Mamata Banerjee: 'হাতজোড় করে বলেছি, আর কারও সাপোর্ট চাই না', মমতাকে জানাল হালিশহরের মৃত TMC কর্মীর পরিবার
Halisahar TMC Worker dead: গোটা ঘটনায় মৃতের পরিবারের সরাসরি কিন্তু পুলিশকেই কাঠগড়ায় তুলছেন। হাতে, পায়ে দড়ি বেঁধে পিটিয়ে মারার অভিযোগ তুলছেন মৃতের ভাই।

হালিশহর: তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান কমল অধিকারীর ছায়াসঙ্গী হিসাবে পরিচিত বিরজু কেওতকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল ধৃতকে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। তবে গতকালই অসুস্থ হয়ে পড়লে ধৃতকে কল্যাণীর JNM হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং হাসপাতালেই মৃত্যু হয় ধৃত বিরজু কেওতের, দাবি পুলিশের। আজ সেই মৃতের পরিবারের সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) দেখা করতে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দোলা সেন ও কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়।
তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর থেকে আর কোনওরকম সমর্থন চাইছেন না মৃতের পরিবারের সদস্যরা। অবশ্য মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঠিক কী কথোপকথন হল, সেই বিষয়ে পরিবারের কেউই মুখ খুলতে চাননি। মৃতের দাদাকে বলতে শোনা যায়, 'ওঁ এসেছিলেন আমরা হাতজোড় করে বলেছি, যে আমাদের আর কারওর সাপোর্ট চাই না। স্থানীয় প্রশাসন যদি বিচার দেয় দেবে, নাহলে আর কারুর দরকার নেই।'
গোটা ঘটনায় মৃতের পরিবারের সরাসরি কিন্তু পুলিশকেই কাঠগড়ায় তুলছেন। হাতে, পায়ে দড়ি বেঁধে পিটিয়ে মারার অভিযোগ তুলছেন মৃতের ভাই। পরিবারের সকলকে বারংবার একটাই কথা বলতে শোনা যাচ্ছে, বিরজুকে 'পুলিশ মেরেছে'। তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'পুলিশ রিম্যান্ডে এনে মেরেছে, রাতে সাড়ে নয়টায় কথা হল, সকালে শুনছি মারা গিয়েছে। পুলিশ যে রিম্যান্ডে নিয়ে আমার ভাইকে মেরেছে, তার শাস্তি হোক। ওখান থেকে আমরা কোনও বিচার পাব না। যদি পাই স্থানীয় প্রশাসনই আমাদের বিচার দেবে।' পাশাপাশি মৃতের দাদার দাবি বিরজু তৃণমূলে পুরপ্রধানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন না, বরং তাঁর অধীনে কেবল চাকরি করতেন মৃত তৃণমূলকর্মী।
আরও পড়ুন:- 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গায়ে যদি হাত পড়ে...', হালিশহরে তুলকালাম, কী বলছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
তবে হালিশহরে প্রমোদনগর ভূতবাগানে গিয়ে প্রবল ক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে হামলা করেন বিক্ষোভকারীরা, উঠে 'চোর' স্লোগান।মমতার গাড়িতে কাদা লেপে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান। মৃত তৃণমূল কর্মীকে লকআপে থার্ড ডিগ্রি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মমতা। তাঁর গাড়িতে ইট মারা, মৃতের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে না দেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি। গোটা ঘটনার জন্য পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে দায়ী করে আক্রমণ শানান মমতা।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'লকআপে পিটিয়ে মেরে ফেলার পরও বাড়ি গিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। আমরা আসব বলেছিলাম, এসেছি। ইট, বড় বড় পাথর ছুড়েছে। নিরাপত্তা ভুলে যান। পুলিশের সামনে গাড়িতে পাথর ছোড়া হয়েছে। বাইরের লুম্পেনরা এসেছে। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে লুম্পেন জোগাড় করেছে পুলিশ। এই লুম্পেনদের দ্বারাই প্রোটেকশন নিচ্ছে পুলিশ। হেফাজতে মৃত্যু হচ্ছে। বাংলা আজ লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমি দেখা করতে আসব বলেছি, ওর স্ত্রীর সঙ্গে কাল দু'বার কথা হয়। বিধায়ক এসে বলে গিয়েছে, 'ঘর থেকে বেরোবেন না'। আমরা মামলা করব। পুলিশের সামনে পাথর মেরেছে। পুলিশের উপর আমার কোনও রাগ নেই। রাগ হচ্ছে যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে উপদ্রব করছেন। বাংলায় বর্বরতা চলছে। পুলিশ বিজেপি-র কার্ড হোল্ডারে পরিণত হয়েছে। বিজেপি-র সন্ত্রাস চলছে।'
যদিও গোটা ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, মমতা শান্ত জায়গাকে অশান্ত করতে পৌঁছেছিলেন সেখানে।
সেরা শিরোনাম























