Suvendu Adhikari on Beldanga Chaos: বেলডাঙায় বেলাগাম নৈরাজ্য, 'হিন্দুদের সম্পত্তি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে', রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী চান শুভেন্দু!
এক্স হ্যান্ডেলে পোস্টে বেলডাঙার ঘটনায়, NIA তদন্তও দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা। রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসকে চিঠিও পাঠিয়েছেন শুভেন্দু

নৈরাজ্যের আগুনে পরপর দুইদিন পুড়ল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গা। এই আবহে সরাসরি রাজ্যপালকে চিঠি লিখলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যপালের কাছে, বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা ও BNSS-এর ১৬৩ ধারা জারির আর্জি জানালেন তিনি। সেইসঙ্গে বেলডাঙার ঘটনায়, এক্স হ্যান্ডলে NIA তদন্তের দাবি জানালেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেও তৃণমূলকে নিশানা করেছেন বিরোধী দলনেতা। এ নিয়ে পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি তৃণমূলও।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় পরপর দু'দিন প্রতিবাদের নামে চলেছে বেলাগাম তাণ্ডব। আক্রান্ত হয়েছেন এবিপি আনন্দর সাংবাদিক এবং চিত্র সাংবাদিক। এই আবহে প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। এই প্রেক্ষাপটে বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা অর্থাৎ BNSS-এর ১৬৩ ধারা জারির দাবি জানিয়ে রাজ্যপালকে চিঠি লিখলেন শুভেনদু অধিকারী।
সেইসঙ্গে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্টে বেলডাঙার ঘটনায়, NIA তদন্তও দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা। রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসকে পাঠানো চিঠিতে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, সংগঠিত ও সাম্প্রদায়িক হিংসার সাক্ষী হয়েছে বেলডাঙা। যেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়ি-ঘর, দোকান এবং প্রার্থনাস্থলে হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে আগুন ধরানো হয়েছে।
এমনকী, সাংবাদিকরাও রেহাই পাননি। সত্য় খবর সংগ্রহে যাওয়া এবিপি আনন্দর সাংবাদিককে আক্রমণ করা হয়েছে। কয়েকজনের গুরুতর আঘাত লেগেছে। সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ মানে গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ।
রাজ্যপালের উদ্দেশে চিঠিতে বিরোধী দলনেতা লিখেছেন, রাজ্য প্রশাসনের পূর্ণ নিষ্ক্রিয়তা আরও যন্ত্রণার। আমি যতদূর জানি, এরকম হিংসা সত্ত্বেও, ভারতীয় ন্যায় সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ নম্বর ধারার অধীনে কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। প্রশাসন নীরব এবং অসহায় দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। আর পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেছে।
তবে বিরোধী দলনেতা এই অভিযোগ তুললেও, মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার SP-র দাবি, তাঁরা মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছেন।
মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে দাঙ্গার সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের যে নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্ট দিয়েছিল, সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেনদু অধিকারী রাজ্যপালের উদ্দেশে চিঠিতে লিখেছেন, 'এই নির্দেশ কোনও নির্দিষ্ট ঘটনা বা তারিখে সীমাবদ্ধ নয়। এটা বেলডাঙার বর্তমান হিংসার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।'
এর আগে ২০২৫ সালে, ওয়াকফ বিক্ষোভের নামে আরেকপ্রস্থ আগুন জ্বলেছিল মুর্শিদাবাদে। সামশেরগঞ্জে বাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে কুপিয়ে খুন করা হয় হরগোবিন্দ দাস এবং তাঁর ছেলে চন্দন দাসকে।
শনিবার সেই প্রসঙ্গে টেনে এনে এক্স হ্যান্ডলে তৃণমূলকে একহাত নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এক্স পোস্টে তিনি লিখেছেন, আমি অবিলম্বে NIA তদন্ত দাবি করছি। CAA বিরোধী এবং ওয়াকফ বিরোধী আন্দোলনের সময়, মুর্শিদাবাদে যে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল, এটি তারই প্রতিচ্ছবি। সেই সময়, হরগোবিন্দ ও চন্দন দাসের মতো নিরীহ হিন্দুদের পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছিল। সেখানে চোখ বন্ধ করে ছিল রাজ্য প্রশাসন। ফের বেলডাঙাতেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে পুলিশ। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল্যবান ভোটব্যাঙ্ককে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।'
সব মিলিয়ে, বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে, মুর্শিদাবাদের ঘটনায় ফুটছে রাজ্য-রাজনীতি।






















