ISRO Scientists Quit: ISRO ছাড়ছেন দলে দলে বিজ্ঞানীরা, ১০০-র বেশি পদত্যাগী, স্বেচ্ছাবসরও নিচ্ছেন অনেকে, এবার নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র
ISRO Mass Resignation: ISRO থেকে যে বিজ্ঞানীরা ইস্তফা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে হাই-প্রোফাইল নামও রয়েছে একাধিক। আর তাতেই নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র।

নয়াদিল্লি: মহাকাশে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতির মধ্যেই বড় ধাক্কা খেল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO. একজন বা দু’জন নন, ISRO ছাড়লেন ১০০-র বেশি বিজ্ঞানী। গত কয়েক মাসে ১০০-র বেশি বিজ্ঞানী ISRO থেকে পদত্যাগ করেছেন। আর তাতেই নড়েচড়ে বসল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। কেন্দ্রের মহাকাশ বিভাগ আরও কড়া বিধি বলবৎ করল, যাতে যখন ইচ্ছে চাইলেই পদত্যাগ করতে না পারেন বিজ্ঞানীরা, স্বেচ্ছাবসর নিতে না পারেন। (ISRO Mass Resignation)
দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া-র রিপোর্ট বলছে, গত কয়েক মাসে ১০০-১২০ জন বিজ্ঞানী ISRO ছেড়েছেন। ৮০ জন ইস্তফা দিয়েছেন বেঙ্গালুরুর U R Rao স্যাটেলাইট সেন্টার থেকে। তিরুঅনন্তপুরমের বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ২০ জন বিজ্ঞানী। খাতায় কলমে এই সংখ্যা আরও বেশি। আরও বেশ কয়েকজনের ইস্তফা জমা পড়ে গিয়েছে। এখনও অব্যাহতি দেওয়া হয়নি তাঁদের। (ISRO Scientists Quit)
ISRO থেকে যে বিজ্ঞানীরা ইস্তফা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে হাই-প্রোফাইল নামও রয়েছে একাধিক, যেমন, LVM3 প্রজেক্টের ডিরেক্টর ভিক্টর জোসেফ, SpaDeX প্রজেক্টের ডিরেক্টর আদিত্য রাল্লাপল্লি, ‘চন্দ্রযান ৩’ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। চাঁদের মাটিতে সফল ভাবে অবতরণ করে ‘চন্দ্রযান-৩’। এতজন বিজ্ঞানীর ইস্তফার খবরে সিলমোহর দিয়েছেন ISRO-র চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন। তবে এতে কাজকর্মে তেমন প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন তিনি।
দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভি নারায়ণন বলেন, “হ্যাঁ, অনেকেই চলে যান। তবে এটা প্রত্যেক সংস্থাতেই ঘটে। কাউকে ধরে রাখা নয়, বরং গুরত্বপূর্ণ অভিযানগুলি যাতে ধাক্কা না খায়, তা দেখাই কাজ আমাদের। একজন গেলে অন্য কেউ দায়িত্ব নেবেন। আমরা বিষয়টি দেখছি।” তবে তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও, সব যে ঠিক নেই তা বোঝা যাচ্ছে বিলক্ষণ। কারণ দলে দলে বিজ্ঞানীরা ইস্তফা দেওয়ায় কেন্দ্রের তরফে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়, যাতে বলা হয়, ‘গগনযান এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ‘A’ গ্রুপের বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তি কর্মীরা যেভাবে স্বেচ্ছাবসর এবং পদত্যাগের আবেদন জমা দিচ্ছেন, তাতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অভিযানগুলির উপর প্রভআব পড়তে পারে’।
চাইলেই যখন তখন যাতে স্বেচ্ছাবসর নিতে বা পদত্যাগ করতে না পারেন বিজ্ঞানীরা, তার জন্য কড়া বিধিও আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘গগনযান’ এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্ত কর্মীদের স্বেচ্ছাবসর এবং পদত্যাগের আবেদন ‘রুটিন ম্যাটার’ হিসেবে গৃহীত হবে না আর। অভিযান সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সেন্টার ডিরেক্টর এবং ইউনিট হেডরা ওই ধরনের আবেদন গ্রহণ করবেন না। ‘A’ গ্রুপের বিজ্ঞানী বা প্রযুক্তি কর্মী এবং নীচুস্তরের বিজ্ঞানী বা ইঞ্জিনিয়াররাও যদি ইস্তফা দিতে চান বা স্বেচ্ছাবসর নিতে চান, সেক্ষেত্রে সরাসরি মহাকাশ বিভাগের কাছেই পাঠাতে হবে আবেদন। সেন্টার ডিরেক্টররা এবং ইউনিট হেডরা নিজেদের মতামত জানাবেন সেখানেই।
আরও পড়ুন: বেহাত ভারতের পরমাণু তথ্য! গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ফাঁস World Leaks - এর, দাবি সংবাদ সংস্থার রিপোর্টে
২০২০ সালের নভেম্বর মাসে যে রদবদল ঘটানো হয়েছিল, তাতে সেন্টার ডিরেক্টর এবং ইউনিট হেডরাই পদত্যাগ বা স্বেচ্ছাবসরের আবেদন গ্রহণ করতে পারতেন। নয়া নিয়ম অনুযায়ী, তাঁদের সেই ক্ষমতা আর রইল না। বিশেষ করে অভিযান সম্পূর্ণ হওয়ার আগে। এখন থেকে সরাসরি মহাকাশ বিভাগই আবেদনগুলি পর্যালোচনা করে দেখবে।
ISRO-র মোট কর্মিসমখ্যা ১৪৬০০-র বেশি। ১০০ বা ১২০ জন ইস্তফা দিলে তেমন কোনও বড় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই যদিও। কিন্তু যাঁরা ইস্তফা দিয়েছেন বা দিচ্ছেন তাঁরা প্রায় সকলেই গুরুত্বপূর্ণ অভিযান এবং প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শূন্যপদ পূরণ করা গেলেও, অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীরা বেরিয়ে গেলে ‘গগনযান’, ‘চন্দ্রযান’ এবং ‘SpaDeX’-এর মতো অভিযানের উপর প্রভাব পড়তে পারে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ISRO থেকে প্রায় ৭০০ জন ইস্তফা দেন। বর্তমানে ১০৫০ শূন্যপদ পূরণের কাজ চলছে।
বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিকর্মীরা কেন ISRO ছাড়ছেন, তার কারণ নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। নিশ্চিত ভাবে কিছু জানা যায়নি এখনও পর্যন্ত। কবে হালফিলে এমন একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে যেখানে ISRO-র কর্মীদের বিকল্প রোজগারের রাস্তা বেছে নিতে দেখা গিয়েছে। এমনকি ISRO-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান এস সোমনাথও ISRO-র বেতনের কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। জানিয়েছিলেন, দেশের তাবড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছেলেমেয়েরা মহাকাশ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী। কিন্তু বেতনের অঙ্ক শুনেই মুখ ফিরিয়ে নেন তাঁরা। ISRO-র সর্বোচ্চ পদে থাকাকালীন তাঁর বেতনই ২.৫ লক্ষ টাকা। IIT-র ছেলেমেয়েরা বেসরকারি সংস্থায় কেরিয়ার শুরুই করেন ওই বেতনে। তাই মহাকাশ গবেষণায় আগ্রহ থাকলেও, বেতনের অঙ্ক শুনে মুখ ফিরিয়ে নেন প্রতিভাবান ছেলেমেয়েরা।





















