CPM News: ‘দিনের পর দিন আমার সঙ্গে যা হয়েছে…সহ্য করার ক্ষমতা আমার নেই’, বিস্ফোরক প্রতীক উর রহমান
Pratik Ur Rahaman Exclusive:১৬ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগপত্র জমা করেন প্রতীক উর।

কলকাতা: আচমকা রাজ্য কমিটি, জেলা কমিটি, প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা। অকপটে উগরে দেওয়া ক্ষোভ, অভিমান। প্রতীক উর রহমান হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নিলেন কেন, সেই নিয়ে সিপিএম-এর অন্দরে তো বটেই, রাজ্য রাজনীতির সর্বত্রই কাটাছেঁড়া চলছে। তাঁকে নিয়ে কার্যত আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গিয়েছে বাম শিবির। একপক্ষ যেমন তরুণ কমরেডের প্রতি সহানুভূতিশীল, অন্য পক্ষ আবার ছুড়ে দিচ্ছে তির্যক মন্তব্য। তৃণমূলে যেতেই শেষ বেলায় দলের প্রতি বিষোদ্গার করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ। কিন্তু প্রতীক উর সাফ জানিয়ে দিলেন,বাইরের চাপে নয়, দলের অন্দরের চাপেই এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাঁকে।
১৬ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগপত্র জমা করেন প্রতীক উর। তিনি অন্য কোন দলে যাবেন, সেই নিয়ে এখন জোর চর্চা চারিদিকে। সেই আবহেই এবিপি আনন্দে মুখ খুললেন প্রতীক উর। বললেন, "কী হয়েছে, কে আছে, সর্ষের মধ্যে ভূত কি না, জানি না আমি। অনেকে বলছে, দাদা পার্টির সঙ্গে বসো, কথা বলো। আমি পার্টির সঙ্গে বসতে চাই, ১০০ বার বসতে চাই। যদি আজ ডাকে, আজই বসতে চাই পার্টির সঙ্গে। কিন্তু কথা বলব, সেই কথার গোপনীয়তা তো থাকবে না, তাই না! যাঁকে অ্যাড্রেস করে দিয়েছিলাম, তিনি এখনও ফোন করতে পারেননি অনেক ব্যস্ততার মধ্যে। তবে বেশ কিছু নেতৃত্ব ফোন করেছিলেন, যাঁদের ভীষণ সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি।"
হঠাৎ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতীক উর বলেন, "আমি চেয়েছিলাম, দলের অন্দরে দিনের পর দিন আমার সঙ্গে যা হয়েছে, আমাদের মতো অসংখ্য কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে যা হয়, যা এখনও হচ্ছে, তাদের কথা একটু শোনা হোক। শোনা হয়নি বলেই বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছিলেন প্রতীক উর। কোনও রকম চাপ তৈরি হয়েছে কি তাঁর উপর, যেমনটা বামপন্থীদের একাংশ দাবি করছেন? প্রতীক উরের সাফ বক্তব্য, "চাপ-প্রেসার থাকলে ২০২১ সালেই তৃণমূল জয়েন করতাম। লোকসভা নির্বাচনের সময় করতাম! ফলে ওই চাপ, প্রেসার সহ্য করার ক্ষমতা আমার আছে। কিন্তু দলের মধ্যে যে চাপ, লবিবাজির যে জাঁতাকল, তা সহ্য করার ক্ষমতা প্রতীক উর রহমানের নেই।"
প্রতীক উরকে নিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, আমি শুধু অবাক হয়ে দেখলাম যে, এমন কিছু তথাকথিত, বায়োলজিক্যাল ফেরেববাজ সিপিএম-এ রয়েছে, তারা প্রতীক উরের ইস্তফা নিয়ে নানা রকম কথা বলে যাচ্ছে। আরে ভাই, তোমাদের সমবয়সি, তোমাদের চেয়ে ছোট, যদি কারও অসুবিধা হয়ে থাকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় বড় কথা না বলে, তার কাছে গিয়ে অভিমান ভাঙানোর চেষ্টা করো! আরে ভাই, বাড়ি গিয়ে তার মনটা বোঝ তুই যদি বন্ধু হোস! তাদের পাওয়া যাচ্ছে না খুঁজে।"






















