এক্সপ্লোর
স্কেটিংয়ে জেতা সোনার পদক ছুড়ে ফেলেছিলেন বাবা, ছেলের ব্যাটিং নিয়ে কুসংস্কার ছিল মায়ের মনে, অবসর ঘোষণার দিন বিশেষ ভিডিওতে যুবরাজের অজানা কাহিনি
ভিডিওটি শ্যুটিংয়ের জন্য বাবা তথা জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার যোগরাজকে নিয়ে যুবরাজ ফিরে গিয়েছিলেন চণ্ডীগড়ে তাঁদের পুরনো আস্তানায়। বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যে সিমেন্টের পিচ বানিয়ে, ফ্লাডলাইট বসিয়ে, ছেলেকে বাউন্সার দিতেন যোগরাজ

মুম্বই: বাবার অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূর্ণ করার দায়িত্বটা শৈশব থেকেই যেন চেপে গিয়েছিল তাঁর কাঁধে। গুরুভারে পুত্রের কাঁধ যেন নুয়ে না পড়ে, সে ব্যাপারে বাড়তি সচেতন ছিলেন পিতাও। ছেলের জীবনকে তাই বুনতে চেয়েছিলেন কড়া প্রশিক্ষণ আর তত্ত্বাবধানের জালে। ক্রিকেটার যুবরাজ সিংহের নির্মাণের নেপথ্যে তাই যোগরাজ সিংহের অবদান কম নয়। বাইশ গজকে বিদায় জানানোর দিন যে সত্য ফের সকলের সামনে তুলে ধরলেন ভারতীয় ক্রিকেটের ‘যুবি’। অবসর ঘোষণার মঞ্চে যুবরাজ প্রকাশ করলেন তাঁর ক্রিকেটার হয়ে ওঠার কাহিনির এক অনবদ্য দলিল। ১৫ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও। পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেন ভারতের জোড়া বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক। কী রয়েছে সেই ভিডিওতে? রয়েছে যুবরাজের উত্থানের বৃত্তান্ত। রয়েছে তাঁর ব্যর্থতার অধ্যায়। এবং বেশ কিছু না জানা কাহিনি।
যুবরাজ ভিডিওর শুরুতেই বলেছেন, ‘যেদিন দাঁড়াতে শিখেছিলাম, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত, আমার হাতে ব্যাট থেকেছে। আমি শুধু ক্রিকেট খেলিনি, ক্রিকেটেই বেঁচেছি।’ যুবরাজ জানিয়েছেন, তিনি ক্রিকেটকে ভালবাসেন। আবার ঘৃণাও করেন! বলেছেন, ‘খেলাটা ভালবাসি কারণ ক্রিকেটই আমার সব। ঘৃণা করি কারণ খেলাটা মানসিকভাবে আমাকে খুব নিংড়ে নিয়েছে।‘ ভিডিওটি শ্যুটিংয়ের জন্য বাবা তথা জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার যোগরাজকে নিয়ে যুবরাজ ফিরে গিয়েছিলেন চণ্ডীগড়ে তাঁদের পুরনো আস্তানায়। বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যে সিমেন্টের পিচ বানিয়ে, ফ্লাডলাইট বসিয়ে, ছেলেকে বাউন্সার দিতেন যোগরাজ। ভয় পেয়েছিলেন যুবরাজের মা শবনম। ছেলে যদি আঘাত পেয়ে যায়! ক্রুদ্ধ যোগরাজ স্ত্রীকে বলেছিলেন, ‘আর কোনওদিন আমাদের দুজনের মধ্যে নাক গলাবে না।’ খুদেকে এত কড়া প্রশিক্ষণ দেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন যুবরাজের ঠাকুমাও। যোগরাজের জেদের সামনে ধোপে টেকেনি। বন্ধুদের সঙ্গে ছেলের সময় কাটানোয় আপত্তি ছিল যোগরাজের। পেস অ্যাকাডেমির বোলারদের নিয়ে এসে ছেলেকে বাউন্সার করার নির্দেশ দিতেন তিনি। ছেলে হেলমেটের সুরক্ষা চাইলে ধমক দিতেন, ‘স্যার ভিভ রিচার্ডস কখনও হেলমেট পড়েছেন?’ যুবরাজ ভিডিওতে বলেছেন, ‘স্কেটিং করতে ভালবাসতাম। স্কেটিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সোনা জিতেছিলাম। বাবা সেই পদক আর স্কেটিং শু ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। খুব কষ্ট পেয়েছিলাম।’ যোগরাজের স্বীকারোক্তি, ‘যুবিকে টেনিস খেলালে ও বড় টেনিস প্লেয়ার হত। স্কেটিং করালে সফল হত। তবে আমি ওর সমস্ত প্রাণশক্তি ক্রিকেটে খরচ করতে চেয়েছিলাম। যে চারাটা রোপণ করেছিলাম, পরবর্তীতে সেটাই বৃক্ষে রূপান্তরিত হয়।’ বাবার কড়া অনুশাসনের মধ্যে যুবরাজের জন্য স্বস্তি ছিল মা শবনমের প্রশয়। ছেলের সাফল্য নিয়ে কুসংস্কারও কাজ করত শবনমের মধ্যে। যুবরাজ ব্যাটিং করলে দেখতেন না। প্রার্থনা করতেন ঈশ্বরের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে। ভিডিওতে উঠে এসেছে ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার পরের মানসিক যন্ত্রণা আর অসম যুদ্ধে জয়ের রসায়নও। যুবরাজ বলছেন, ‘একটা রোগের কাছে হেরে যাব, কোনওদিন বিশ্বাসই করিনি। সেই মনের জোরই সুস্থ হতে সাহায্য করেছে।’ যুবরাজ জানিয়েছেন, ক্রিকেট তাঁর কাছে রোলার-কোস্টার রাইড ছিল। যার প্রত্যেক মুহূর্ত উপভোগ করেছেন। তবে একদিন থামতে তো হয়ই। সেই নিয়ম মেনেই তাঁর ক্রিকেট শু তুলে রাখার সিদ্ধান্ত। আরও পড়ুন

ড: সুভাষ সরকারড: সুভাষ সরকার
Opinion




















