Jadavpur University: যাদবপুরে কেন এত অশান্তি ? কোর্টের রায়ের পরেও কেন ক্যাম্পাসে বসেনি পুলিশ চৌকি ? এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য
JU VC Chiranjeeb On Jadavpur University Violence: যাদবপুরকাণ্ডের পর এবিপি আনন্দ-র মুখোমুখি বিশ্ববিদ্যায়লয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য

কলকাতা: যাদবপুরকাণ্ডের পর ABVP-র মিছিল ঘিরে তুলকালাম। এহেন পরিস্থিতিতে, এবিপি আনন্দ-কে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার দিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য।
এবিপি আনন্দ: এত অশান্তি কেন যাদবপুরে ?
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য : ক্যাম্পাসে শান্তি বজায় রাখাটা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। এবং যাদবপুর ইউনিভারসিটি অনেক ভাল কাজ করছে। সেটা অ্যাকাডেমিক্যালি হোকস ইনকিউবিশনে আমরা অনেক ভাল কাজ করছি। কিন্তু সেগুলি কোনও ভাল রিজনের হেডলাইনে না এসে, যদি রং রিজনে যাদবপুর ইউনিভার্সিটি হেডলাইনে আসে, সেটা কিন্তু কখনই কাম্য নয়। কালকে যে ঘটনাটা ঘটেছে, আমি তার তীব্র নিন্দা করছি। কে বা কারা দোষী, তাতে আমি যাচ্ছি না। সেটা হচ্ছে, এনকোয়ারি কমিটি আমরা যখন করব, তারা সেটা দেখবে।
এবিপি আনন্দ: করছেন সেটা ?
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য : সেটা.. আমার ইচ্ছে আছে, একটা এনকোয়ারি কমিটি করার। তাঁরা সেটা দেখবেন। এখানে সমস্ত ক্যামেরা ফুটেজও আছে। কারণ এখন এখানে আমাদের চারিদিকে, সিসিটিভি রয়েছে।
এবিপি আনন্দ: পুলিশ চৌকি বসানোর কথা ছিল, সেটা তো বসেনি ?..
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য : সেটা বসেনি, কারণ আমাদের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আমাদের যে সংষ্কৃতি, যে ক্যাম্পাসে পুলিশ থাকবে না, ফলে সেই সংষ্কৃতিটা আমরা মেনটেন করতে চেয়েছিলাম। সর্বপক্ষেরই..সকল মতালম্বী যারা রয়েছেন, তাঁদের সকলেরই এই মত ছিল, যে ক্যাম্পাসে সবসময় ২৪ ইনটু সেভেন পুলিশ থাকা উচিত নয়। যদিও কোর্টের রায় ছিল। ..কোর্টের রায়ে দুটো পার্ট ছিল, একটা হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা ইনস্টলেশন অ্যাক্রস দ্য ক্যাম্পাস এবং আরেকটি হচ্ছে ২৪ ইনটু সেভেন পুলিশ আউট পোস্ট। আমরা ফাস্ট পার্টটা করেছি। এখানে সর্বোত্র এখন সিসি ক্যামেরা রয়েছে। কিন্তু আমরা পুলিশ আউট পোস্টটা করিনি। আমরা তাঁর কারণটাও জানিয়েছিলাম কোর্টে, যে এই কারণে, আমরা করছি না। কারণ আমরা মনে করি যে, ক্যাম্পাসে সবসনয় পুলিশ থাকা, বাঞ্চনীয় নয়।
এবিপি আনন্দ: কিন্তু কালকে (পুলিশ) থাকলে এই সমস্যা মেটানো যেত ..
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য : হয়তো সেটা ভাল হত। হয়তো সেটা খারাপ হতো। কিন্তু সেটা এগজ্যাক্টলি বলাটা খুব মুশকিল যে, মানে কী হত আরকী..কী হলে কী হত, সেটা তো এখন আর বলা সম্ভব না। তবে হয়তো হ্যাঁ, পুলিশ থাকলে নিশ্চয়ই ভাল হত।
এবিপি আনন্দ: গতকাল যে ঘটনাটা দেখলাম, হাতে লাঠি নিয়ে ভাঙচুর পতাকা পোড়ানো, তারপর দুই দলের মধ্যে বচসা, সংঘর্ষ, কেউ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে…এইটা হচ্ছে কেন বারবার ?
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য : দেখুন এখানে আমরা আগেও বলেছি, আমাদের ডিফারেন্ট আইডিওলজি সবসময় থাকে। পলিটিক্যাল আইডিওলজি। কাল যে ঘটনাটা ঘটেছে, কোনও দিকেই কোনও চেকপয়েন্ট ছিল না। আমার অ্যাপারেন্টলি মনে হয়েছে। তবে ঘটনাটায় মূল দোষী কারা, কে ঘটনাটা শুরু করেছে, কাদের প্রোভোকেশনে হয়েছে, এই গোটা ঘটনাটাই এনকোয়ারি করলে জানা যাবে।
এবিপি আনন্দ: রাজ্য পুলিশ-সেনাবিহানীর অবসরপ্রাপ্ত যারা এখানে গেটে আছেন, এবং তারপরেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কোথায় ?
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকে আমি টপমোস্ট প্রায়োরিটি দেব। তার জন্য যদি ক্যাম্পাসে ২৪ ইনটু সেভেন পুলিশ আউট পোস্ট করতে হয়, তাহলে নিশ্চয়ই সেটা থাকবে। কিন্তু আমাদের হচ্ছে এখানকার ছাত্রছাত্রী যারা রয়েছে, সবথেকে বড় কথা, যারা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ স্টেক হোল্ডার, তাঁদের সিকিউরিটি, তাঁদের নিরাপত্তা কিন্তু সবথেকে অগ্রাধিকার পাবে। আজকে এই যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রতিটি ক্লজ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও কিন্তু অ্যাপলিকেবল। যাদবপুর ইউনিভার্সিটি আইনের উর্ধ্বে নয়। ফলে এখানে যারা থাকবে, তাঁদের সবাইকে আইনশৃঙ্খলা মেনে চলছে হবে। এই বিষয়েও কিন্তু আমার স্ট্রিক্ট ওপিনিয়ন রয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের আমরা একটা এনকোয়ারি কমিটি করব। আমার ইচ্ছে আছে। এবং সেই এনকোয়ারি কমিটি নিজেরা, অ্যাকচুয়ালি তদন্ত করে, সিসিটিভি সমস্ত দেখে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবে।
এবিপি আনন্দ: সরকার বা রাজভবনে আচার্যকে জানিয়েছেন বিষয়টা ?
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য : এখনও অফিসিয়ালি কিছু জানানো হয়নি।
এবিপি আনন্দ: জানাবেন ?
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য : নিশ্চয়ই জানাবো। দেখা যাক, সেটা আচার্যকে জানাতে পারি, সরকারকেও জানাতে পারি।
এবিপি আনন্দ: কী জানাবেন ?
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য : যে ঘটনাটা ঘটেছে, একটা তো রিপোর্ট অন্তত পাঠানো উচিত। নিশ্চয় পাঠাবো সেটা।
Before You Go
Blood Bank Scam: কোনওরকম অনিয়ম করা যাবে না, এক ডজন শর্তে দিতে হবে মুচলেকা





















