Noida Car Accident: 'ও বারবার বলছিল বাবা আমায় বাঁচাও'... রাজকুমারের কানে এখনও ভাসছে ছেলের বলা শেষ কথাগুলো
Noida Techie Died: 'ওকে বাঁচানোর জন্য আমার ক্ষমতায় যা যা আছে সব করেছিলাম। সব জায়গায় দৌড়ে বেড়াচ্ছিলাম যদি কেউ একটু সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। কিন্তু লাভ হয়নি। ও বারবার বলছিল বাবা আমায় বাঁচাও।'

Noida Car Accident: চোখের সামনেই ছেলের মৃত্যু দেখতে হয়েছে রাজকুমার মেহতাকে। এখনও তাঁর কানে লেগে ছেলের শেষবার বলা কথাগুলো। ক্ষণে ক্ষণে মধ্য বয়সের রাজকুমার মেহতা বলে উঠছেন, 'হাতজোড় করে ও বারবার বলছিল, বাবা আমায় বাঁচাও।' ছেলেকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন বাবা। কিন্তু ভাগ্যের এমনই পরিহাস যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অনেক আগেই মৃত্যু হয়েছিল ২৭ বছরের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতার।
যুবরাজ বিহারের সিতামারির বাসিন্দা। গুরুগ্রামের একটি সংস্থায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। ২ বছর আগে মাকে হারিয়েছিলেন যুবরাজ। এক দিদি রয়েছে তাঁর। তিনি থাকেন যুক্তরাজ্যে। যুবরাজের বাবা রাজকুমার জানিয়েছেন, কেরিয়ারের প্রতি একনিষ্ঠ ছিলেন তাঁর ছেলে। কাজ করতেন মন দিয়ে। পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ছেলের থেকে ফোন এবং মেসেজ পান রাজকুমার মেহতা। যুবরাজ জানান তাঁর গাড়ি একটি গভীর কুয়োতে পড়ে গিয়েছে। ছেলের থেকে এ হেন খবর পেয়েই ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হন রাজকুমার। খবর দেন পুলিশ এবং দমকলেও। ১৫ মিনিটের মধ্যে চলে আসে তারাও। রাজকুমার মেহতার অভিযোগ, তাদের কাছে তাঁর ছেলেকে বাঁচানোর জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা ছিল না।
ঘটনাস্থলে গিয়ে রাজকুমার দেখতে পান তাঁর ছেলে যুবরাজ গাড়ির ছাদে আটকে রয়েছেন। মধ্যরাত থেকে রাত ২টো পর্যন্ত গাড়ির ছাদেই দাঁড়িয়ে ছিলেন যুবরাজ। পায়ের ব্যালান্স করার চেষ্টা করছিলেন তিনি যাতে গাড়ি ডুবে না যায়। হাতে ফোন নিয়ে ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে রেখেছিলেন যুবরাজ। কারণ তিনি যেখানে আটকে ছিলেন সেখানে ছিল ঘন কুয়াশার আস্তরণ। যুবরাজের উপস্থিতি যাতে বাকিরা টের পায়, সেই জন্যি ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে রেখেছিলেন তিনি।
ছেলেক হারিয়ে শোকে বিহ্বল রাজকুমার মেহতা। তিনি জানিয়েছেন, যুবরাজকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার অনেক আগেই মারা গিয়েছিলেন যুবরাজ। রাজকুমারের কথায়, 'ওকে বাঁচানোর জন্য আমার ক্ষমতায় যা যা আছে সব করেছিলাম। সব জায়গায় দৌড়ে বেড়াচ্ছিলাম যদি কেউ একটু সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। কিন্তু লাভ হয়নি। শেষ মুহূর্তটায় ও বারবার বলছিল বাবা আমায় বাঁচাও।'
এক ডেলিভারি এজেন্টও যুবরাজকে বাঁচানোর জন্য কোমরে দড়ি বেঁধে ঝাঁপ দিয়েছিলেন ওই গভীর কুয়োতে। কিন্তু আপ্রাণ চেষ্টা করেও যুবরাজকে বাঁচাতে পারেননি ই-কমার্স সংস্থার ডেলিভারি এজেন্ট মনিন্দর।






















