মাটনের বদলে বিফ ! সায়কের অভিযোগে কী হল সেই ওয়েটারের? কারা পাশে দাঁড়ালেন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের?
Sayak Chakraborty Beef Case: বিতর্ক কি আর থামার? সে তো চলছেই। এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ সায়কের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কেউ আবার পাশেও দাঁড়িয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের।

সৌমিত্র রায়, ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, কলকাতা : দুই দিন হয়ে গেল। এখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা অব্যাহত। পক্ষে - বিপক্ষে পোস্টে সরগরম দেওয়াল। পার্ক স্ট্রিটের নামী রেস্তোরাঁয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়ক চক্রবর্তীর অভিযোগের ভিডিও ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। তাঁর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই রেস্তোরাঁর ওয়েটরকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, যে ভিডিও ঘিরে এত শোরগোল, সেই ভিডিও সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে পরে সরিয়ে ফেলেছেন সায়ক চক্রবর্তী। কিন্তু বিতর্ক কি আর থামার? সে তো চলছেই। এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ সায়কের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কেউ আবার পাশেও দাঁড়িয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের।
সায়কের অভিযোগ কী
সায়ককে ভিডিওয় বলতে শোনা গিয়েছে, ' আমরা অর্ডার করেছিলাম মটন স্টেক। আমাদেরকে দিয়ে যাওয়া হল বিফ স্টেক।' ওই ভিডিও-য় সায়ককে দাবি করতে শোনা গিয়েছে 'স্বাভাবিকভাবেই বলা হয়নি এটা কী। অর্ডার প্লেট রেখে চলে গেছে আমরা ভেবেছি এটা মটন স্টেক। আমরা খেয়ে নিলাম। এরপর আরও একটা এসে দিয়ে গেল। বলছে এটা মটন স্টেক। আপনারা দুটো দিয়েছিলেন বিফ অ্যান্ড মটন। বাট আমরা একটাই দিয়েছিলাম। আমরা এতক্ষণ যেটা খেলাম সেটা বিফ খেলাম।'
কে পক্ষে , কেই বা বিপক্ষে
সায়ক চক্রবর্তীর এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তাঁর ভুলের জন্য ক্ষমা চাইছেন ওয়েটর। যদিও তাতে চিঁডে ভেজেনি। থানায় অভিযোগ হয়। ওয়েটরকে গ্রেফতারও করে পুলিশ। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও জোরদার হয় তরজা। অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী পোস্ট করেছেন, মটন, মাখা-সন্দেশ, পানিফল, বিফ, চিনেবাদাম কোনটা কী, খেয়ে বোঝেনা? তোমার স্বাদ কোরক নেই কুসুম?' এমনই কটাক্ষের সুর রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্টেও। 'চুপ করেই থেকেছি, কারণ চিরকাল ভেবেছি অন্যের কাজ নিয়ে আমি বলার কে? তাই শত অপছন্দ থাকা সত্ত্বেও চুপ থেকেছি। কিন্তু এবার আর সম্ভব নয়। সায়ক এইবার যেটা করেছে তা হিংসায় উস্কানি এবং রাজ্যের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা।'
পরিচালক সৌরভ পালোধি পোস্ট লিখেছেন, 'গরিব মানুষটার চাকরি থাকবে নাকি যাবে? ওসব ভেবে লাভ নেই। আমার কনটেন্ট নেমে গেছে।'
সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ আবার সায়কের পক্ষেও কথা বলেছেন। যেমন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ। তিনি লিখেছেন, 'যদি হিজাব পরা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হতে পারে, তাহলে আমি কি খাবার খেতে চাই সেটা নয় কেন? মাটন বলে বীফ দেওয়া আর তারপরে হেসে ব্যাপারটা লঘু করে "ভুল হয়ে গেছে" বললে কি সেই অপরাধ খাটো হয়?'
আবার একই সুরে বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারীর বক্তব্য ' মাটনের জায়গায় বিফ পরিবেশন করার অভিযোগে Olypub-এর ওয়েটার গ্রেফতার। আর সেই ওয়েটারের হয়ে আজ গলা ফাটাচ্ছে বাম–তৃণমূল ইকোসিস্টেম। কেউ কেউ তো প্রকাশ্যেই তার মুক্তির দাবিও জানাচ্ছে। কিন্তু কয়েক মাস আগের ঘটনাটা মনে আছে? গীতা পাঠের অনুষ্ঠানে “veg” বলে যখন চিকেন প্যাটিস খাওয়ানো হয়েছিল, তখন দোষটা কার ঘাড়ে চাপানো হয়েছিল? হিন্দু ছেলেটার। তখন কোনো মানবাধিকার, কোনো ‘ভুল বোঝাবুঝি’, কোনো সহানুভূতি—কিছুই ছিল না।'
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই অলিপাবের ওয়েটারকে গ্রেফতার করেছে পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ।























