Anandapur Fire: "টাকা নিয়ে কী করব... আমার বাবাকে এনে দিক", আনন্দপুরে ধ্বংসস্তূপ-পোড়া ছাইয়ের ভিতরে এখনও দেহাংশ খুঁজে চলেছেন আত্মীয়রা !
Anandapur Fire Updates: পুড়ে খাক স্বপ্ন, ধ্বংসস্তূপ-পোড়া ছাইয়ের ভিতর থেকে এখনও কাছের লোকের দেহাংশ খুঁজে চলেছেন আত্মীয়রা

বিটন চক্রবর্তী, ঝিলম করঞ্জাই, কলকাতা: আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডের পর ধ্বংসস্তূপ, পোড়া ছাইয়ের ভিতর থেকে এখনও কাছের লোকের দেহাংশ খুঁজে চলেছেন আত্মীয়রা। যেমন গোডাউন কর্মী বুদ্ধদেব জানার বাবা শঙ্কর জানা।
সোমবার বাড়ি ফেরার কথা ছিল। অপেক্ষায় ছিল পরিবার... কিন্তু সব স্বপ্ন পুড়ে গেল! নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ড এতগুলো পরিবারের স্বপ্ন মুহূর্তে তছনছ করে দিল।সর্বগ্রাসী আগুনে শুধু যে এতগুলো মানুষ ঝলসে গেছে, তাইই নয়, পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তাদের পরিবারের স্বপ্ন। পাঁশকুড়ার চক-গৌরাঙ্গ গ্ৰামের বাসিন্দা, বাসুদেব বেরা (৫৮)।আগে মুম্বইতে কাজ করতেন। কয়েক মাস হল ফিরে এসে, এখানেই কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু কে জানত, তাঁর পরিণতি এমন হবে।
আনন্দপুরের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার, প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর, ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন দমকলমন্ত্রী। কিন্তু মুখ্য়মন্ত্রী কেন যাননি? এই প্রশ্ন লাগাতার তুলছে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'সরকার চোখ বন্ধ করে আছে এবং মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বাড়ির অদূরে এই ঘটনা ঘটার পরও তিনি একাধিক আনন্দ অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক কর্মসূচি, আইপ্যাক প্রণীত নানা ধরনের নির্বাচনী নাটক, ড্রামাতে অংশগ্রহণ করছেন। কিন্তু আনন্দপুরে তিনি যাওয়ার একবারও সময় পাননি। পরিবারগুলোরও খোঁজ নেওয়ার সময় পাননি। '
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় বলেন, আমাদের কিছু বন্ধু প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করতে গিয়ে মারা গিয়েছেন। আমি ববিকে পাঠিয়েছিলাম। অরূপকে পাঠিয়েছিলাম। তাদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ওয়াও মোমোও দিচ্ছে এবং ডেকরেটাররাও ৫ লক্ষ টাকা করে দিচ্ছে। পুলিশকে আমি বলেছি তাদের পরিবারকে একজন করে সিভিকে চাকরি দেওয়ার জন্য। আমরা কিন্তু আপনাদের মতো অমানবিক নই, এটা মাথায় রাখবেন।'
এদিকে, নিখোঁজ ব্যক্তির বউমা সুষমা আদক বেরা বলেন, আগে মুম্বইতে কাজ করত। থাকতে পারেনি বলে দেশে চলে এসেছে। একটা ছোট ছেলে আছে। দাদুকে খুব ভালবাসে। তাই আর বাইরে থাকেনি। চলে এসেছে। এখানে থেকে কাজ করবে বলে। রবিবার রাতে ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে। বলেছে, আমার কাজ হয়ে গেছে। সোমবার সকালে বাড়ি চলে যাব। রাজ্য় সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য় ঘোষণা করা হয়েছে।
গোডাউন কর্মী অনুপ প্রধানের আত্মীয় প্রশান্ত বেড়া বলেন, ১০ লাখ টাকা প্রাণের দাম? একটা মানুষের কি ১০ লাখ টাকা প্রাণের দাম? নিখোঁজ ব্যক্তির মেয়ে সবিতা গায়েন বলেন,টাকাটাই কি বড়? আমার বাবাকে এনে দিতে পারবে? টাকা কী হবে? মানুষ চলে গেছে... টাকা নিয়ে কী করব... আমার বাবাকে এনে দিক। মানুষগুলো চলে গেল... পরিবারের কাছে সেই জায়গা আর কখনও পূরণ হবে!






















