Madvi Hidma News: পালানোর চেষ্টা সফল হল না, পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু মাওবাদী নেতা মাড়বী হিডমার, জঙ্গল থেকে উদ্ধার স্ত্রীর দেহও
Madvi Hidma Killed: অন্ধ্রপ্রদেশের আল্লুরি সীতারামারাজু জেলায়, অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ় ও ওড়িশা, এই তিনরাজ্যের সংযোগস্থলের কাছে, মারেডুমিলী জঙ্গলে মঙ্গলবার সকালে মাওবাদী বিরোধী অভিযানে নামে পুলিশ।

নয়াদিল্লি: এনকাউন্টারে নিহত মাওবাদী নেতা মাড়বী হিডমা। অন্ধ্রপ্রদেশের জঙ্গলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছিল। আর তাতেই মৃত্যু হয়েছে অন্যতম শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার হিডমার। জঙ্গল থেকে ছ'জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে, যার মধ্যে হিডমার দেহ শনাক্ত করা গিয়েছে। এখনও এনকাউন্টার চলছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ বাহিনী। (Madvi Hidma Killed)
অন্ধ্রপ্রদেশের আল্লুরি সীতারামারাজু জেলায়, অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ় ও ওড়িশা, এই তিনরাজ্যের সংযোগস্থলের কাছে, মারেডুমিলী জঙ্গলে মঙ্গলবার সকালে মাওবাদী বিরোধী অভিযানে নামে পুলিশ। সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে দু'পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় চলাকালীনই হিডমা মারা যায় বলে জানা যাচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, হিডমা ওরফে সন্তোষ, তার স্ত্রী এবং আরও চার মাওবাদী ছত্তীসগঢ় থেকে পালানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু জঙ্গল ঘিরে ফেলে পুলিশ। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। (Madvi Hidma News)
৫১ বছর বয়সি হিডমা নকশালপন্থীদের মধ্যে অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার হিসেবে গণ্য হতো। পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, "গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অন্ধ্রপ্রদেশ গোয়েন্দা বিভাগের কাছে মাওবাদীদের গতিবিধি নিয়ে খবর আসছিল। অন্ধ্রপ্রদেশ-ছত্তীসগঢ় এবং ওড়িশা সীমানার দিকে তারা এগোচ্ছে বলে জানা যায়। সেই মতো অভিযানে নেমে সাফল্য পেলাম আমরা।"
মাওবাদীদের সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য হওয়ার পাশাপাশি, দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির নেতা ছিল হিডমা। কমপক্ষে ২৬টি সশস্ত্র হামলায় নেতৃত্ব দেয় সে, যাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য থেকে সাধারণ মানুষের প্রাণ যায়। সম্প্রতি মাল্লোজুলা বেণুগোপাল রাও ওরফে ভূপতি আত্মসমর্পণ করার পর থেকেই হিডমার উপর নজর ছিল পুলিশের। সেই সময় পুলিশকে বলতে শোনা যায়, "(হিডমা) ও সবচেয়ে বিপজ্জনক কমান্ডার। এবার ওঁর খোঁজে তল্লাশি চালাব।"
১৯৮১ সালে ছত্তীসগঢ়ের সুকমায় জন্ম হিডমার। পরবর্তীতে মধ্যপ্রদেশে চলে যায় সে। ব্যাটেলিয়ন অফ দ্য পিপল'স লিবারেশন গেরিলা আর্মি-কে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি, সেন্ট্রাল কমিটির কনিষ্ঠতম সদস্য হিসেবে উঠে আসে, যা কি না CPI মাওবাদী-র সিদ্ধান্তগ্রহণের সর্বোচ্চ সংগঠন। সেন্ট্রাল কমিটিতে বাস্তার অঞ্চলের একমাত্র উপজাতি প্রতিনিধিও ছিল সে। তার মাথার দাম রাখা হয়েছিল ৫০ লক্ষ টাকা। হিডমার স্ত্রী, রাজে ওরফে রাজাক্কাও এদিন এনকাউন্টারে মারা গিয়েছে বলে খবর।
একাধিক মাওবাদী হামলায় হিডমার নাম সামনে আসে। ২০১০ সালে দান্তেওয়াড়ায় যে হামলা হয়, যাতে ৭৬ জন CRPF জওয়ান প্রাণ হারান তার পরিকল্পনাতেও হিডমা যুক্ত ছিল বলে। ২০১৩ সালে ঝিরগ্রাম ঘাটিতে মাওবাদী হামলায় কংগ্রেস নেতা-সহ ২৭ জন মারা যান, তাতেও নাম উঠে আসে হিডমার। ২০২১ সালে সুকমা-বিজাপুরে মাওবাদী হামলায় ২২ জন সৈনিক প্রাণ হারান, যার চক্রীও ছিল হিডমা। এমনিতেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরতে হচ্ছে মাওবাদীদের। লোকজন দলে দলে আত্মসমর্পণের রাস্তাও বেছে নিচ্ছে আজকাল। তাই হিডমার মৃত্যুতে মাওবাদীরা জোর ধাক্কা খেল বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি একাধিক মাওবাদী নেতা আত্মসমর্পণ করেছে, সেই তালিকায় রয়েছে মাল্লোজুলা বেণুগোপাল রাও। নিজের অনুগামীদের অস্ত্র ফেলে মূলস্রোতে ফেরার ডাক দিয়েছে সে-ও। তার বার্তা ছিল, "সক্রিয় মাওবাদীদের হিংসার রাস্তা ছেড়ে আত্মসমর্পণ করা উচিত। মূলস্রোতে ফিরে মানুষের কাজ করতে হবে।" আর তার পরই এনকাউন্টারে মৃত্যু বল হিডমার।






















