Election Commission: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে প্রস্তাব! আর কী দাবি বিরোধীদের?
সূত্রের খবর, সংসদের দুই কক্ষেই জমা পড়েছে এই প্রস্তাব। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আনা এই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে অন্তত ১৯৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর জোগাড় হয়েছে

পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ থেকে ভোটাধিকারে বঞ্চনা, অসাংবিধানিকভাবে SIR প্রক্রিয়া পরিচালনা সহ একাধিক অভিযোগে এবার সংসদে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পেশ করলেন বিরোধী শিবিরের সাংসদেরা। যার নেতৃত্বে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস।
সূত্রের খবর, সংসদের দুই কক্ষেই জমা পড়েছে এই প্রস্তাব। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আনা এই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে অন্তত ১৯৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর জোগাড় হয়েছে। যার মধ্যে লোকসভার ১৩০ জন ও রাজ্যসভার ৬৩ জন সাংসদ সই করেছেন।
তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, 'SIR হয়েছে। তাতে অনেক লোকের নাম বাদ গেছে। CEC-কে অনেকবার বলা সত্ত্বেও, এটাকে CEC সংশোধন করেননি। এটাই আমাদের মূল অভিযোগ। CEC-র কাজ লোকের ভোটাধিকার দেওয়া। কিন্তু CEC লোকের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে।'
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'কোনও লাভ হবে না। ইমপিচমেন্ট আনতে গেলে যে সংখ্যা আনতে লাগে, সেই সংখ্যা বিরোধীদের হাতে নেই। অতএব, মাননীয় ওম বিড়লার বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন জানিয়েছে আর এখন কংগ্রেস তৃণমূল-কংগ্রেসকে সমর্থন জানাচ্ছে।'
সূত্রের খবর, CEC বা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মূলত ৭টি অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে এই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে। যার মধ্যে অন্যতম হল - বিহারে SIR প্রক্রিয়া পরিচালনার ধরন। প্রস্তাবে অভিযোগ করা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় বিহার সহ একাধিক রাজ্যে বহু বৈধ ভোটার তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অসাংবিধানিকভাবে SIR প্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন জ্ঞানেশ কুমার। এছাড়া CEC-র বিরুদ্ধে, রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও আনা হয়েছে। রাজ্যে SIR প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তৃণমূলের সংঘাত লেগেই আছে।
কখনও মুখ্যমন্ত্রী, কখনও অর্থমন্ত্রী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বারেবারে অপমানের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।
তৃণমূল কংগ্রেসের অর্থমন্ত্রী ও বিধায়ক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, 'আমি একজন মহিলা আমাকে বলছে ডোন্ট শাউট। তার মানেই তো বোঝা যাচ্ছে, মহিলাদের প্রতি শ্রদ্ধাটা নেই।'
সূত্রের খবর, শুক্রবার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আনা ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে, তাঁর বিরুদ্ধে বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণেরও অভিযোগ তোলা হয়েছে। এবং এই অভিযোগগুলির সমর্থনে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায় উদ্ধৃত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে তবে যে প্রশ্ন উঠছে তা হল CEC পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে কি আদৌ সরানো সম্ভব? ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল।
নিয়ম অনুযায়ী, ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিচারপতিকে যে কারণে ও যে পদ্ধতিতে অপসারণ করা যেতে পারে, ঠিক সেই একই পদ্ধতিতে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করা যায়।
যা মূলত, ১৯৬৮ সালের 'জাজেস এনকোয়ারি অ্যাক্ট' অনুযায়ী পরিচালিত হয়। সেক্ষেত্রে, প্রেসিডেন্ট বা রাষ্ট্রপতির অর্ডার ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে সরানো যায় না। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, এই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে লোকসভায় অন্তত ১০০ জন সাংসদ বা রাজ্যসভায় অন্তত ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষর থাকতে হয়। এরপর স্বাক্ষরিত প্রস্তাবটি লোকসভায় স্পিকার এবং রাজ্যসভায় চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হয়। স্পিকার বা চেয়ারম্যান চাইলে প্রস্তাবটি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।
প্রস্তাবটি গৃহীত হলে, সেক্ষেত্রে তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি যদি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছয় যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে অথবা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম, তবে সেই রিপোর্টটি যে কক্ষে প্রথম প্রস্তাব আনা হয়েছিল, সেখানে জমা করা হয়।
এরপর, সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনে ভোটাভুটি হয়ে তার ফলাফল রাষ্ট্রপতির কাছে যায়। এরপরই সিদ্ধান্ত নেন রাষ্ট্রপতি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষেত্রেও সেই একই নিয়ম প্রযোজ্য রয়েছে। এখন বিরোধীদের আনা ইমপিচমেন্টের ভবিষ্যত কী হয়, সেটাই দেখার।























