South 24 Parganas News: ক্যানিংয়ে TMC-র ২ কর্মীকে প্রকাশ্যে 'খুনের' হুমকি যুবকের ! ধারালো অস্ত্র নিয়ে এগোতেই ..
Canning TMC worker Got Murder Threats: ভয়াবহ ঘটনা ক্য়ানিংয়ে !

শান্তনু নস্কর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ক্য়ানিংয়ে পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য় ও তৃণমূল কর্মীকে প্রকাশ্য়ে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ। ধারালো অস্ত্র সমেত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। সূত্রের খবর। ধৃত যুবক কৌশিক হালদারের নামে এর আগে চুরির অভিযোগ উঠেছে। কয়েকদিন আগে গ্রামবাসীদের নিয়ে সালিশি সভা বসানো হয় পঞ্চায়েতের তরফে। সেখানেই পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য় জয়ন্ত হালদার ও তৃণমূল কর্মী বাটুল মণ্ডলকে খুনের হুমকি দেন কৌশিক। বৃহস্পতিবার এলাকায় ধারালো অস্ত্র হাতে তৃণমূলের ২ কর্মীকে খুুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ। পঞ্চায়েত সদস্যের অভিযোগের পর গ্রেফতার কৌশিক হালদার।
আরও পড়ুন, দামোদরে নামার পর ঠিক কী হয়েছিল ? ৩ বন্ধুর দেহ গেল ময়নাতদন্তে ! মর্মান্তিক ঘটনা বর্ধমানে
নতুন বছরের দ্বিতীয় দিনে খুন হয়েছিলেন তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি দুলাল সরকার। সেই মালদাতেই গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান এক তৃণমূলকর্মী। গুলিবিদ্ধ হন অঞ্চল সভাপতি। তৃণমূলের শীর্ষ স্তরের এক নেতার খুনের ১২ দিনের মাথায় এই ঘটনায়, স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এত সাহস পেল দুষকৃতীরা? কীভাবে এত ডোন্ট কেয়ার মনোভাব? কী করছিল পুলিশ-প্রশাসন? শুধু মালদার ঘটনাই নয়, সম্প্রতি একের পর এক ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে পুলিশের ভূমিকা।
১৪ জানুয়ারি, বাগুইআটিতে এক প্রোমোটারকে বনদুকের বাঁট দিয়ে মেরে এভাবেই মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তোলা না দেওয়ায় প্রোমোটারের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল বিধাননগরের তৃণমূল কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তীর দলবলের বিরুদ্ধে।আবার এই পুলিশই কসবার তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের উপর হামলার ঘটনায় মূল চক্রী থেকে শুরু করে হামলাকারী, কনট্র্যাক্ট কিলারকে পরপর ধরে ফেলেছিল পুলিশ। ২০২৪-এ নন্দীগ্রামে লোকসভা ভোটের একদিন আগেই পিটিয়ে, কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল বিজেপির মহিলা কর্মী রথিবালা আড়িকে। তৃণমূল আশ্রিত দুষকৃতীদের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছিল নিহতের পরিবার।
কিন্তু সেই ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হওয়ার আগেই, বিজেপি কর্মী খুনের পর দোকানে দোকানে আগুন লাগানোর ঘটনায় ২ বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করে ফেলেছিল পুলিশ। তখনও প্রশ্ন ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সক্রিয় হলেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয় কেন? ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত ভোটের আগে ময়নার বাকচা গ্রামে খুন হন বিজেপির বুথ সভাপতি বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইয়া। সেই ঘটনাতেও পুলিশের ভূমিকায় রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেছিল আদালত।
৯০ দিনেও চার্জশিট দিতে না পারায় জামিন পেয়ে গিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা-সহ ৩ অভিযুক্ত। 'অভিযুক্তদের জামিন পাইয়ে দিতেই অসৎ উদ্দেশ্য পুলিশের' মন্তব্য করেছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি। আবার, কালনায় বাড়িতে ঢুকে এক মহিলাকে চুলের মুঠি ধরে টেনে হিঁচড়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের কালনা শহরের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। চাপের মুখে তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করলেও আদালতে তাকে হেফাজতেই চায়নি পুলিশ।
ফলে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই জামিনে মুক্ত হয়ে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা।এখানেই বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন তৃণমূল করলেই কি সাত খুন মাফ? অভিযোগের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে না প্রশাসন? যে পুলিশের হাতে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব, তার বিরুদ্ধেই যদি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে, তাহলে কার কাছে যাবে সাধারণ মানুষ? প্রশ্ন উঠেছে।























