃণমূল সূত্রে খবর, সোমবার মেয়র পারিষদদের নিয়ে মমতার বাড়িতে হওয়া বৈঠকে তৃণমূলনেত্রীর কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় ফিরহাদকে। অভিষেকের বাড়িতে নোটিস পাঠানো নিয়ে সরাসরি মেয়রের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। সূত্রের খবর, সেখানে মেয়র জানান, অভিষেককে নোটিস পাঠানোর বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকেও একই দাবি করেন ফিরহাদ। তাঁকে বলতে শোনা যায়, "আমি ওঁর ব্যক্তিগত বিষয়ে আমি কথা বলতে পারব না। কারণ, আমি কোনও ইজারা নিইনি।"
এ নিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, "আপনি সই করবেন না, তার জন্য নোটিস কারও কাছে যাবে না...যারা বেআইনি কাজ করছে, এটা তো হতে পারে না।" আর তাতেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে পুরসভা কে চালাচ্ছেন? মেয়র না কি পুর কমিশনার? মেয়রের যখন সুর নরম, সেই সময় কড়া সুর পুর কমিশনারের গলায়। স্মিতার সাফ বক্তব্য, "KMC আইনে যে সংস্থান আছে, তা আমরা প্রয়োগ করছি। সেই অনুযায়ী অ্য়াকশন নেব। আমরা রিপোর্ট দিয়ে দিয়েছি, রাজ্য় সরকার যেমন নির্দেশ দেবে, সেভাবেই হবে। আমরা কলকাতায় কোনও বেআইনি নির্মাণ হতে দেব না।"
আরও পড়ুন: বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা নিয়ে জটিলতা, স্পিকারকে চিঠি দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়
পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের মাথায় থাকা মেয়র ফিরহাদকে না জানিয়েই এই সব নোটিস পাঠানো কি সম্ভব? অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে নোটিস পাঠানো প্রসঙ্গে এই প্রশ্নই উঠছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর, কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে মেয়র ফিরহাদের। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, অভিষেকের বাড়িতে নোটিস পাঠানোর আগের রাতে ৯টা পর্যন্ত মিটিং হয় কমিশনারের ঘরে। রীতি অনুযায়ী মেয়র ও পুর কমিশনারের মধ্য়ে সমন্বয়ের মাধ্য়মে কাজ হওয়ার কথা। সেক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার পাঠানো নোটিস প্রসঙ্গে মেয়র কিছুই জানেন না, এটা কি সম্ভব?
অভিষেকের বাড়িতে নোটিস নিয়ে বিজপি বিধায়ক তথা কাউন্সিলর সজল ঘোষের বক্তব্য, "এটা তো হবেই। এই যে বেআইনি কাজ করেছে, কে অনুমোদন দিয়েছে? কীসের জন্য়? কমিশনার চিঠি পাঠিয়েছেন বলে। তাহলে, মেয়র উত্তর দিন, মেয়র থাকাকালীন অবস্থায়, এই বেআইনি কাজগুলো হল কেমন করে?" কিছুই জানতেন না বলে ফিরহাদ যে দাবি করেছেন, তা নিয়ে সজল বলেন, "যে জানে না, সে থাকে কেন? সে বানপ্রস্থে যাক।"
সোমবার কলকাতা পুরসভায় মেয়র পরিষদের বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু পুর-কমিশনার অনুপস্থিতি থাকায় সেই বৈঠক বাতিল হয়ে যায়। লাইসেন্স বিল্ডিং সার্ভেয়ার অংশুমান সরকার জানিয়েছেন, MIC বৈঠক না হওয়ায় মেয়র পারিষদ বিল্ডিং প্ল্যান সাংশন সংক্রান্ত কাজ আপাতত আটকে রয়েছে। সব মিলিয়ে ভোট ময়দানে গেরুয়া ঝড়ে তৃণমূল উড়ে যাওয়ার পর তৃণমূলের অন্দরে সব কিছুই এলোমেলো হয়ে গিয়েছে।






















