US-Israel Attack Iran: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেবে পাকিস্তান! সৌদিতে মোতায়েন করা হল সেনা, ক্ষেপণাস্ত্র, কী করবে ভারত?
Pakistan in Iran War: সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণে নিষেধ করেছেন।

নয়াদিল্লি: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে পারে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের তরফে এবার এমনই ইঙ্গিত মিলল। সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিকে সামেন রেখেই এমন ভাবনা বলে জানা যাচ্ছে। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার জানিয়েছেন, ইরানকে ইতিমধ্যে সতর্কও করেছেন তাঁরা। সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণে নিষেধ করেছেন। (Pakistan in Iran War)
পশ্চিম এশিয়া যখন যুদ্ধের আঁচে তপ্ত, সেই সময় মুখ খুলেছেন ইশাক। তাঁর বক্তব্য, "আমি ওদের (ইরানকে) বুঝিয়েছি, আমাদের পৃথক চুক্তি রয়েছে।" সৌদির সঙ্গে সামরিক চুক্তি যে ইরানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, তা নিয়ে এই প্রথম প্রকাশ্যে মন্তব্য করলেন পাকিস্তানের কোনও আধিকারিক। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলিতে আমেরিকার ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণ করে চলেছে ইরান। এবার সেই যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিল পাকিস্তান। (US-Israel Attack Iran)
শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই সৌদি আরবে সেনা পাঠিয়েছে পাকিস্তান। নিজেদের অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও তুলে দিয়েছে রিয়াধের হাতে। পাকিস্তানি বায়ুসেনার LY-80, FM-90, Anja সিরিজের স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের ক্ষেপণাস্ত্র নিয়েও প্রস্তুত রয়েছে পাক বায়ুসেনা। সৌদি আরবের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে তারা। পাকিস্তানের প্রাক্তন সেনাপ্রধান, জেনারেল রাহিল শরিফ সবকিছুর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। ৪৩টি দেশকে নিয়ে গঠিত ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেররিজম কোয়ালিশনের দায়িত্বেও রয়েছেন জেনারেল রাহিল।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ১মার্চই পাকিস্তানি বায়ুসেনার দু'টি IL-78MP এয়ার ট্যাঙ্কার, রসদ পরিবাহী বিমান, R11-003, R09-001 নুর খান বায়ুসেনাঘাঁটি থেকে করাচি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে রিয়াধে সেনা, প্রযুক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম পৌঁছচ্ছে বলে খবর। এতে আরব সাগরের উপরও পাকিস্তানের আনাগোনা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। JF-17 যুদ্ধবিমানও নামাতে পারে পাকিস্তান। সৌদির প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমেনর সঙ্গে গত ২৮ ফেব্রুয়ারিই কথা হয় প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের। সৌদি আরবকে সবরকম ভাবে সাহায্য়ের আশ্বাস দেন তিনি।
সৌদি আরবে বেছে বেছে বেছে আমেরিকার ঘাঁটি, দূতাবাসকেই নিশানা করেছে ইরান, তার জন্য নিজেদেরই কৃতিত্ব দিয়েছে পাকিস্তান। তাদের দাবি, পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদির সামরিক চুক্তি রয়েছে জেনেই সেখানে জোরাল আক্রমণ চালায়নি ইরান। ইশাক বলেন, "অন্য দেশের তুলনায় সৌদিতে কম হামলা হয়েছে।" শুধু তাই নয়, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে সৌদির মাটি যাতে ব্যবহার করা না হয়, তেহরানের তরফে সেই দাবি জানানো হয় বলেও দাবি ইশাকের। তাঁর বক্তব্য়, "ওরা (ইরান) আশ্বাস চেয়েছিল যাতে ইরানের বিরুদ্ধে সৌদির মাটি ব্যবহৃত না হয়।"
পহেলগাঁও জঙ্গি হামলাকে ঘিরে গত বছর যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয় ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে। পাশাপাশি, সেপ্টেম্বর মাসে কাতারে বোমাবর্ষণ করে ইজ়রায়েল। এর পর পরই পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের মধ্যে বিশেষ সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ঠিক হয় যে, সৌদি আরব বা পাকিস্তান, যে দেশেরই উপরই আক্রমণ নেমে আসুক না কেন, তা অন্য দেশটির উপরও হামলা হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ এক দেশের উপর হামলা হলে, মোকাবিলায় অবতীর্ণ হবে অন্য দেশটিও। একজনের শত্রুকে অন্য় জনও শত্রু হিসেবেই গণ্য করবে। পাকিস্তান একটি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র। সামরিক চুক্তির আওতায়, তাদের সেই পরমাণু শক্তিও সৌদি আরব ব্যবহার করতে পারবে বলে ঠিক হয় চুক্তিতে।
সৌদি আরবের সঙ্গে বরাবরই সুসম্পর্ক ভারতের। সেই সৌদির সঙ্গে পাকিস্তানের চুক্তিতে দিল্লিতে অস্বস্তি তৈরি হয়। এখন আবার শরিক হিসেবে সৌদির পাশে দাঁড়াতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিল পাকিস্তান। ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট ভাবে কোনও অবস্থান জানায়নি ভারত। ইরানের এবং ভারত দশকের পর দশক পরস্পরের সহযোগী দেশ হিসেবে কাজ করেছে। বিপদে আপদে পরস্পরের পাশে থেকেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানোর পক্ষে বার্তা দিলেও, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যেভাবে ইরান আক্রমণ করেছে, আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যা করেছে, তার নিন্দা করেনি ভারত। এ নিয়ে দেশের অন্দরেই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে। আর সেই আবহেই ইরানকে নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দিল পাকিস্তান।
























