পুজোর আগে লাগাতার ঝড়ঝাপটার আশঙ্কা? কী এই আশ্বিনের ঝড়? কালবৈশাখীর সঙ্গে কী ফারাক?
‘আশ্বিনের ঝড়’। এই শব্দবন্ধের সঙ্গে ভূগোল বই থেকে অনেকের পরিচয় হয়েছে। এই ঝড়ের সঙ্গে কালবৈশাখীর সঙ্গে পার্থক্য কোথায়? বুঝিয়ে বললেন আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা।

কলকাতা: কালবৈশাখীর কথা মনে পড়লেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রপাত আর আচমকা প্রবল বৃষ্টির ছবি। তবে বর্ষা বিদায় নেওয়ার মুখেও কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে তৈরি হতে পারে শক্তিশালী স্থানীয় ঝড়ঝাপটার পরিস্থিতি। আবহবিদদের মতে, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে পূর্ব ভারতে বায়ুমণ্ডলে দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী ঝড় বা থান্ডারশাওয়ার তৈরি হতে পারে। এই সময়ের ঝড়কে অনেক সময় ‘আশ্বিনের ঝড়’ও বলে। এই শব্দবন্ধের সঙ্গে ভূগোল বই থেকে অনেকের পরিচয় হয়েছে। এই ঝড়ের সঙ্গে কালবৈশাখীর সঙ্গে পার্থক্য কোথায়? বুঝিয়ে বললেন আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা।
কালবৈশাখী সাধারণত প্রাক্বর্ষায় আসে। অর্থাৎ এপ্রিল-মে মাসে বেশি দেখা যায়। কিন্তু সেপ্টেম্বর-অক্টোবরেও ঝড়-ঝঞ্ঝার আশঙ্কা থাকে। তার সঙ্গে কালবৈশাখীর প্রকৃতি আলাদা। এই সময়ের ঝড়ের গতিপথ অনেক ক্ষেত্রে কালবৈশাখীর সম্পূর্ণ বিপরীত। কালবৈশাখী সাধারণত পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে এগিয়ে আসে। অন্যদিকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের এই ঝড় পূর্ব দিক থেকে পশ্চিমমুখী হয়ে থাকে।
এই ধরনের ঝড় অত্যন্ত স্থানীয় প্রকৃতির। অর্থাৎ কোথাও হবে , কোথাও হবে না। আচমকাই প্রবল বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়া শুরু হয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। পুজোর আগে আগে এমন ঝড়বৃষ্টির অভিজ্ঞতা হয়েই থাকে। কখনও কখনও অতি অল্প সময়ে অত্যন্ত বেশি বৃষ্টি হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে কখনও কখনও বিচ্ছিন্নভাবে ক্লাউডবার্স্টের মতো বৃষ্টি হতে পারে। হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার বা তারও বেশি হতে পারে। এক্ষেত্রে হুগলি নদী ও তার আশপাশের এলাকার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অনেক সময় পূর্ব দিক থেকে আসা ঝড় হুগলি নদীর উপর দিয়ে যাওয়ার সময় অথবা নদী পার হয়ে কলকাতা ও হাওড়ার সংলগ্ন এলাকায় আরও শক্তিশালী হতে পারে। এর ফলে ঝড়ের প্রভাব হাওড়া এবং পশ্চিম বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কেন তৈরি হয় এমন শক্তিশালী ঝড়?
এর পিছনে একাধিক কারণ কাজ করে। মাটির কাছাকাছি স্তরে অতিরিক্ত তাপ থাকে। অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীলতা এবং উপরের দিকে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রার দ্রুত পরিবর্তন বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এর সঙ্গে যদি মাঝারি মাত্রার উইন্ড শিয়ার থাকে, তাহলে আরও বেশি করে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়। এছাড়া সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে আসা Western Disturbance ধীরে ধীরে দক্ষিণমুখী হতে থাকে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে একাধিক নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। একদিকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সঙ্গে আসা তুলনামূলক ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস, দুই বিপরীত ধরনের বায়ু পূর্ব ভারতের কোনও কোনও অঞ্চলে মিলিত হলে বায়ুমণ্ডলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে। এর ফলেই স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়া তৈরি করতে পারে। এছাড়া দক্ষিণবঙ্গের উপর দিয়ে Westerly Jet Stream ও Easterly Jet Stream-এর প্রভাব এবং তাদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়াও এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
Before You Go
JU Chaos News | যাদবপুরকাণ্ডে আজ পথে নামছে বাম-ABVP দু’পক্ষ | Jadavpur University | ABP Ananda






















