ISRO News: নামমাত্র দামে বিক্রি হচ্ছে ইসরোর প্রযুক্তি, লাভবান হচ্ছে বেসরকারি সংস্থা! সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে উদ্বেগ
ISRO Space Technology Being Sold: ওই সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে ISRO-র মহাকাশ প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

নয়াদিল্লি: কম বাজেটে মহাকাশ অভিযানে একের পর এক নজির। সেই ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO-র প্রযুক্তি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ। নামমাত্র দামে কিছু বেসরকারি সংস্থাকে ISRO-র প্রযুক্তি বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে বলে এবার উদ্বেগ প্রকাশ করল সংসদেরই কমিটি। মাত্র ৬০০০ টাকাতেও ISRO-র প্রযুক্তি বিক্রি করা হয়েছে বলে রিপোর্ট দিল তারা। (ISRO Space Technology Being Sold)
ওই সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে ISRO-র মহাকাশ প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক ভাবে ওই সব প্রযুক্তির যে মূল্য হওয়া উচিত, তার চেয়ে নামমাত্র দামে বেসরকারি সংস্থাগুলির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ৬০০০ টাকার বিনিময়েও প্রযুক্তি হস্তান্তরিত করা হয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে ফি নেওয়াই হয়নি। ISRO-র প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে হলে তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে চুক্তির খুঁটিনাটি পরখ করে দেখার পরামর্শ দিয়েছে সংসদের ওই কমিটি। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট সময় অন্তর অডিটও করতে বলা হয়েছে। (ISRO News)
মহাকাশ অভিযানের খরচ নির্বাহের ক্ষেত্রে দেরি হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে রিপোর্টে। বলা হয়েছে, ‘চন্দ্রযান-৪’, ‘চন্দ্রযান-৫’, ‘শুক্র পরিক্রমা’র মতো গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ অভিযানের জন্য পৃথক বাজেট থাকে। কিন্তু সেই টাকা ছাড়তে দেরি হয়েছে অসম্ভব। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দেওয়া হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রস্তাবিত অভিযানগুলি সম্পন্ন করা দুষ্কর হয়ে উঠতে পারে।
মহাকাশ প্রযুক্তি, পরিবেশ, অরণ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংসদের যে স্থায়ী কমিটি রয়েছে,তাদের অধি দফতরের তরফে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিজেপি-র ভুবনেশ্বরের সাংসদ ভুবনেশ্বর কলিটা নেতৃত্বাধীন কমিটি গত সপ্তাহে সংসদে ওই রিপোর্ট পেশ করে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বেসরকারি সংস্থার হাতে নামমাত্র মূল্যে মহাকাশ প্রযুক্তি তুলে দেওয়া হচ্ছে। এতে বেসরকারি সংস্থাগুলি লাভবান হচ্ছে, তাদের মুনাফা অর্জনের সুযোগ বাড়ছে, কিন্তু ওই প্রযুক্তি যাদের সৃষ্টি, তারা কিছু পাচ্ছে না। স্বল্পমূল্যে প্রযুক্তির হস্তান্তরণ ঘটলেও, তা যোগ্যদের হাতে পৌঁছচ্ছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ ধরা পড়েছে রিপোর্টে।
কী কী প্রযুক্তি বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, তা থেকে কত টাকা পাওয়া গিয়েছে, সেই সংক্রান্ত বিশদ তথ্য চাওয়া হয়েছিল মহাকাশ বিভাগের কাছ থেকে। তাতে যে জবাব আসে, তা হল, ISRO-র তৈরি মোট ৬১টি প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে ১০০টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে ভারতীয় শিল্পমহলের সঙ্গে। আর তাতেই দেখা গিয়েছে, কিছু প্রযুক্তি মাত্র ৬০০০ টাকায় হস্তান্তরিত হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে কোনও ফি-ই নেওয়া হয়নি। NewSpace India Limited অত্যন্ত কম দামে একটি সেকেন্ড জেনারেশন ডিসট্রেস অ্যালার্ট ট্রান্সমিটার (DAT) হস্তান্তরিত করেছে। জরুরি পরিস্থিতিতে, ছোট নৌকা থেকে বার্তা পাঠাতে মূলত মৎস্যজীবীরা ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করতেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সামাজিক কল্যাণের প্রশ্ন জড়িয়ে যেহেতু ওই প্রযুক্তির জন্য প্রায় কোনও টাকাই নেওয়া হয়নি। ফার্স্ট জেনারেশনের DAT যাঁদের হাতে রয়েছে, তাঁদেরই দেওয়া হয়েছে।
মহাকাশ অভিযানের জন্য বরাদ্দ টাকা দিতে দেরি হওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। দেখা গিয়েছে, ‘চন্দ্রযান-৪’ অভিযানের জন্য ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তা কমিয়ে ২১ কোটি টাকা করে দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৩৪.৬০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। ‘চন্দ্রযান-৫’ প্রকল্পের জন্য় ২০২৫-’২৬ সালে ২ কোটি বরাদ্দ করা হলেও, পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ১৪ কোটি করা হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত খরচ হয়েছে মোটে ৫৮ লক্ষ টাকা। একই ভাবে ‘শুক্র পরিক্রমা’র জন্য ২০২৪-’২৫ সালে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও, পরবর্তীতে তা ২.১০ কোটি টাকা করা হয়। তবে এ বছর কোনও টাকা খরচ হয়নি ওই সময়ের মধ্যে। ২০২৫-’২৬ বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫০ কোটির বরাদ্দ কমিয়ে ২৯.৫০ কোটি করা হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৫.১২ কোটি টাকাই খরচ হয়েছে। এভাবে চললে লক্ষ্যপূরণ দুষ্কর হয়ে উঠবে বলে মনে করছে ওই সংসদীয় কমিটি।
Modi Hai To Mumkin Hai 👇
— Congress (@INCIndia) March 29, 2026
ISRO Tech Handed to Private Firms for Pennies pic.twitter.com/W5mSP7OU9C
আর বিষয়টি সামনে আসতেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে কংগ্রেস। দলের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে লেখা হয়, ‘মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়। নামমাত্র মূল্যে ইসরোর প্রযুক্তি বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে’।























