Independence Day : বজ্র ও বন্দেমাতরম, স্বাধীনতার বহু বছর আগেই ভারতের জাতীয় পতাকার নকশা ভগিনী নিবেদিতার হাতে
ভগিনী নিবেদিতা ১৯০৪ সালে ভারতের প্রথম জাতীয় পতাকার নকশা তৈরি করেছিলেন। এই পতাকাটি 'নিবেদিতার বজ্র পতাকা' নামেও পরিচিত।

কলকাতা : ভগিনী নিবেদিতা । জন্মভূমি তাঁর আয়ারল্যান্ড। কিন্তু এই আইরিশ দুহিতার ভারতমাতাকে মায়ের আসনে বসিয়েছিলেন। শিক্ষাব্রতী মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল ভারতে এসে স্বামী বিবেকানন্দের দেখানো পথে এদেশের মেয়েদের উন্নতি সাধনে নিজেকে সমর্পণ করেছিলেন। সেই সঙ্গে মনে-প্রাণে নিবেদিত হয়েছিলেন ভারতবর্ষের স্বাধীনতার স্বপ্নে। ব্রিটিশ সরকারের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন। অনুশীলন সমিতির সঙ্গে ছিল তাঁর যোগাযোগ। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন ছিল ভগিনী নিবেদিতার। তিনি স্বামী বিবেকানন্দের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে নিবেদিত হয়েছিলেন ভারতে শিক্ষা প্রসারে । সেই ভগিনী নিবেদিতার হাতেই তৈরি হয়েছিল স্বাধীন ভারতের পতাকার নকশা। ১৯০৪ সালে। যদিও এখনকার তিরঙ্গা পতাকার সঙ্গে তার মিল নেই। ভগিনী নিবেদিতার ভাবনায়, এই বজ্র নারী শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মনির্ভরতার প্রতীক। বজ্র আত্মত্যাগ, শক্তি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক।
ভগিনী নিবেদিতা ভারতের পতাকায় ত্যাগের প্রতীক-চিহ্নরূপে রেখেছিলেন দধীচি মুনির বজ্রের ছবি। লাল ব্যাকড্রপে কালো দিয়ে এঁকে ছিলেন সেই বজ্রের ছবি। পরে তিনি মনে করেছিলেন জাতীয় পতাকায় কালো রং হয়ত ভারতীয়দের ভাল নাও লাগতে পারে। তাই পরবর্তীতে লাল ব্যাকড্রপে আঁকেন হলুদ বজ্র। এই পতাকার নকশার কথা তিনি নাকি জানিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ, জগদীশ চন্দ্র বসু, তার স্ত্রী অবলা বসুকেও। জানতেন তাঁর পরম সুহৃদ সিস্টার ক্রিস্টিনও। তাঁর পতাকায় বজ্র চিহ্নের সঙ্গে লেখা ছিল ‘বন্দেমাতরম‘। পরে অবশ্য ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকাই ভারতের জাতীয় পতাকা হিসেবে গৃহীত হয়।
আসলে সিস্টার চাইতেন, ভারতের মানুষের শক্তি হোক বজ্র কঠিন। কারণ বজ্র চিহ্নকে তিনি শক্তি, বিপ্লব, আন্দোলনের প্রতীক মনে করতেন। আসলে পুরাণ বলে, দেবতারা দধীচি মুনির অস্থি দিয়ে তৈরি বজ্র দিয়েই বধ করেছিলেন বৃত্রাসুরকে। নিবেদিতা তাই তিনি চেয়েছিলেন, স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকায় যেন থাকে বজ্রচিহ্ন। ভারতের জাতীয় পতাকায় না থাকলেও, এখনও তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয় রামকৃষ্ণ সারদা মিশন সিস্টার নিবেদিতা স্কুলের ব্যাজে জ্বলজ্বল করে বজ্র চিহ্ন। সিস্টার বরাবরই চেয়ে এসেছেন তাঁর বিদ্যালয়ে শিক্ষাপ্রাপ্তরা ও ভারতীয় নারীর চরিত্র ও শক্তি হোক বজ্র কঠিন, দৃঢ়, দৃপ্ত। রামকৃষ্ণ সারদা মিশন সিস্টার নিবেদিতা হেরিটেজ নলেজ সেন্টারের গ্যালারিতে এখনও শোভিত সেই পতাকা।
সেরা শিরোনাম






















