Suvendu Adhikari : 'সতর্ক করে দিয়ে গেলাম', মহিষাদল থানায় ঢুকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, 'অভিমানী' বিজেপি নেতাকে ওসির ফোন ?
Purba Medinipur News : 'অভিমানী' বিজেপি নেতা বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে মহিষাদল থানার ওসি, তৃণমূল দল ভাঙানোর চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিটন চক্রবর্তী, মহিষাদল : মহিষাদল থানায় ঢুকে ডিউটি অফিসারের উপস্থিতিতে হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির প্রার্থিতালিকা ঘোষণার পর দল ভাঙানোর অভিযোগে সরব হলেন বিরোধী দলনেতা। 'অভিমানী' বিজেপি নেতা বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে মহিষাদল থানার ওসি, তৃণমূল দল ভাঙানোর চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মহিষাদল থানার কর্তব্যরত অফিসারকে শুভেন্দুকে বলতে শোনা যায়, উনি হোয়াটসঅ্যাপ কল করে, উনি এবং আর একজন পুলিশ অফিসারের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিয়েছিলেন। আমাদের কাছে কমপ্লিট রেকর্ডটা আছে। আফটার এমসিসি, এগুলো পুলিশের কাজ নয়। পুলিশের কাজ নয়, আইপ্যাকের সঙ্গে কথা বলে এগুলো করা। এই একই অভিযোগ তমলুকের এসডিপিও, নন্দীগ্রামের আইসির বিরুদ্ধে আছে। আমি সতর্ক করে দিয়ে গেলাম। আপনি বলবেন, বিশ্বনাথ ব্যানার্জি সব রেকর্ডিং করে আমাকে দিয়েছেন। বিশ্বনাথ ব্যানার্জির বাড়ি থেকে আসছি। এটা পুলিশের কাজ নয়। বেতন তৃণমূল দেয় না। ট্যাক্সের টাকায় বেতন পান। অশোক স্তম্ভ লাগানো আছে। নির্বাচন কমিশনের গাইড-লাইন অনুযায়ী কাজ করতে বলবেন। উনি নিজে থাকলে আমি বলে যেতাম। আমি অন-রেকর্ড, সিসি টিভির সামনে ডিউটি অফিসারকে ভদ্রভাবে বলে গেলাম। এটা পুলিশের কাজ নয়।
নেপথ্যে কী ?
২০২১-এ মহিলাদলে বিজেপি প্রার্থী হয়েছিলেন বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এবার টিকিট পাননি। তিনি 'অভিমানী' হয়ে পড়েন। পরের দিনই তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে পদ থেকে অব্যাহতি চান। আজ সেই বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বাড়িতে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ভিতরে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন। তাঁর বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার পর শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি অভিযোগ করেন, যেহেতু তিনি (বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়) অভিমানী হয়েছিলেন, সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, বিভিন্ন জায়গায় তিনি তাঁর পদ ছাড়ছেন বলেও জানিয়েছিলেন, তারপরেই তাঁকে মহিষাদল থানার ওসির নাম করে ফোন করা হয়। এক তৃণমূল নেতারও তিনি নাম করেন। সেই তৃণমূল নেতার তরফে ফোন করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল, এমনটাই অভিযোগ করেন। এর জবাব চাইতে তিনি মহিষাদল থানায় আসবেন বলে বিশ্বনাথ বন্দ্য়োপাধ্যায়ের বাড়িতে থেকেই বলেছিলেন শুভেন্দু। বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বেরনোর পর মহিষাদল থানায় আসেন শুভেন্দু। সেই সময় ওসি মহিষাদল ছিলেন না, ছিলেন ডিউটিরত অফিসার । তাঁর সামনেই থানার ভিতরে ঢুকে কার্যত হুঁশিয়ারি দেন।
যদিও এনিয়ে এখনও পর্যন্ত জেলা পুলিশের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শুভেন্দু যখন যান সেই সময় ওসি মহিষাদল, তিনিও সেখানে ছিলেন না। ফলে, তাঁরও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পরে শুভেন্দু বলেন, "তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তো কোনও মানুষ নেই। হিন্দুও নেই, রাষ্ট্রবাদী মুসলিমরাও নেই। তৃণমূলের সঙ্গে দুটো পিলার আছে, একটা পুলিশ-একটা আইপ্যাক। যেদিন প্রার্থিতালিকা ঘোষণা হয়, স্বাভাবিকভাবে বিশ্বনাথবাবুর একটু দুঃখ মনে থাকতে পারে। তাঁর পরিবারের লোকেরাও রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে গিয়েছিলেন। ১৫ বছর ধরে বাড়ির লোক তাঁকে সহযোগিতা করেছেন যাতে তিনি বাড়িতে কম সময় দিয়ে, জনগণের জন্য-দলের জন্য বেশি সময় দিতে পারন। সেই সুযোগ নিয়ে এখানকার যিনি ওসি পীযূষ মণ্ডল হোয়াটসঅ্যাপ কল করেন একাধিকবার। সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের জায়গা মহিষাদল, তৃণমূলের নোংরা ছোটলোকগুলো নষ্ট করেছে এটা।" দল বদলের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।
বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলছেন, "প্রথম থেকেই বলেছি, দলের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করার ব্যাপার নেই। সেই জায়গায় আক্ষেপ হয়েছিল। দাদা এসেছিলেন, দাদার সঙ্গে কথা হয়েছে। এককথাই বলি, আমি ভারতকে ভালবাসি, মোদিজিকে ভালবাসি, বিজেপিকে ভালবাসি।"





















