'ফেসবুকে পাকিস্তানি তা*লিবানের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রতিশোধস্পৃহা চরমে' ! বেঙ্গালুরুতে পুলিশের জালে বাংলার যুবক
পাকিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভের কথা জানায় সে। তার মতে, পাকিস্তানে মুসলিমদের উপর অত্যাচার চলছে।

বেঙ্গালুরু: স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে কোচবিহারের সাহেবগঞ্জে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল ৩ সন্দেহভাজনকে, অন্যদিকে বেঙ্গালুরুতে সন্দেহজনক অনলাইন কার্যকলাপ এবং জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে ধরা পড়ল পশ্চিমবঙ্গের এক যুবক। বেঙ্গালুরুর জিগানি এলাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গের ২৫ বছরের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
অভিযোগ, ওই যুবক তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। উদ্দেশ্য ছিল সংগঠনে যোগ দেওয়া। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উপর তার রাগ ছিল। আবার টার্গেট ছিল ভারতও। ধৃত যুবকের নাম আসফুল মালিক। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার নওপাড়া গ্রাম থেকেই কাজের সূত্রে বেঙ্গালুরুতে যাওয়া। তারপর TTP র সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা।
বেঙ্গালুরুর জিগানির APC সার্কেলের কাছে থাকত সে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে জিগানি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় টাটা অ্যাডভান্সড লিমিটেডে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করছিল সে। পুলিশের দাবি,পুলিশ সেই এলাকায় টহল দেওয়ার সময় আসফুলের সন্দেহজনক কার্যকলাপ নজরে আসে। এরপর পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই পাকিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভের কথা জানায় সে। তার মতে, পাকিস্তানে মুসলিমদের উপর অত্যাচার চলছে। মসজিদ ও সাধারণ নাগরিকদের উপর হামলা করা হচ্ছে। পাক সেনার উপর ক্ষোভ উগরে দেয় সে। সেই সঙ্গে ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাত নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষকাশ করে সে। পুলিশের দাবি, এমন কোনও চক্রের সঙ্গে সে জড়িয়ে পড়েছিল, যারা তাকে ভারতেও মুসলিমদের পরিস্থিতি সম্পর্কে উস্কানি দিচ্ছিল।
ফেসবুকের মাধ্যমে আফগানিস্তানের ইমরান হায়দার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে রীতিমতো যোগাযোগ ছিল আসফুলের। ওই ব্যক্তি তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা TTP-র সঙ্গে যুক্ত বলে পুলিশের সন্দেহ। আসফুল নাকি ইমরান হায়দারের সাহায্য নিয়েই আফগানিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। ভিসার আবেদন পর্যন্ত করে ফেলেছিল। কিন্তু শেষমেষ পরিবারের দায়িত্বের কথা মাথায় রেখে সে আফগানিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করে। তার মোবাইল ফোনের বেশ কিছু চ্যাট, একাধিক ভয়েস কল এবং অডিও চ্যাট এখন পুলিশের নজরে। প্রতিটি নথি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে দিনহাটার সাহেবগঞ্জ থেকে ধরা পড়েছে ৩ জন। পাক-গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিল অভিযুক্তরা, দাবি রাজ্য পুলিশের STF-এর। অভিযোগ, মোবাইলের ভারতীয় সিম কার্ড বাংলাদেশ হয়ে পাকিস্তানে পাচার করত ধৃতরা। জাল নোট তৈরি চক্রর সঙ্গেও জড়িত ছিল ধৃত ৩ জন, দাবি রাজ্য পুলিশের STF-এর ।
আরও পড়ুন : বজ্র ও বন্দেমাতরম, স্বাধীনতার বহু বছর আগেই ভারতের জাতীয় পতাকার নকশা ভগিনী নিবেদিতার হাতে























