Trinamool: ক্ষমতা যেতেই ছন্নছাড়া তৃণমূল, 'পার্টিটা উঠে যাবে, থাকবে না', নিশানা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের, পাল্টা আক্রমণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
Ritabrata Banerjee: নির্বাচনে অভিষেকের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ উপস্থিত সকলে উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান অভিষেককে। যা নিয়ে দলীয় নেতৃত্বকে তুলোধনা করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে ভয়ানক ভরাডুবি। তারপর সেই ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার আগেই প্রকাশ্যে তৃণমূলের সই জালিয়াতি। আর এই সম্পূর্ণ ঘটনা সামনে নিয়ে এসেছে তৃণমূলের টিকিটে জেতা দুই বিধায়ক, উলুবেড়িয়া পূর্বের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও এন্টলির সন্দীপন সাহা। সন্দীপন সাহা বলছেন, "অন্যায় করবে দল আর তার দায় নেব আমরা?" এক ধাপ এগিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, "তৃণমূল পার্টিটা উঠে যাবে, থাকবে না। ঘটনায় মুখ পুড়েছে তৃণমূলের। আর তারপরই তড়িঘড়ি এই দুই বিধায়ককেই দল থেকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল।
যদিও এরপরও চুপ করে নেই তাঁরা। একেবারে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছেন দলের ভিতরের অনেক খবর। তাঁদের নিশানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, "আমি দেখেছি যে বিধায়ক নেই। সই করতে গিয়ে দেখছি তাঁর নাম লেখা রয়েছে। তারপরে খেয়াল করে দেখলাম যে ক্যামাক স্ট্রিট কোম্পানির কিছু চাকরিজীবী, ওরাই খাতা নিয়ে নাড়া ঘাঁটা করছিল। আমি তো মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, সাধারণ সম্পাদকের অফিসের যাঁরা ছিলেন, তাঁদেরও আমার ধারণা তদন্তের আওতায় আনা দরকার।"
গত ৬ মে, ভোটের রেজাল্ট বেরোনোর ২ দিন পর কালীঘাটের বাড়িতে জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূলে থেকে কঠিন সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা চলবে না। এ ছাড়াও নির্বাচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ উপস্থিত সকলে উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান অভিষেককে। যা নিয়ে দলীয় নেতৃত্বকে তুলোধনা করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক বলছেন, "তৃণমূল তো জেতেনি, পরাজিত হয়েছে। মানুষ তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট দিচ্ছে। ৬ তারিখের মিটিংয়ে বলছে সবাই উঠে দাঁড়ান। সবাইকে উঠে দাঁড়াতে হবে। কেন উঠে দাঁড়াতে হবে? দারুণ যে ফলাফল হয়েছে, তার যিনি কুশীলব, কারিগর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানতে হবে। আছেন অনেকে। আমি কিছুটা, হাফ উঠেছিলাম। পুরো উঠিনি। আবার আমার থেকেও সাহসী বিধায়ক আছেন। আমি নাম বলে তাঁকে বিব্রত করব না। ওঠেননি। বসেছিলেন।"
ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেনাপতি বলে পরিচিত ছিলেন যিনি, ফলতার ভোটের আগে সেই জাহাঙ্গির খানের সরে দাঁড়ানো নিয়েও ক্ষোভ উগোড়ে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ বিধায়করা। এন্টলির বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলছেন, "দলের মধ্যে প্রতিবাদের কোনও পরিবেশ নেই। আমাদের ডাকা হয়েছিল একটা বিষয়ে। আমরা বললাম পুষ্পা ঝুঁকে গিয়েছে। জাহাঙ্গির খানকে বহিষ্কার করা উচিত। তখন আমাদের ডাকা হল। কিন্তু কোনও আলোচনা হল না। আমরা যখনই কোনও প্রশ্ন করতে গিয়েছি, বলে ট্যুইট দেখে নাও। প্রশ্ন করার জন্য হাত তুললে বসিয়ে দেওয়া হয়। বলে এখন নয়, পরে। এই দমবন্ধ পরিবেশে আপনি কী আলোচনা করবেন? পরিবেশই নেই।"
মুখ খোলে পাল্টা আক্রমণ করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, "নীতিহীন একজন। আমাদের ভুল হয়েছে তাঁকে টিকিট দেওয়া। পায়ে এসে পড়েছিল। অন্য লোকের টিকিট কেটে নিয়ে তাঁকে হাওড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল। আজকে তাঁদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি হাত জোড় করে।"
Before You Go
Municipal Election: BJP এবং NCPI-এর সম্পর্কের ভবিষ্য়ৎ নিয়ে এখনও চলছে নানা জল্পনা | ABP Ananda























