Pratik ur Rahaman : 'ওঁর কথাতেই ইয়েস স্যার বলতে হবে, তবে পদোন্নতি হবে', একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রতীক উরের নিশানায় একাধিক নেতৃত্ব
Pratik Ur Rahaman Exclusive Interview : একান্ত সাক্ষাৎকাে দলের একাধিক বিষয় নিয়ে সরব হলেন তরুণ নেতা।

আশাবুল হোসেন, কলকাতা : দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রতীক উর রহমান। সঙ্গে নিশানা করলেন একাধিক নেতৃত্বকে। এবিপি আনন্দ-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন সদ্য তাঁর দল সিপিএম থেকে দূরত্ব বাড়ানো প্রতীক উর রহমান। সিপিএম-এর রাজ্য কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন আগেই। সোমবার সকালে দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বৃদ্ধি এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চার বিষয়। একান্ত সাক্ষাৎকাে দলের একাধিক বিষয় নিয়ে সরব হলেন তরুণ নেতা।
এবিপি আনন্দ : আপনি যে চিঠি দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে লিখেছেন তাতে যে মূল বিষয়বস্তু যে বর্তমান সময়ে দলের জেলা এবং রাজ্য নেতৃত্বের যে ভাবনা এবং তাঁদের কর্মপদ্ধতি তার সঙ্গে আপনি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছেন না। সেই সঙ্গে আপনি এটাও বলেছেন যে, আপনি গভীর একটা দ্বন্দ্বের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে। কী কী কর্মপদ্ধতি যা আপনাকে বিচলিত করেছে বা মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে আছেন ?
প্রতীক উর রহমান : এই দ্বন্দ্বটা দলের বিরুদ্ধে নয়। দলের অভ্যন্তরে কিছু ব্যক্তি, কিছু নেতৃত্ব আছেন। যারা মতাদর্শকে সামনে রেখে, মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে নিজের ব্যক্তি ইমেজকে প্রতিষ্ঠা করতে চান। সেই ব্যক্তি ইমেজ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে যখন কোনও ব্যক্তি প্রশ্ন করেন, তাঁকে রাতারাতি কোণঠাসা করে দেওয়া হয় সিপিএম দলের মধ্যে...যে কথা প্রচলিত হয় জনসমাজের মাধ্যমে...লোকজন যেটা জানে, সো-কলড লবিবাজির শিকার আমি। দিনের পর দিন একাধিক ইস্যুতে প্রশ্ন করার কারণে এবং অনেক নেতার শেখানো বুলি আমি আওড়াতে পারিনি। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জেলা সম্মেলন হয়েছে। সেই সম্মেলনে আমাকে এক পক্ষের নেতা বলেছিলেন যে অমুক নেতার পক্ষে তোমাকে হাত তুলতে হবে। যদি তুমি হাত না তোলো তুমি ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে কোথাও কাজ করতে পারবে না। আমি বললাম, কমিউনিস্ট পার্টি করতে এসেছিলাম কারো শেখানো বুলি আওড়ানোর জন্য নয়। প্রশ্ন করার জন্য । আমার যেটা ঠিক মনে হবে সেটাই আমি বলেছি। সেটাই আমি বলেছি। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত গোটা লোকসভা কেন্দ্রে আমায় কোথাও ঢুকতে দেওয়া হয়নি। অভ্যন্তরীণ মিটিং হোক বা প্রকাশ্য মিটিং। মাইনোরিটিদের ইস্যু নিয়ে সভা হচ্ছে। সেই সভায় আমি বক্তা নই। সেই সভায় আমায় ডাকা হচ্ছে না। কেন ? কারণ, আমি সম্মেলনের সময় কোনও নেতার শেখানো বুলি বলতে পারিনি তাই। দলের অভ্যন্তরে আমি প্রশ্ন করেছিলাম, এই যে বাংলা বাঁচাও যাত্রা হল...কোন নেতৃত্ব কোথায় থাকবেন এটা ঠিক হয়েছে। লিস্ট বেরলো রাজ্য কমিটির গ্রুপে। আমি যখন লিস্ট খুলে দেখলাম ওখানে সৃজন ভট্টাচার্যের নাম নেই। সৃজন আর আমি একসঙ্গে ছাত্র রাজনীতি করেছি। আমি মনে করি, একশোটা প্রতীক উর রহমান জন্ম নিতে পারে, কিন্তু একটা সৃজন ভট্টাচার্যের যে গভীরতা, তাঁর যা জ্ঞান, তাঁর যা শব্দের ওপর দখল...এরকম তৈরি হওয়া বহু দশক পরে একজন করে জন্ম নেন। সেই ছেলেটাকে...বাঁংলা বাঁচাও যাত্রার লিস্টে নাম নেই। অনেক নেতার নাম আছে। নামী-অনামী সমস্ত রাজ্য কমিটির নেতার নাম আছে। সৃজন ভট্টাচার্যের নাম নেই। কেন নেই ? এই প্রশ্নটা আমরা যখন করেছিলাম। এই প্রশ্নগুলো অপ্রিয় প্রশ্ন ? এই প্রশ্নগুলো করার কারণে টানা ২ বছর আমি বসে আছি। যুব করতে দেওয়া যাবে না...বলবে ইউনিট-লোকাল করে উঠতে হবে তোমাকে। ঠিক আছে অসুবিধা নেই। সংগঠনের প্রতিটা ধাপ বেয়ে উঠেছি। আমার কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু, নিয়ম তো সবার জন্য সমান হবে। আমার জন্য নিয়ম হবে তুমি ইউনিট, লোকাল পর পর ধাপ পেরিয়ে পেরিয়ে উঠবে, আর কিছু পিয়ারের লোক থাকবে...যারা একটা সংগঠন ছেড়ে আর একটা সংগঠনে নেতৃত্বের জায়গায় বসবেন...এই দ্বিচারিতা কেন হবে ? এগুলি কি অপ্রিয় প্রশ্ন ? এই প্রশ্নগুলি করা যাবে না কমিউনিস্ট পার্টির অন্দরে ? আমাকে বলল তুমি খেতমজুর করবে। তোমার গায়ে মেঠো গন্ধ আছে। আমি বললাম ঠিক আছে। কোনও সমস্যা নেই। তুমি রাজ্য স্তরে নেতৃত্বের কাজ করবে। আমি বললাম, ঠিক আছে কোনও সমস্যা নেই। রাজ্য স্তরে নেতৃত্ব দিতে হবে না। কর্মী হিসাবে কাজ করতে চাই। কাজ করার জায়গাটা যাতে পাই। রাজ্য সম্মেলন হচ্ছে। আমাকে ডেলিগেট পর্যন্ত করেনি। রাজ্য কমিটির সদস্য তো ছেড়ে দিন। আমাকে ডেলিগেট পর্যন্ত করেনি। নেতৃত্ব তো দূরে থাক। এতটাই অযোগ্য আমি কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে হয়ে গেছি ? দলের মধ্যে থেকে যদি প্রশ্ন করতে না পারি তাহলে আমাকে ব্রাত্য করে দেওয়া হবে ? এটা শুধুমাত্র আমার ব্যক্তি প্রতীকুরের সমস্যা হচ্ছে। মানসিক দ্বন্দ্ব হচ্ছে এই জায়গাটায় যে ক'দিন ধরে যা দেখছি রোজ... এই কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যে কমিউনিস্ট পার্টির স্বপ্ন দেখেছিলাম আমি, তার সঙ্গে মেলাতে পারছি না। রাজ্য সম্পাদক-সহ কিছু কিছু পেয়ারের লোক আছে...কিছু খাস লোক আছে,যাদের পরিমণ্ডলে উনি আবদ্ধ থাকেন। ওঁর কথাই তাঁদের কথা হয়। ওঁর শেখানো বুলি তাঁরা বলেন। শুধু রাজ্য সম্পাদক নন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সেক্রেটারি আছেন। ওঁর কথাতেই দল চলবে। ওঁর কথাতেই ইয়েস স্যার বলতে হবে। তবে, তোমার পদোন্নতি হবে। এটা দলে স্বার্থান্বেষী নয় ?























