RG Kar Death : আবার সেই RG কর, ট্রমা কেয়ারে 'বন্ধ শৌচালয়', সুলভে যেতে গিয়ে শেষ বৃদ্ধ রোগী
RG Kar Hospital Death : ছেলের কথায়, শৌচাগারে যেতে তাঁর বাবার এতটাই ধকল হয় যে, শরীর ছেড়ে দেয়।

সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : ঠিক দুইদিন আগের ঘটনা। ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে বাড়িতে নিথর দেহ ফিরেছে দমদমের অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। লিফট বিভ্রাটে যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে প্রাণ গিয়েছে যুবকের। ঘটনায় ৩ জন লিফটম্য়ান সহ ৫ জিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু সেই ঘটনার দায় কার , সেই উত্তর মেলার আগেই আবার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ফের সেই আর জি কর হাসপাতালেই। ফের চরম অব্যবস্থার অভিযোগ। ২ দিন আগে ছেলেকে অন্য তলায় শৌচাগারে নিয়ে যেতে গিয়েই লিফটে আটকে প্রাণ যায় অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আর সোমবার ট্রমা কেয়ারে আসা গুরুতর অসুস্থ রোগীকে সুলভ শৌচালয়ে নিয়ে যেতে গিয়ে মৃত্যুর অভিযোগ উঠল পরিবারের তরফে।
চিকিৎসা করাতে এসে মৃত্যু হল প্রৌঢ়ের। মৃতর নাম বিশ্বজিৎ সামন্ত । পরিবার সূত্রে খবর, বিশরপাড়ার বাসিন্দা ৬০ বছর প্রৌঢ়কে প্রবল বুকে ব্যথা হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাঁর শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল ও নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। ভোর ৪ টে নাগাদ প্রৌঢ়কে আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে আসে পরিবার। তাঁরা জানান, ট্রমা কেয়ারে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। তাঁকে অক্সিজেন দেওয়া হয়, ড্রপ দেওয়া হয়। তারপর তিনি একটু ধাতস্থ হলে শৌচালয়ে যেতে চান। কিন্তু ট্রমা কেয়ারের ফ্লোরের শৌচাগার বন্ধ। রোগীদের জন্য কোনও শৌচাগার খোলা নেই। অভিযোগ, রোগীর টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন হলে, হাসপাতালের তরফে আর জি কর মেডিক্যালের গেটের পাশে সুলভ শৌচালয়ে নিয়ে যেতে বলা হয়। পরিবারের দাবি, ট্রমা কেয়ার থেকে ৫০ মিটার দূরত্বে হেঁটে যেতে গিয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়েন প্রৌঢ়। ছেলের কথায়, শৌচাগারে যেতে তাঁর বাবার এতটাই ধকল হয় যে, শরীর ছেড়ে দেয়। কোনওক্রমে তিনি ধরে ধরে ফের ট্রমা কেয়ারে ফিরিয়ে নিয়ে যান। সম্ভবত তাঁর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় সেখানে।
ট্রমা কেয়ারে ফিরিয়ে নিয়ে এলে, তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। গোটা ঘটনায় হাসপাতালের অব্যবস্থার দিকে আঙুল তুলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে মৃতের পরিবার। মৃত প্রৌঢ়র স্ত্রীর দাবি, বারবার স্ট্রেচারের জন্য অনুরোধ করেও পাওয়া যায়নি। রোগীকে শৌচালয়ের দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ বা নিরাপত্তারক্ষীদের সাহায্য চাইলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। তাই যে মানুষটার দম আটকে আসছিল, নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল, তাঁকে হাঁটিয়ে নিয়ে যেতে হয় শৌচালয় অবধি।
মৃত্যুর কারণ জানতে আর জি কর হাসপাতালেই করা হচ্ছে ময়নাতদন্ত। ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে টালা থানা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীর সংখ্যার নিরিখে শৌচালয়ের সংখ্যা কম বলেই এই সমস্য।





















